kalerkantho


বাবরের পক্ষে আইনি বিষয়ে যুক্তি আজও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাবরের পক্ষে আইনি বিষয়ে যুক্তি আজও

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক শুনানি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান শুনানি করেন। শুনানি শেষ না হওয়ায় আজ বুধবারও বাবরের পক্ষে শুনানি হবে। এটি শেষ হলেই আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হবে। এরপর আইনি বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানির মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ মামলার বিচার কার্যক্রম।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ  গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের তখনকার মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন। গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন ঢাকার তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। কয়েক বছর ধুঁকে ধুঁকে পরে তিনি মারা যান।

ওই হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে রাজধানীর নাজিমুদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ এজলাসে। মামলার অন্যতম আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয় গত ২৯ আগস্ট। বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন শুনানি গ্রহণ করছেন।

গতকাল যুক্তিতর্ক শুনানির ১১৩তম দিন অতিবাহিত হয়েছে। গত বছর ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়েছিল। প্রথমে শুনানি করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে আসামিপক্ষ শুনানি করে।

আসামি বাবরের পক্ষে আইনজীবী এস এম শাহজাহান গতকাল বলেন, মামলায় বাবরের বিরুদ্ধে অপরাধজনক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে লুৎফুজ্জামান বাবর ২১ আগস্ট হামলার ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না। সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণে বাবরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে।

আইনজীবী শাহজাহান বলেন, অপরাধজনক ষড়যন্ত্রের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। এ মামলার অন্যতম আসামি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের একটি স্বীকারোক্তির জের ধরে বাবরকে জড়ানো হয়েছে। কিন্তু মুফতি হান্নানের ওই স্বীকারোক্তি আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আসামি মুফতি হান্নান অন্য এক মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে কারাগারে কনডেম সেলে ছিলেন। তাই যেকোনো কথা তিনি বলতে পারেন। তাঁকে দিয়ে যা খুশি তাই বলানো সম্ভব ওই সময়ে।

আইনজীবী আরো বলেন, ঘটনার পরে কেউ অপরাধজনক ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করলে সেটা গ্রহণীয় হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি অন্য একটি মামলায় আপিল বিভাগের রায় তুলে ধরেন। ওই মামলায় বজলু নামের এক আসামি ঘটনার পরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে অপরাধজনক ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। আপিল বিভাগ সেটা গ্রহণ করেননি এবং ওই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেওয়া যাবে না বলে উল্লেখ করেন। আইনজীবীর দুই ঘণ্টা বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল আজ সকাল পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় ২২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ওই সাক্ষীদের জেরা করেছেন ৫০ জন আসামির আইনজীবী। এ কারণে মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগছে। এ ছাড়া বিচার বিলম্বিত করার জন্য আসামিরা বারবার উচ্চ আদালতে বিভিন্ন আবেদন করেন। এ কারণে প্রায় তিন শ কার্যদিবস নষ্ট হয়েছে। এখন মামলা দ্রুতই নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মামলা নিষ্পত্তির দিকে এগোলেও চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি খান সাইদ হাসান, সাবেক পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান, মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ১৮ জন এখনো দেশ-বিদেশে পালিয়ে আছেন।



মন্তব্য