kalerkantho

ভোট ২৩ ডিসেম্বর

বিশেষ প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভোট ২৩ ডিসেম্বর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। পূর্বনির্ধারিত সময়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ দফা (৩) উপদফা (ক) অনুযায়ী জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা করেন। নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য সরকারবিরোধী জোট ও দলগুলোর দাবি এবং নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার অনিশ্চয়তার মধ্যে এবার তফসিল ঘোষণা করা হলো। এর আগে ২০১৩ সালের ২ নভেম্বর প্রধান বিরোধী দল ও জোটের নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহত করার হুমকির মুখে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ নভেম্বর এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ নভেম্বর।

এ নিয়ে গত ৫ নভেম্বর কালের কণ্ঠে ‘বৃহস্পতিবার তফসিল, ভোট ২০ অথবা ২৩ ডিসেম্বর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

বাংলাদেশে এর আগে ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবারে। বৃহস্পতিবারে হয়েছে দুটি। সোমবারে হয়েছে দুটি। আর রবিবারে হয়েছে দুটি। এবারও তফসিলে আর কোনো পরিবর্তন না এলে রবিবারেই ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে।

সিইসি তাঁর ভাষণে এ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন এবং ভোটগ্রহণে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হবে বলে জানান। এ ছাড়া তিনি জানান, ২০১৭ সালে সংলাপের মাধ্যমে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারী নেত্রীদের পরামর্শ এবং সুপারিশ বিচার-বিশ্লেষণের পর গ্রহণযোগ্য বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ওই সব সুপারিশ এখতিয়ারবহির্ভূত উল্লেখ করে তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়নি  নির্বাচন কমিশন। সংসদ নির্বাচন আইনে যে তিনটি বিধান এবার  যোগ হয়েছে তা হলো—ভোটগ্রহণে ব্যালট পেপারের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার, সাত দিন আগের পরিবর্তে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ এবং অনলাইনেও প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ।

নির্বাচন কমিশন গত ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সভায় ৮ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার তারিখ নির্ধারণ করে। ওই দিন জানানো হয়, তফসিল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও মনোনয়নপত্র দাখিল ও ভোটগ্রহণের তারিখসহ বিস্তারিত সময়সূচি ৮ নভেম্বর আরেকটি সভায় নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়ে রেখেছিল, ‘নির্বাচনের জন্য জানুয়ারি মাসটা নানা কারণে উপযুক্ত নয়। জানুয়ারি মাসে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা হবে। এ কারণে ১৫ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। আবার জানুয়ারির শুরু থেকে স্কুলগুলো খোলা থাকে। এ ছাড়া এ সময় অনেক শীত ও কুয়াশা থাকে। এ জন্য চর ও হাওর অঞ্চলে ঝুঁকি থাকে। এসব কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া দরকার। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিল, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের কাছাকাছি সময়কে বাদ রেখে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করতে।

এ অবস্থায় পূর্বপরিকল্পনা অনুসারেই গতকাল সকাল ১১টার পর ইসির ৩৫তম মুলতবি সভায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এ নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। এরপর কমিশন সভা করে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার ও পিআইডির কর্মকর্তা-কর্মীরা সিইসির ভাষণ রেকর্ড করার জন্য তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। এ কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

 সিইসি যা বললেন : এদিকে গতকাল সিইসি তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর কিছুটা আলোকপাত করব। নির্বাচন পরিচালনায় সকল নাগরিকের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

শুরুতেই আমি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। যেসব বীর সন্তান স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়েছেন—তাঁদের স্মরণ করছি। স্মরণ করছি ৫২-এর ভাষাশহীদদের—যাঁদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মায়ের ভাষা; অর্জিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

তিনি বলেন, আন্দোলন, আত্মদান আর সংগ্রামের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনে আত্মদানের প্রত্যয় নিয়ে স্বাধিকার আন্দোলন। স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেরণায় মুক্তি সংগ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ অর্জন লাল-সবুজ পতাকার একখণ্ড বাংলাদেশ। চরম ক্ষুধা-দারিদ্র্য, অবনতকর আর্থ-সামাজিক অবস্থান আর যুদ্ধবিধ্বস্ত ভৌত-অবকাঠামো নিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম। নবীন সে দেশটি আজ উন্নত বিশ্ব অভিমুখে অভিযানে দীপ্তপদে এগিয়ে চলছে। উন্নয়নের আর একটি আরাধ্য সোপান—গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি। সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে সমান্তরাল পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন একটি নির্ভরশীল বাহন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন তা এগিয়ে নিয়ে যেতে জনগণের কাছে হাজির হয়েছে। জনগণের হয়ে সব রাজনৈতিক দলকে সে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের গণতন্ত্রের ধারা এবং উন্নয়নের গতিকে সচল রাখার আহ্বান জানাই।

দেশবাসীর উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, ভোটার তালিকা প্রস্তুতসহ সাতটি করণীয় বিষয় স্থির করে ২০১৭ সালে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছিলাম। সংলাপের মাধ্যমে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারীনেত্রী সংগঠনের কাছে কর্মপরিকল্পনাটি তুলে ধরেছিলাম। তাঁদের পরামর্শ এবং সুপারিশ বিচার-বিশ্লেষণের পর গ্রহণযোগ্য বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেমন—কতিপয় আইন ও বিধি সংশোধন করেছি। সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ তালিকা  প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের বাছাইকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৭৫টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সক্ষমতা অর্জন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। প্রথমবারের মতো পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। কমিশনাররা সংবিধানের আলোকে সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করার শপথ নিয়েছেন। নির্বাচনী সামগ্রী ক্রয় এবং মুদ্রণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে পারস্পরিক পরামর্শ আদান-প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচনী দায়িত্বে নিবেদিত রয়েছেন। আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি।’

সিইসি বলেন, “নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সাত লাখ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী থেকে ছয় লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাঁদের মধ্যে থাকবেন পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও একাগ্রতার ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখা হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে যথাপ্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য ‘এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।”

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহের জাগরণ ঘটে। তাদের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর উচ্ছ্বাসে গোটা দেশ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। রাজনীতিবিদদের কৌশল প্রণয়ন, প্রার্থীদের নির্ঘুম প্রচারণা, সমর্থকদের জনসংযোগ, ভোটারদের হিসাব-নিকাশ, হাট-বাজারে মিছিল-স্লোগান, পোস্টারে অলিগলি সয়লাব, চা দোকানে বিতর্কের ঝড়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, প্রশাসনে রদবদল এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতির ঘটনা ঘটে। ভোটের দিনে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার মধ্যে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ২০১৮ সাল সেই নির্বাচনের একটি বছর। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। সুশীল সমাজ মতামত প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে। গণমাধ্যমে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণের মতামত, বক্তব্য, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, আলোচনা-সমালোচনা ও সুপারিশ প্রকাশ করা হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নির্বাচন নিয়ে প্রতিনিয়ত টক শো প্রচার করে যাচ্ছে। সব সংবাদ মাধ্যম নির্বাচন নিয়ে বিশেষ খবর ও প্রতিবেদন প্রচার করছে। দেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতারা দলগতভাবে অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরামর্শ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে মিলিত হয়েছেন। সভা-সমাবেশ নির্বাচনী বক্তব্যে উত্তপ্ত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বহুসংখ্যক সংগঠন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশব্যাপী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে।’

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জাতির এমন উচ্ছ্বসিত প্রস্তুতির মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আমি প্রত্যাশা করব, অনুরোধ করব এবং দাবি করব, প্রার্থী এবং তাঁর সমর্থক নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি মেনে চলবেন। প্রত্যেক ভোটার অবাধে এবং স্বাধীন বিবেকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবে। নিজ নিজ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহায়তা করবেন। পোলিং এজেন্টরা ফলাফলের তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে অটল থাকবেন। নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটগণ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করবেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটকেন্দ্র, ভোটার, প্রার্থী নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং এজেন্টগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। গণমাধ্যমকর্মী বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করবেন। পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনারের নীতিমালা মেনে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সামগ্রিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের আওতায় রাখবে। এভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব।’ 

সিইসি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জনগণের মালিকানার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়; নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্র তৈরি হয়। এমন নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণ করার জন্য আবারও আহ্বান জানাই। তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে তা মীমাংসা করার অনুরোধ জানাই। প্রত্যেক দলকে একে অপরের  প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ করার অনুরোধ জানাই। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করি। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে অনিয়ম প্রতিহত হয় বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রতিযোগিতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কখনো প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় পরিণত না হয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই।’

ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে জানিয়ে সিইসি বলেন, “দল-মত-নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদে সকলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোট শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সকলের জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে। এসব নিয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করা হবে।”

নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘কমিশনের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচনের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি আদান-প্রদান পদ্ধতিসংক্রান্ত সফটওয়্যার ও প্রগ্রাম আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। সরাসরি অথবা অনলাইনেরও মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে। পুরাতন পদ্ধতির পাশাপাশি ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার সফল হয়েছে। জেলা এবং অঞ্চল পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইভিএমের উপকারিতা সম্পর্কে ভোটারগণকে অবহিত করা হয়েছে। ইভিএম ব্যবহারে তাদের মধ্যে উৎসাহব্যঞ্জক আগ্রহ দেখা গিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ইভিএম ব্যবহার করা গেলে নির্বাচনের গুণগত মান উন্নত হবে এবং সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হবে। সে কারণে শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেওয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।’

দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় দেশবাসীর  সহযোগিতা, সাহায্য এবং সমর্থন কামনা করে তিনি বলেন,  ‘জাতির আকুল আগ্রহের এ জায়গায় সকলকে সঙ্গে নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সফল হব ইনশাআল্লাহ। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল হোক, সার্থক হোক।’



মন্তব্য