kalerkantho


সাক্ষাৎকার

সারা দেশে নদী খনন ও ঢাকার খাল উদ্ধার হবে

খন্দকার মোশাররফ হোসেন
মন্ত্রী, এলজিআরডি

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সারা দেশে নদী খনন ও ঢাকার খাল উদ্ধার হবে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁর মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা, সারা দেশে নদী খনন, ঢাকার খাল উদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন লায়েকুজ্জামান

কালের কণ্ঠ : প্রধানমন্ত্রী বলেছেন গ্রামকে শহরে উন্নীত করবেন। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নে আপনার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি কেমন?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : আমরা আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আমাদের মাস্টারপ্ল্যান আছে। গ্রামকে শহরে উন্নীত করার প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন, বলতে পারেন অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। পৌনে দুই হাজার কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান আমরা হাতে নিয়েছি। প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলা সদর কেন্দ্রিক রাস্তা নির্মাণ, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ শুরু হয়ে গেছে। যেখানে পৌরসভা নেই সেখানেও এ ধরনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এগুলোকে আমরা পৌরসভা করব।

কালের কণ্ঠ : আজকের যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), শুরুতে এটা ছিল এলজিইবি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরো)। আপনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রকৌশলী। এখন এ দপ্তরের মন্ত্রী। কেমন লাগছে আপনার কাছে? এলজিইডিকে কত দূর এগিয়ে নিতে চান?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : আমিই এটার প্রতিষ্ঠাতা, এখন এ দপ্তরের মন্ত্রী—একটা অন্য রকম অনুভূতি তো থাকতেই পারে। এলজিইডি এখন একটি বড় প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ সাড়ে তিন লাখ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এ মন্ত্রণালয়ের অধীন। ইতিমধ্যে আমরা এক লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার পাকা করেছি। প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। সড়ক বিভাগের রাস্তা মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার কিলোমিটার। শুধু রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নদ-নদীর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে নদী খনন করা হবে। বিভিন্ন উৎস থেকে আসা পানি নদীতে সংরক্ষিত হবে—এ ধরনের প্রকল্প একনেকে উঠেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে এলজিইডির নিয়ন্ত্রণে। বলতে পারি, এলজিইডি দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতে এ ভূমিকা আরো সম্প্রসারিত হবে।

কালের কণ্ঠ : ঢাকার খাল নিয়ে বহুদিন ধরে শুধু শুনে আসছি যে খাল দখলমুক্ত হবে। আসলে বিষয়টি কী?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : ঢাকার খাল ফিরে পাবে ঢাকার জনগণ। দখলমুক্ত হবে সব খাল। আমরা ১৫টি খাল উদ্ধার করেছি। সে খালগুলোর উন্নয়নে দেড় হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। খালগুলোর দুই পার দৃষ্টিনন্দন হবে। ঢাকায় ৪৫ থেকে ৫০টি খাল বেদখল। সেগুলো উদ্ধার হবে। উদ্ধারের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কঠোর। প্রয়োজনে খালগুলোর ওপর দিয়ে ঝুলন্ত সড়ক করা হবে।

কালের কণ্ঠ : জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আপনার একটি কথায় ঢাকাবাসী আশ্বস্ত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা তো ভিন্ন?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : দুই বছর আগে আমি একটা কথা বলেছিলাম, তিন ঘণ্টার বেশি জলাবদ্ধতা থাকবে না। এরপর দেখুন, ঢাকায় দুই ঘণ্টার বেশি জলাবদ্ধতা থাকেনি, পানি সরে গেছে। তবে হ্যাঁ, পরিপূর্ণভাবে জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। কারণ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়নকাজ চলছে। আগামী বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার আরো উন্নতি ঘটবে। তবে পরিপূর্ণভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে আরো কিছু সময় লাগবে।

কালের কণ্ঠ : বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেন, তাঁরা সরকারি দলের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা বা বরাদ্দ পান না। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : কেউ এমনটি বলে থাকলে তিনি অন্যায় বলেছেন, অন্যায় অভিযোগ তুলেছেন। আমরা সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে জনসংখ্যা ও এলাকা বিবেচনায় বরাদ্দ দিই। বিশেষ পরিস্থিতি, যেমন—প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিশেষ বরাদ্দও দেওয়া হয়। এখানে দলীয় বিবেচনাকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

কালের কণ্ঠ : অনেক সময় অভিযোগ আসে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা এলজিইডিতে টেন্ডার বাণিজ্য করে?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : আমার জানা মতে এমন কোনো ঘটনা নেই। কোনো অভিযোগ কখনো পাইনি। অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে এমন অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে বলতে পারি, কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

কালের কণ্ঠ : এলজিইডিতে নিম্নমানের ঠিকাদারি কাজের অভিযোগও আছে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : এলজিইডতে এখন অত্যন্ত গ্রহণযোগ্যমানের কাজ হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, এত বড় প্রতিষ্ঠান, সারা দেশে যার ব্যাপ্তি, এখানে কোনো কোনো ঠিকাদার কখনো কখনো ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়, নিতে চায়। এ ক্ষেত্রে আমরা সজাগ আছি। কাজের মান সন্তোষজনক না হলে ঠিকাদারের পাওনা আটকে দেওয়া হয়।

কালের কণ্ঠ : বেশ কিছু পৌরসভার কর্মচারী দীর্ঘদিন বেতন পান না। এ বিষয়ে আপনাদের কী করণীয় কিছু আছে?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : দীর্ঘদিন বেতন পায় না কথাটা ঠিক না। আমরা পৌরসভাগুলোকে উন্নয়ন বরাদ্দ দিই। এটাই নিয়ম। পৌরসভাগুলোকে নিজস্ব তহবিল থেকে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। সে জন্য তাদেরকে নিজস্ব আয় বাড়াতে হবে, আয় বৃদ্ধির বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

কালের কণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : বিএনপির রাজনীতি বিএনপি করে। তাদের নিজস্ব কৌশল, চিন্তাভাবনা আছে। সেভাবে তারা পদক্ষেপ নেয়। আশা করি বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে। তারা নির্বাচনে না এলে তাদের ভূমিকা জনগণ বিচার করবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে কী হবে তা বলছি না, তবে একটি কথা বলতে চাই, জাতির সামনে কিন্তু একটা মুসলিম লীগের উদাহরণ আছে।



মন্তব্য

Rahman commented 1 days ago
কবে হবে???