kalerkantho

তফসিলের প্রতিক্রিয়া তিন বিশেষজ্ঞের

তবু আশাবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



তবু আশাবাদ

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা পেছানোর দাবি করে আসছিল বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল। তবে ক্ষমতাসীন দল চাইছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত তফসিল ঘোষণা। এ হিসেবেই গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এর পরও আশাবাদী। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ কালের কণ্ঠকে নিজেদের মতো করে প্রতিক্রিয়া জানালেও তাঁদের বক্তব্যে ধরা পড়েছে আশাবাদ।

 

. তোফায়েল আহমদ

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যাঁরা অসহায় মানুষ তাঁরা সব সময়ই আশাবাদী। আর এ কারণে এখনো আশাবাদী যে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। তবে এটা নির্ভর করে ক্ষমতাবানদের সিদ্ধান্তের ওপর।’ তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে না, দেশের মানুষ দেখতেও চায় না। তবে সেটা নির্ভর করছে সরকার ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এককভাবে যদি সিদ্ধান্ত নেন যে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন তবে সেটা সম্ভব। এটা ছাড়া কোনোভাবেই দেশে অবাধ নির্বাচন হবে না। আর ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসবে কি না সেটা তারাই বলতে পারে। তারা যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে তো ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন হবে।

ড. তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আলো-আঁধারির খেলা চলছে। আমার মনে হয় উভয় পক্ষের রাজনৈতিক নেতারা যেটা মুখে বলছেন সেটা তাঁদের আসল কথা নয়। কেউই মুখ থেকে আসল কথা বের করছেন না। তাঁদের আসল কথা জানতে আমাদের আরো কমপক্ষে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।’

ড. তোফায়েল বলেন, ‘সরকার একদিকে টাইট দিচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে পাঠিয়ে দিল। আরেক দিকে ছাড় দেওয়ার রাস্তা রেখে দিয়েছে। যেমনটি প্রধানমন্ত্রী তাঁর সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছেন। এতে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ আছে। সব মিলিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট হতে আরো কয়েক দিন জাতিকে অপেক্ষা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তো আর ক্ষমতাবানদের মনের কথা জানি না। তাই তাঁদের সিদ্ধান্ত জানার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।’

 

আলী ইমাম মজুমদার

তফসিল ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব আলী ইমাম মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সংসদের মেয়াদ যখন আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রয়েছে, তখন নির্বাচন কমিশন কিছুদিন পরেও তফসিল ঘোষণা করতে পারত, ঘোষিত তফসিল কিছুটা সম্প্রসারিত হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাঁর ভাষণে সব রাজনৈতিক দলকে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। আমি নিজেও চাই এবার একটি সুষুম, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। তবে দ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে দাবি করে তিনি বলেন, এখনো সরকারবিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর গ্রেপ্তার-নির্যাতন চলছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের অনেক কিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেসব সুযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা সম্পর্কে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘প্রযুক্তি সম্পর্কে কারো নেতিবাচক ধারণা থাকা ঠিক না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সব নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার হয়। তবে এই প্রযুক্তি সম্পর্কে আগে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।’ বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, ডিসিরা যদি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন, তাহলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনে কোনো সফলতা আসবে না।

 

সৈয়দ আবুল মকসুদ

তফসিল ঘোষণা হলেও এখনো আলোচনার দরজা খোলা আছে বলে মনে করেন লেখক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি মনে করেন, বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে সংলাপের কারণে আগে যে দূরত্ব ছিল তা কমেছে। আরো আলাপের মাধ্যমে দূরত্ব কমানো সম্ভব। রাষ্ট্রের স্বার্থে দূরত্ব কমানোটাই সবার কাম্য।

গতকাল রাতে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বাধ্যবাধকতার কারণেই তফসিল ঘোষণা করেছে। আমি মনে করি, প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের সংলাপ হওয়ায় দূরত্ব কিছুটা কমেছে। মানুষের প্রত্যাশা ছিল দুই পক্ষই ছাড় দিয়ে সর্বসম্মতভাবে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে। কিন্তু সেটি হয়নি। কিন্তু হবে না সেটি বলা যাচ্ছে না। এখনো সরকার, নির্বাচন কমিশন, বিরোধী দল আলোচনার মধ্য দিয়ে সমঝোতায় আসতে পারে। তাতে সাংবিধানিক বাধা নেই। তফসিল রিসিডিউল করা কোনো সমস্যা না। আমি মনে করি, গণতন্ত্রের স্বার্থে সমঝোতার দরজা বন্ধ হয়নি। প্রধান বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব কমে গিয়েছিল। আশা করব সেই দূরত্ব আরো কমবে।’



মন্তব্য