kalerkantho


শক্তি বাড়লেও ত্রিখণ্ড আ. লীগ কোন্দলে নিস্তেজ বিএনপি

মো. লুৎফর রহমান, পঞ্চগড়   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শক্তি বাড়লেও ত্রিখণ্ড আ. লীগ কোন্দলে নিস্তেজ বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের রাজনীতি বেশ সরগরম হয়ে উঠছে। গত ১০ বছরে এ জেলার রাজনীতির হিসাব-নিকাশ মেলালে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। তবে ভোটের রাজনীতিতে মনোনয়ন বিরোধে এরই মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মামলা-হামলা-কোন্দলে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা অনেক নাজুক। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চার বছর ধরে কমিটি না থাকায় বিচ্ছিন্নভাবে জেলা বিএনপির দুটি অংশ পৃথক নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।

সরব আওয়ামী লীগ

তিন মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে নির্বাচনী রাজনীতির উত্তাপ জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পদচারণে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো বেশ সরব। দোকানে চায়ের আড্ডা থেকে ভোটারদের দুয়ারে, সর্বত্র ছুটছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দেখা যাচ্ছে তাঁদের সরব উপস্থিতি। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড়-১ আসনে এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ শুরু করেছেন। জাতীয় দিবস ও গুরুত্বপূর্ণ দিনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ব্যানার-পোস্টারে ভোটারদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। রাস্তাঘাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানের আড্ডায় এখন সর্বাধিক আলোচনার বিষয় দলীয় মনোনয়ন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি এবার তরুণ নেতাদেরও মাঠে দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলের নেতাকর্মীদের নিজের পাশে ভেড়ানোর পাশাপাশি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে নেতাকর্মীরা। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে বিপাকে আছে দলটি। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ বর্তমানে তিন ভাগে বিভক্ত। এই বিভক্তি মূলত পঞ্চগড়-১ আসনকেন্দ্রিক। পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মজাহারুল হক প্রধান রয়েছেন এক গ্রুপে। আরেক গ্রুপে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট। এই দুই গ্রুপের মধ্যে নতুন মুখ হিসেবে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা নাঈমুজ্জামান মুক্তা। এই তিনজনই নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে পৃথক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন গ্রুপের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াইও রয়েছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রতীক পেতেই এই বিভক্তি।

পঞ্চগড়-১ আসনটি ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের পর এই আসনে জোটের প্রার্থী দেওয়ায় দলের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন তিনি। গত নির্বাচনে নৌকা এবং ধানের শীষ না থাকায় ১৪ দলের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আবু সালেককে পরাজিত করে নির্বাচিত হন জাসদের প্রার্থী নাজমুল হক প্রধান। আওয়ামী লীগের সংসদ  সদস্য না থাকায় গত পাঁচ বছরে এই আসনে জেলা আওয়ামী লীগের জৌলুস কিছুটা কমেছে।

তবে এবার নৌকা প্রতীক পেতে সাবেক সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান আগেভাগেই নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। প্রতিদিন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে উঠান বৈঠকের পাশাপাশি যোগাযোগ রাখছেন কেন্দ্রের সঙ্গে। অন্যদিকে নৌকা প্রতীক পেতে তৎপর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট। তিনি তাঁর বাবা নুরুল ইসলামের উত্তরসূরি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এদিকে হঠাৎ নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সাবেক কর্মকর্তা নাঈমুজ্জামান মুক্তার।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা জোরদার হয়েছে পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায়। এই আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পঞ্চগড়-২ আসনের বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন। তৃণমূল আওয়ামী লীগের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তবে অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে দেবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ। স্বাধীনতার আগে ও পরে পঞ্চগড়-২ আসনে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তাই এবার দাবি, এ আসনে দেবীগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. (অব.) শাহজাহান এবার পঞ্চগড়-২ আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তিনি প্রচার-প্রচারণাও চালাতে শুরু করেছেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি অংশ। এ ছাড়া পঞ্চগড়-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নের দাবিদার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ স ম নুরুজ্জামান।

জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের আক্ষেপ, গত ১০ বছর ক্ষমতায় থাকলেও অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের নিজস্ব কার্যালয় নেই। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অনেক সুবিধবাদী  লোক দলে ভিড়েছে। দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড নেতাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের দাবি, শীতের পাখি নয়; যারা দলের জন্য কাজ করে, এমন ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক। তা না হলে এ আসনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো নেতাকে যেন মনোনয়ন দেওয়া না হয়। আমরা চাই, যাঁরা দলের বিপদের সময় পাশে ছিলেন, দলের জন্য কাজ করেছেন, এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হোক।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, ‘আমি দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে আমি পঞ্চগড়-১ আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চাইব। তবে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, আমরা তা মেনে নেব।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পঞ্চগড়-২ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো বিভাজন আছে বলে আমি মনে করি না। তবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। আশা করি, নির্বাচনের সময় এসব থাকবে না। আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের জন্য কাজ করেছে। সব সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। তাই মানুষ নৌকা প্রতীককেই ভোট দেবে।’

নিস্তেজ বিএনপি :

পঞ্চগড়ের দুটি আসনকে একসময় বলা হতো বিএনপির দুর্গ। কিন্তু দলীয় কোন্দল ও কমিটি না থাকায় বিএনপির আগের সেই অবস্থা আর নেই। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা কিছুটা নড়েচড়ে বসলেও মাঠপর্যায়ে তৎপরতা নেই।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে দুটি আসনই নিজেদের দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক মারা যাওয়ার পর তাঁর পদটি নিয়ে শুরু হয় কোন্দল। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের এপিএস আব্দুল মজিদকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব আরো জটিল হয়ে ওঠে। এক গ্রুপে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অন্য গ্রুপে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পঞ্চগড়-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোজাহার হোসেন। ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর মোজাহার হোসেন মারা যাওয়ার পর এ গ্রুপের নেতৃত্বে আসেন পঞ্চগড় পৌর বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলাম। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর জেলা বিএনপির কমিটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল জেলা বিএনপির আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে অ্যাডভোকেট এ হাসান প্রধানকে আহ্বায়ক করে ১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটিকে ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করতে বলা হলেও তারা কমিটি গঠন করতে পারেনি। ৪৫ দিন পর আহ্বায়ক কমিটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর পর থেকে কমিটি ছাড়াই চলছে জেলা বিএনপি। দলীয় কার্যালয় এখন পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলামের সমর্থকদের দখলে। কোন্দলের কারণে দুই গ্রুপ পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে। আবার বেশির ভাগ দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের মাঠেও দেখা যায় না।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানায়, পুলিশি হয়রানি, নির্যাতনের কারণে তারা কর্মসূচিগুলো পালন করতে পারছে না। তবে পঞ্চগড় জেলায় বিএনপি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। ভেতরে ভেতরে তারা নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেক বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তৃণমূল বিএনপি মনে করে, এই দুই গ্রুপের কোন্দল মেটাতে পারেন একমাত্র ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি পঞ্চগড়-১ আসনে নির্বাচন করলে দুই গ্রুপই আবার এক হয়ে যাবে। তবে পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে নওশাদ জমিরকে মনোনয়ন দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি তৌহিদুল ইসলামও মনোনয়ন দাবি করবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পঞ্চগড়-২ আসনে একাধিকবার জয়ী সংসদ সদস্য মোজাহার হোসেনের মৃত্যুর পর পঞ্চগড়-২ আসনে শূন্যতা তৈরি হয়। এই আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ মনোনয়ন চাইছেন। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মোজাহার হোসেনের স্ত্রী নাদিরা আক্তার ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হামিদুল ইসলাম মনোনয়ন চাইছেন বলে জানা গেছে। এর বাইরে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা নিতীশ কুমার বকশি। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের মাঠ গুছিয়ে নেওয়ায় ব্যস্ত। যদিও প্রচার-প্রচারণায় তাঁদের তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।

পঞ্চগড় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রণিক বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে গেলে আমরা চাইব তৃণমূলের মতামত যাচাই করে যেন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।’

পঞ্চগড় পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার নির্বাচন করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। তবে তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার চেষ্টা করা হলে আমি নিজেও মনোনয়ন চাইব।’

জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘বড় দল হিসেবে আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আছে। এটা থাকবেই। ক্ষমতাসীন দল আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। তবে আমরা সবাই দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা মজবুত আছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে পঞ্চগড়ের একটি আসনও পাবে না আওয়ামী লীগ।’ 

উজ্জীবিত জাসদ : 

২০১৪ সালের নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের প্রার্থী নাজমুল হক প্রধান জয়লাভ করার পর জেলায় জাসদ উজ্জীবিত হতে শুরু করে। বিভিন্ন দল থেকে কর্মীরা জাসদে ভিড়তে শুরু করে। দলীয় দ্বন্দ্বে জাসদ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আম্বিয়া-নাজমুল গ্রুপের জাসদের নতুন নাম বাংলাদেশ জাসদ। এই আসনে মহাজোটের হয়ে মনোনয়ন পেতে মরিয়া পঞ্চগড়-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান। তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনও হবে জোটবদ্ধভাবে। জোট থেকে মনোনয়ন দিলেও তিনি নির্বাচন করবেন, না দিলেও তিনি পঞ্চগড়-১ আসনে  নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। পঞ্চগড়-২ আসনে বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আল আমিনকে।

জাতীয় পার্টি : 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা জাতীয় পার্টি দলটির শীর্ষ নেতার নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই কাজ করবে নেতাকর্মীরা। তবে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর আগেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। তিনি বলেন, ‘নেতা আমাদের মাঠে থাকতে বলেছেন, বাকিটা উনি দেখবেন।’

জামায়াত :

জেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনেক সমর্থক থাকলেও বর্তমানে কেউ পরিচয় দিচ্ছেন না। দলের নেতারা বিভিন্ন মামলায় জেল-বাহির করছেন। এর মধ্যেই কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন নেতারা। বরাবরই পঞ্চগড়ের দুটি আসন দাবি করে আসছে জামায়াত। জামায়াত নেতাদের মধ্যে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক পঞ্চগড়-১ আসনে এবং বোদা উপজেলার জামায়াত নেতা সফিউল্লাহ সুফি পঞ্চগড়-২ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। মাঠে ময়দানে তেমন প্রচার-প্রচারণা না দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে তাঁরা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, ‘রাজনীতি করলে মামলা থাকবেই। আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থায় যাব।’

জাগপা :

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান পঞ্চগড়ে জাগপাকে বেশ সংগঠিত করেছিলেন। সব শ্রেণির মানুষের কাছেই জনপ্রিয় এই নেতা। জানা যায়, পঞ্চগড়ে বিএনপির একটি বড় ভোট জাগপার সমর্থকদের কাছ থেকে আসে। জাগপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান মারা যাওয়ার পর পঞ্চগড়ের দুটি আসনই ২০ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে দাবি করছে জাগপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান।

এ ছাড়া পঞ্চগড়ে কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্য দলগুলোর তেমন তৎপরতা দেখা যায় না। বছরে হঠাৎ হঠাৎ দু-একটি অনুষ্ঠানে তাদের দেখতে পাওয়া যায়।



মন্তব্য