kalerkantho


বিদেশিদের কাছে নির্বাচনের চেয়েও বড় ইস্যু রোহিঙ্গা

মেহেদী হাসান   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিদেশিদের কাছে নির্বাচনের চেয়েও বড় ইস্যু রোহিঙ্গা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও রোহিঙ্গা সংকটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখার ব্যাপারে তাদের জোরালো প্রত্যাশা আছে। তবে নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকট এখন পুরোপুরি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। চীনের অবস্থানের কারণে রোহিঙ্গা সংকট পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) এ দেশে কাজের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকায় পশ্চিমা একজন কূটনীতিক গতকাল রবিবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাঁদের আগ্রহ আছে। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকটের পরিণতি নিয়ে তাঁরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।

বেশ কয়েকটি দূতাবাসের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের আগস্ট মাসে মিয়ানমার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা ঢল শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে বিদেশিদের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার এ দেশের সীমান্ত এখনো খোলা রেখেছে। এত দীর্ঘ সময় সীমান্ত খোলা রাখার নজির বিশ্বে খুবই কম। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের উদ্যোগের জোরালো প্রশংসা করে আসছে সারা বিশ্ব।

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ওপর আগামী নির্বাচনে কী প্রভাব পড়বে তা নিয়েও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে নানা ভাবনা আছে। তবে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের স্থায়ী, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিচ্ছে এবং কাউকেই জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না এমন অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করার পর তৃতীয় বছরের শেষ দিকে (২০১১ সালের নভেম্বরে) বাংলাদেশ সফরকালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন ২০১৪ সালে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত জুন মাসে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যখন বাংলাদেশ সফর করেন তখন নির্বাচনের বাকি ছিল মাত্র ছয়-সাত মাস। ওই সফরকালে সংবাদ সম্মেলন বা বিবৃতিতে তিনি নির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এ ছাড়া তখন সরকারের বাইরের কোনো রাজনৈতিক দলও তাঁর সাক্ষাৎ পায়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের এবারের বাংলাদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিন দেখা। সেটিকেই তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।

ওই কর্মকর্তারা আরো বলেন, নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘ বা পশ্চিমা দেশগুলোর কী অবস্থান তা সবারই জানা। বিদেশিদের প্রত্যাশার বিষয়টি জানে সরকারও। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা অন্যদের সাক্ষাতে নির্বাচনের বিষয়টিও থাকতে পারে। তবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা।

নিউ ইয়র্কের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠক করার পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে আগামী নির্বাচনের প্রাক্কালে আগেরবারের মতো জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত পাঠানোর সম্ভাবনা ও সুযোগ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

জানা গেছে, সরকার না চাইলে বা প্রয়োজন মনে না করলে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতার সুযোগ কম। তা ছাড়া জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বাংলাদেশে পুরোদমে কাজ করছে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায়।

কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে বিদেশিরা। এ কারণে ওই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও তারা জোর দিচ্ছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের সাক্ষাতে অন্যান্য ইস্যুর মধ্যে বাংলাদেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি এবং এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারত, চীন, যুক্তরাজ্যসহ সবাই এ দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থান আছে। কিন্তু সবার মূল দৃষ্টি ব্যবসা-বাণিজ্যে।



মন্তব্য