kalerkantho


বৈরিতার দ্বিতীয় পর্বে সামনে শ্রীলঙ্কা

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বৈরিতার দ্বিতীয় পর্বে সামনে শ্রীলঙ্কা

অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলন শুরুই হলো রোহিত শর্মাকে দিয়ে। শুরুতেই প্রশ্নকর্তার কাছ থেকে একটি তথ্য শুনে চমকে গেলেন ভারত অধিনায়ক, ‘তাই নাকি? ভারত ১২ বছর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলতে এসেছে? তাহলে তো বহু দিন।’

তবে একই দেশে বাংলাদেশের আবারও খেলতে আসার মাঝখানের বিরতিটা আরো দীর্ঘ। সেই যে ১৯৯৫ সালে এশিয়া কাপ খেলে গিয়েছিল, এত দিন পর এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের আসরই আবার তাদের নিয়ে এলো এখানে। মাঝখানের ২৩ বছরে কত কিছু বদলে গেছে। বদলে গেছে আমিরাতের প্রাণকেন্দ্র দুবাই শহরও। এখানে বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফা যেমন উঠে গেছে, তেমনি বাংলাদেশের জন্য একসময়ের প্রধান শ্রমবাজারও আর নেই। মধ্যপ্রাচ্যের আরো অনেক দেশে সেই শ্রমের বিকিকিনি ছড়িয়ে পড়েছে। এত কিছুর ভিড়ে বদলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটও।

কতটা বদলেছে, সেটি সেই ১৯৯৫ সালের এশিয়া কাপ খেলে যাওয়া এখনকার প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের রেটিং থেকে আরো ভালো বোঝা যাওয়ার কথা, ‘১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ দলকে যদি ১০০-তে ৪০ দিই, তাহলে এখনকার দলকে দেব ৭৫।’ যোজন যোজন এগিয়ে যাওয়া সেই দলের লক্ষ্যও যে বুর্জ খলিফার উচ্চতম বিন্দুতে গিয়ে স্থির হবে, সেটি তো না বললেও চলছে। বাংলাদেশ দলের জন্য সেই বিন্দুটা শিরোপা।

তবে একই বিন্দুতে স্থির ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কাও। ২৮ সেপ্টেম্বরের সেই ফাইনালে কারা যাবে, সেই মীমাংসার আগে আপাতত বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আজকের শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। টুর্নামেন্টের এই উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে হয়তো শুরু হয়ে যাচ্ছে বৈরিতার দ্বিতীয় পর্বও। কারণ গত মার্চে লঙ্কানদের মাঠে নিদাহাস ট্রফিতে স্বাগতিকদের দর্শক বানিয়ে ফাইনালে ওঠার পথে নো বল বিতর্কে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার ঘটনার জেরে পরে হয়েছে অনেক কিছুই। যা উসকে দিয়েছে ক্রিকেটের নতুন এক বৈরিতাও।

এর নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনায় মাশরাফি বিন মর্তুজা যাবেন না স্বাভাবিক। তবে মানলেন যে এর ইতিবাচক দিকও আছে, ‘নির্দিষ্ট দুটো দলের মধ্যে লড়াইয়ের একটা ঐতিহ্য দাঁড়িয়ে যাওয়াটা খারাপ নয়। যেমন অ্যাশেজ আছে। ভারত-পাকিস্তান আছে।’ ১৯ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তানের সেই লড়াইয়ের আগেই বৈরিতার মঞ্চে নতুন করে আবির্ভূত লড়াইটি মাঠে গড়িয়ে যাচ্ছে আজ।

যে ম্যাচকে ঘিরে পুরনো বিরোধের সূত্র টানার চেষ্টা হলেও অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ পা বাড়ালেন না। তবে যেভাবে চোয়াল চেপে বললেন, তাতে মনে হলো প্রকাশ্যে না হলেও ভেতরে ভেতরে বিরোধটা রয়েই গেছে, ‘দেখুন, অতীত অতীতই। আমরা নিজেদের নিয়েই বেশি ভাবছি। আর খেলার কথা বললে আমরা ক্রিকেটের সত্যিকারের স্পিরিট নিয়েই খেলার চেষ্টা করব।’ কিন্তু মাঠের মধ্যে মুহূর্তের উত্তেজনায় যে ঘটে যেতে পারে অনেক কিছুই। আর নিদাহাস ট্রফিতে যা ঘটেছিল, তা ভুলে যাওয়াও তো এত সহজ ব্যাপার নয়। তা মাশরাফি যতই সেটি ভুলে যাওয়ার কথা বলুন না কেন!

সুতরাং বৈরিতা থাকছেই। অবশ্য এর বাইরেও বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য বৈরিতার ব্যাপার আছে। আজ দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ, কিন্তু ম্যাচের উইকেট মাশরাফি ছাড়া দেখা হয়নি দলের আর কারোরই। তাও ওয়ানডে অধিনায়ক দেখেছেন ভাগ্যচক্রে। অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলন শেষে ট্রফি নিয়ে পোজ দেওয়ার জন্য তাঁদের নেওয়া হয়েছিল মাঠে। তখনই উইকেটে একটু চোখ বুলাতে পেরেছেন তিনি। তবে মূলত এর-ওর কাছ থেকে খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন আরো বেশি, ‘আফগানিস্তান এখানে নিয়মিত খেলে। ওদের অধিনায়কের (আসগর আফগান) কাছে খোঁজ নিলাম। আরো কয়েকজনের সঙ্গে আলাপে যেটা বুঝলাম, এই মাঠের সেরা উইকেটেই নাকি খেলাটা হতে চলেছে।’

সেরা উইকেট মানেই তো ব্যাটিং উইকেট। সেখানে স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলে দেওয়ার মতো কিংবা প্রতিপক্ষের বিশাল সংগ্রহ তাড়া করার মতো ব্যাটসম্যানও আছে বাংলাদেশের। কিন্তু রান তাড়ার চেয়ে টস জিতলে আগে ব্যাটিং করার চিন্তাই যে বাংলাদেশ শিবিরে বেশি, সেটি তো আগের দিনই তামিম ইকবাল বলেছেন। দুবাইয়ের প্রচণ্ড গরমে আগে ফিল্ডিং করে ক্লান্তি নিয়ে রান তাড়ার ঝুঁকিটা নিতে না চাওয়ার চিন্তাও আছে। কিন্তু টসভাগ্য তো আর সব সময় নিজেদের পক্ষে আসবে না। তাহলে? এই গরমে হাল নিশ্চয়ই ছাড়বে না বাংলাদেশ?

ছাড়ছেও না। তবে এই সময়ে এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়ে সমালোচনা থেমে নেই। সেটি অস্বাভাবিকও নয়। কারণ গত ৩০ বছরে এই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অল্প কিছু ম্যাচই হয়েছে। সেখানে এবার এই সময়ে এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আপাতত না খেলার বিকল্পও নেই। বাংলাদেশকেও খেলতে হচ্ছে। খেলতে হচ্ছে বলে যথাসম্ভব প্রস্তুতিও রাখতে হচ্ছে। মাশরাফি তাই বললেন, ‘পাকিস্তান আর আফগানিস্তান এখানে নিয়মিতই খেলে। শ্রীলঙ্কাও এখানে টেস্ট সিরিজ খেলে গেছে। কিন্তু আমরা এখানে খেলিনি। তবে খেলিনি বলে আমরা যে জিতব না, তাও নয়।’

বৈরিতার দ্বিতীয় পর্বে বৈরী আবহাওয়া সামলে জেতার চ্যালেঞ্জও তাই নিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।



মন্তব্য