kalerkantho


বগুড়ায় বাসে পেট্রলবোমায় তিন নারী দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ, ভাঙচুর

নারায়ণগঞ্জ ও শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বগুড়ায় বাসে পেট্রলবোমায় তিন নারী দগ্ধ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে গতকাল বুধবার বগুড়ার শাজাহানপুরে একটি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলা হয়েছে। এতে তিন নারী যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন। আটক করা হয়েছে যুবদলের এক নেতাকে। নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বগুড়া : প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, নীলফামারী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী নাবিল পরিবহনের একটি বাস গতকাল ১২টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার ফটকি সেতু পার হওয়া মাত্রই কয়েকজন যুবক পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে। এতে বাসের সামনের আসনে আগুন ধরে যায়।

এতে আহত তিন যাত্রী হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার জয়চণ্ডী পুঁটিহাড়ি গ্রামের মোজাম্মেল হকের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম (৫০), জলঢাকা উপজেলার শিমুলগাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী মুনিরা বেগম (৪০) এবং টাঙ্গাইলের শান্তিনগর গ্রামের শামছুল ইসলামের মেয়ে শামীমা খাতুন (২৭)। তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামলার পরপরই টহল পুলিশ হামলাকারীদের ধাওয়া করে। তাদের মধ্যে নুর মাহমুদ মুন্সীকে (৩০) আটক করে পুলিশ। তিনি জেলা যুবদলের কৃষিবিষয়ক সহসম্পাদক। নূর মাহমুদ শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরাপাড়া গ্রামের খাজা মিয়ার ছেলে। তাঁর বড় ভাই নুরুজ্জামান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

বাসের যাত্রী নীলফামারীর সদর উপজেলার উত্তর বালাপাড়ার শামসুল ইসলামের মেয়ে আমিনা খাতুন (২৭) জানান, দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করলে চালক বাস থামিয়ে দেন। তাঁর সামনের আসনে আগুন ধরে গেলে তিনি সন্তানকে নিয়ে জানালা দিয়ে নেমে পড়েন।

শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক রুম্মান জানান, মহাসড়কে তাঁরা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে টহল  দিচ্ছিলেন। কয়েক যুবক বাসে বোমা ছুড়ে পালানোর সময় তাদের ধাওয়া করে পুলিশ। প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ানোর পর তাদের একজন করতোয়া নদীতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে ফেলে।

বগুড়ার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নারায়ণগঞ্জ : গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে কয়েক দফা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক জানান, এগুলো সাধারণ পটকা বা হাতবোমা ধরনের। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।

দুপুর ১টায় লিংক রোডের ফতুল্লা ভুঁইগড় এলাকায় পুলিশ ধাওয়া করলে বিক্ষোভকারীরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা জানান, একদল বিএনপির নেতাকর্মী লিংক রোডের ভুঁইগড় এলাকায় স্লোগান দিয়ে একটি অটোরিকশা ও একটি ইজিবাইক ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ডেও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 



মন্তব্য