kalerkantho


১৮ জনকে সবুজ সংকেত ♦ ৩২ জন অপেক্ষায়

নতুন মুখের হাসি আওয়ামী লীগে

বিতর্কিত ও ব্যর্থ এমপিদের বদলে তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থী আনার পরিকল্পনা

তৈমুর ফারুক তুষার    

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নতুন মুখের হাসি আওয়ামী লীগে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝির মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা। ফলে দলের নীতিনির্ধারক ও নির্বাচনী এলাকার মানুষের মন জয়ে দৌড়ঝাঁপ বাড়িয়ে দিয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধশত তরুণ নেতা মনোনয়ন পেতে পারেন। নৌকার জয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আসনে বিতর্কিত, ব্যর্থ সংসদ সদস্যদের বদলে তরুণ পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নতুন মুখ ভোটারদের সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এরই মধ্যে অন্তত দেড় ডজন তরুণ নেতাকে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। আরো কয়েক ডজন নেতা জোরালো বিবেচনায় আছেন। দলটির নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যদের আমলনামা রয়েছে। তিনি একাধিক সূত্র থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যে বেশ কিছু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নেতিবাচক নানা বিষয় উঠে এসেছে। এসব আসনে জয় পেতে প্রার্থী পরিবর্তন করা হবে। এ ক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনা আছে এমন তরুণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের প্রার্থী করবে আওয়ামী লীগ। তবে বেশি সংখ্যায় তরুণ প্রার্থীর মনোনয়নপ্রাপ্তি নির্ভর করবে বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না তার ওপর। বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করবে না আওয়ামী লীগ। তখন বেশ কয়েকটি আসনে তরুণ প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত হবে।

তরুণ নেতাদের মনোনয়ন পাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে অনেক তরুণ নেতারই মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। নানা কারণে বাদ পড়বেন এমন সংসদ সদস্যদের আসনে তরুণদের মূল্যায়ন করা হবে।’ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার অনেক তরুণ নেতারই মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চাচ্ছেন বিভিন্ন পেশার তরুণ যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে। ফলে অনেক নতুন মুখ দেখা যাবে আমাদের প্রার্থী তালিকায়।’

দেখা যেতে পারে যেসব নতুন মুখ

আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও এখনো জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাননি। নেত্রকোনা-৩ আসনে মনোনয়নের জন্য কয়েক বছর ধরেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তিনি। নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নিজের শক্ত অবস্থানও তৈরি করেছেন। আগামী নির্বাচনে আসনটিতে অসীম কুমার উকিলের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তরুণ এ নেতা সাংগঠনিক কাজে নিবেদিত। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এরই মধ্যে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। আগামী নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জোরালো দাবিদার শামীম। কয়েক বছর ধরেই নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। বিগত নির্বাচনেও তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে কর্নেল (অব.) শওকত আলীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এবারে শওকত আলীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে শামীমকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে মনে করছেন দলটির কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা।

আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন চট্টগ্রাম-১৫ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন। দলের গত তিনটি কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া আমিন নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে এরই মধ্যে নীতিনির্ধারকদের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছেন। এক-এগারোর সময়ে শেখ হাসিনার কারামুক্তির আন্দোলন সংগঠিত করার পেছনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক আমিন সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীদের তাণ্ডব মোকাবেলায় মাঠে থেকে সাহসী ভূমিকা রাখায় আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রশংসা কুড়ান তিনি।

মাগুরা-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুজ্জামান শিখরের। বেশ কিছুদিন ধরেই এ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিখর। তাঁর বাবাও আসনটিতে জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ছিলেন। শিখর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হন। তিনি দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

চাঁদপুর-৩ আসনে মনোনয়নের জোরালো দাবিদার আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। তিনি গত নির্বাচনেও আসনটিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকার শীর্ষে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসছেন সুজিত। এ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি মনোনয়ন না পেলে সুজিত রায়ই হবেন প্রার্থী।

বরিশাল-৪ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ। তাঁর বাবা প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ এ আসনের একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন। ফলে আসনটিতে পারিবারিকভাবেই রাজনৈতিক শক্ত অবস্থান আছে শাম্মীর। অন্যদিকে আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দলের একটি বড় অংশ। ফলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির শাম্মী আহমেদকে প্রার্থী করতে পারে আওয়ামী লীগ।

পটুয়াখালী-১ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন। আসনটি মহাজোটের সমীকরণে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এবারের নির্বাচন জোটগতভাবে না হলে এ আসনে আফজাল হোসেনই হবেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

নরসিংদী-৫ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছারের। আসনটিতে নানা কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। ফলে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কাওছারকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা বেশি।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ বেবি মনোনয়ন পেতে পারেন জামালপুর-২ আসনে। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ বীর-উত্তমের সন্তান মাহজাবিন এরই মধ্যে এই নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচার করছেন। ফলে ইসলামপুর উপজেলার মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়নের জোরালো দাবিদার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা খানম। তিনি নবম সংসদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু দশম সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের সমীকরণে জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু এবারের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের চাপ দিচ্ছে। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকা সানজিদাকে এবার নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ মাদারীপুর-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে থাকা গোলাপ দলীয় মনোনয়ন পেতে জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কৃষি ব্যাংকসহ নানা প্রতিষ্ঠান করে এলাকায় অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন।

দিনাজপুর-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু হুসাইন বিপুর। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য বিপু স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। অন্যদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। তারা গোপালকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। ফলে আসনটিতে এবার বিপুকে নৌকার কাণ্ডারি করার সম্ভাবনা বেশি।

কিশোরগঞ্জ-৫ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই সাবেক ছাত্রনেতা দীর্ঘদিন ধরেই নিজের নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন ও জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। এলাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মাঈনউদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। অনেক দিন ধরেই এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ফলে আসনটিতে এ ব্যবসায়ী নেতাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

পঞ্চগড়-১ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাঈমুজ্জামান মুক্তা। তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তাঁর বিশেষ সখ্য রয়েছে। যদি আসনটি ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাসদকে ছেড়ে দেওয়া না হয় তবে মুক্তাকেই প্রার্থী করার সম্ভাবনা বেশি।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ শামসুল আবেদীন খোকন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খোকন বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি যুবলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে অনেক দিন ধরেই এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন মোহনের সন্তান লিটন অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদায় ডেইরি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্বশান্তি পরিষদ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় জনকল্যাণমূলক কাজ করে চলেছেন লিটন। শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা, নদীভাঙন রোধে নানা প্রকল্প গ্রহণ, তাঁত ও দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়ন, রাস্তা নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রেখেছেন। ফলে জনসাধারণের মাঝে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা আছে তাঁর।

বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোশাররফ হোসেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। ছাত্রলীগে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেন। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায়ও আহত হয়েছিলেন মোশাররফ। বৃহত্তর গুলশান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি, গুলশান থানা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জোরালো দাবিদার যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আনোয়ার হোসেন। তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজের সাংগঠনিক দক্ষতায় প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে এসে যুবলীগের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক তোছাদ্দেক হোসেন খান টিটো। এফসিসিআইয়ের একাধিকবার নির্বাচিত পরিচালক টিটো দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছেও প্রিয়ভাজনও হয়ে উঠেছেন।

ফরিদপুর-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান মঈনুল ইসলাম মোস্তাক। তিনি ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক, কার্যনির্বাহী সদস্য পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক মোস্তাক বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে কারানির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে অনেক দিন ধরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গোলাম সারোয়ার কবীর। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কবীরের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

পিরোজপুর-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তাজউদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক তাজউদ্দিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক উপসম্পাদকও ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনী এলাকার মানুষের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বগুড়া-২ আসনে নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা। বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা জুলুম-নির্যাতন সয়ে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোস্তা। গত নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এবার জোটগত নির্বাচন না হলে মোস্তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন চট্টগ্রাম-৬ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচার ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

ঢাকা-১৫ আসনে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। ব্যবসায়ী এই নেতা এর আগেও একাধিকবার আসনটিতে মনোনয়ন চেয়েছেন। এবারে আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন হলে মনোনয়ন পেতে পারেন তিনি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি জামালপুর-৫ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন। কুমিল্লা-৬ আসনে মনোনয়ন পেতে জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ও কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক আফজল খানের সন্তান মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। নেত্রকোনা-৫ আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন লন্ডন মহানগর আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি প্রকৌশলী তুহিন আহমদ খান। যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ঢাকা-১৮, জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফি আহমেদ নেত্রকোনা-৪, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি নড়াইল-১, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির ঝালকাঠি-১, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন গাইবান্ধা-৫, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বাগেরহাট-৪, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা পিরোজপুর-১ মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য নুরুল আলম পাঠান মিলন ময়মনসিংহ-৭ আসনে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহম্মদ আলী মোল্লা নাটোর-৪ আসনে, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জোবায়দুল হক রাসেল পটুয়াখালী-২ আসনে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জামাল হোসেন ফরিদপুর-২, হাশিম রেজা চুয়াডাঙ্গা-২, সাইফুদ্দিন নাসির ফেনী-২, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এ এইচ এম মাসুদ দুলাল নারায়ণগঞ্জ-৩, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম মানিক পাবনা-৫, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক পাবনা-৩ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে মাঠে সক্রিয় আছেন।



মন্তব্য