kalerkantho


টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ

ভূঞাপুর ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি    

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ

হেলপার নাজমুল

টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর রুপা ধর্ষণ ও হত্যার বছর না ঘুরতেই আবারও বাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে পাথাইলকান্দি বাসস্ট্যান্ডে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। তাঁর বয়স আনুমানিক (২৮) বছর। বাসটির নম্বর যশোর-ব-৪৪২। এ ঘটনায় পুলিশ বাসের হেলপার নাজমুলকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। তবে বাসের চালক আলম খন্দকার (৪৫) পালিয়ে যায়। নাজমুল ভূঞাপুর উপজেলার ৩ নম্বর পুনর্বাসন এলাকার আতোয়ার হোসেনের ছেলে। আর আলম খন্দকার একই এলাকার ইন্নছ আলীর ছেলে।

মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারীকে ধর্ষণের দায়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এসআই নুরে আলম বাদী হয়ে বাসের চালক ও হেলপারকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে হেলপার নাজমুল ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ধর্ষিতা নারীকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা অফিসার ইনচার্জ মোশাররফ হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে একটি লোকাল বাস যাত্রী নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পাথাইলকান্দি বাসস্ট্যান্ডে আসে। বাসের চালক আলম খন্দকার টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে ঘুরতে থাকা ওই প্রতিবন্ধী নারীকে গাড়িতে তুলে নিতে বলে। হেলপার নাজমুল তাঁকে গাড়িতে তুলে পেছনের আসনে বসিয়ে রাখে। গাড়ির সব যাত্রী নেমে গেলে বাসের চালক আলম খন্দকার ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এ সময় হেলপার নাজমুল গেট আটকে পাহারায় থাকে। এ সময় মহিলার চিৎকারে পাথাইলকান্দি বাজারের পাহারাদার গাড়ির কাছে গিয়ে ঘটনা দেখতে পান। তিনি টহলরত পুলিশকে জানান। টহল পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে বাসের হেলপার নাজমুলকে আটক করে। কিন্তু ধর্ষক আলম জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি অস্পষ্টভাবে তাঁর নাম এবং কুষ্টিয়া ও মিরপুর বলতে পারেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কবিরুল হক জানান, ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান আসামি আলমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কোর্ট ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ওই নারীকে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুজ্জামানের আদালতে হাজির করা হয়। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় আদালত তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করতে পারেননি। তাঁর নিকটাত্মীয়স্বজন না থাকায় তাঁকে গাজীপুরের পুবাইলে সরকারি মহিলা আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ওই নারীর সব মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে বাসে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের মানবাধিকারকর্মীরা। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। পলাতক অন্য আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন টাঙ্গাইল শাখার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস আকবর খান বলেন, বাসে নারীর নিরাপত্তার দায়িত্ব চালক, হেলপার, সুপারভাইজারদের। অথচ তারাই নারী নির্যাতন করছে। একাধিকবার এ রকম ঘটনা ঘটছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।



মন্তব্য