kalerkantho


ইভিএম কেনার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ইভিএম কেনার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন মাস আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পের অনুমোদন দিল সরকার। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তিন হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয়ের পুরোটাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভাটি হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র মতে, তিন ধাপে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে নির্বাচন কমিশন। দেড় লাখ ইভিএম কেনা হবে প্রকল্পের আওতায়। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন হাজার ১১০ জনকে। গত ১১ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি শর্ত সাপেক্ষে একনেক সভায় অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এর আগে ১৯ আগস্ট প্রকল্পের ওপর পিইসি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণ দেখিয়ে পরে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়।

ইভিএম কিনতে তাড়াহুড়া করা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘না। সব নিয়ম-নীতি মেনে সময় নিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইভিএম ব্যবহার করতে গিয়ে যাতে সরকারের কোনো সমালোচনা না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে।’

গতকাল সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না তা ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন। আমাদের কাজ ছিল প্রকল্প পাস করে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একসঙ্গে নয়; বরং ধীরে ধীরে ইভিএম ব্যবহার করতে। আগে ইভিএম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আসছে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্যবহার করতে চাইলে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন (আরপিও) পরিবর্তন করতে হবে। কারণ আইনে ইভিএম ব্যবহার শুধু স্থানীয় নির্বাচনের কথা বলা আছে। মন্ত্রী আরো বলেন, নির্বাচনে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা যেতে পারে। সেটা হতে পারে শহরে। কারণ, শহরের মানুষ শিক্ষিত। গ্রামের মানুষ মনে করতে পারে, মেশিনে টিপ দিলে জায়গাজমি নিয়ে যাবে। এ ধরনের হাঙ্গামায় যাওয়ার সময় এখন নেই।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য মতে, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে আঙুলের ছাপের সাহায্যে যখন ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হবে, তখন ভোটারের ছবিসহ তথ্য ইভিএমে দেখা যাবে। তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা যাচাই করতে পারবেন। কমিশন বলছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার হলে একজনের ভোট আরেকজন দেওয়া অসম্ভব। এই মেশিনে ভোট গ্রহণ শুরুর আগে এবং শূন্য ভোটিং প্রিন্ট করার সুবিধা এবং ভোট গ্রহণ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত ফলাফল প্রিন্ট ও ঘোষণা করা যাবে। ইভিএম ব্যবহারের জন্য শিক্ষাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও একনেক সভায় জানানো হয়। যদিও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে বিরোধিতা করে আসছে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারকে স্বাগত জানিয়েছে।

এদিকে গতকালের সভায় ভারতের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৮০ কোটি টাকা। সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেক সভায় ১২ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ হবে আট হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। বাকি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছে সরকার।

একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, চার হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ সেতু নির্মাণ, ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ৫২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে হাটহাজারী থেকে রাউজান পর্যন্ত চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প।



মন্তব্য