kalerkantho


বাইকের দুই আরোহী পিষে দোকানে ছাত্রীর ওপর বাস

তিনজনই শেষ, বাস চালাচ্ছিল হেলপার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



বাইকের দুই আরোহী পিষে দোকানে ছাত্রীর ওপর বাস

রাজশাহীতে বাসের চাপায় মুমূর্ষু স্কুলছাত্রী আনিকাকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন বাবাসহ স্বজনরা; শেষরক্ষা হয়নি। ছবি : সালাহ উদ্দিন

এ্যারো বেঙ্গল। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে চলাচল করে বাসটি। গতকাল বুধবার সকালে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসটির স্টিয়ারিং ধরেছিল চালকের সহকারী (হেলপার)। তখন বাস ছেড়েছে পাঁচ মিনিটও হয়নি। নগরের ভেতরেই বাসটি চলছিল নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে। যা হওয়ার তাই হলো। রাজশাহী নগরের নওদাপাড়া বাজার এলাকায় পৌঁছতেই হেলপার সড়কের পাশের বইয়ের দোকানে বাসটি ঢুকিয়ে দিল। এতেই নিভে যায় তিন প্রাণ। তাদের মধ্যে একজন স্কুলছাত্রী, অন্য দুজন ডিশ ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় আরেক  স্কুলছাত্রীসহ চারজন আহত হয়েছে। তাদের সবাইকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরই চালকের সহকারী (হেলপার) পালিয়ে যায়। তবে সন্ধ্যার দিকে প্রধান চালক জনিকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলো রাজশাহী নগরের নওদাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও নওদাপাড়ার ভাড়ালিপাড়া এলাকার রুস্তম আলীর মেয়ে আনিকা খাতুন (১৩), শাহ মখদুম থানা মোড় এলাকার ইসলামের ছেলে ডিশ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন পিঙ্কু (২৪) এবং মোহাম্মদ আলীর ছেলে সবুজ ইসলাম (৩২)। আহতদের মধ্যে রিতু খাতুন (১৫) নিহত আনিকার বোন। আহত অন্যদের পরিচয় তাত্ক্ষণিক জানা যায়নি।

নগরের শাহ মখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, ওই ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। উত্তেজিত জনতা প্রায় এক ঘণ্টা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। তবে বাসটি চালক না হেলপার চালাচ্ছিল সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে ‘এ্যারো বেঙ্গল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজশাহী থেকে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিল। পথে নওদাপাড়া বাজার এলাকায় পৌঁছলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ‘লাবিবা লাইব্রেরী’ নামের একটি বইয়ের দোকানে ঢুকে পড়ে। এ সময় সড়কের পাশে ফুটপাতে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ডিশ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন পিঙ্কু ও সবুজ হোসেন নিহত হয়। আহত হয় আরো পাঁচজন। তাদের মধ্যে দুই স্কুলছাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে বাসটি পাশের ‘জাহাঙ্গীর ট্রেডার্স’ নামের দোকানের দেয়ালের সঙ্গে আটকা পড়ে। এতে দেয়াল ও বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে দুই বোন আনিকা ও রিতু। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বাসটি সরিয়ে ওই দুই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পরে আনিকা মারা যায়।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন। প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মালেক বলেন, বাসটি চালাচ্ছিল হেলপার। এ ছাড়া বাসটির গতিও অনেকটা বেশি ছিল। এ কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে।

চুয়াডাঙ্গায় দোকানে ঢুকল ট্রাক, নিহত ১ : এদিকে চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার দৌলাতদিয়াড় গ্রামে গতকাল  বুধবার দুপুরে ট্রাকের ধাক্কায় পরিবহন শ্রমিক শফিকুল ইসলাম (২৫) নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরো দুই পরিবহন শ্রমিক। এ ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনার সময় হতাহতরা সড়কের পাশের একটি দোকানের মাচায় বসে ছিল।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খান জানান, দুপুর ২টার দিকে মেহেরপুরের দিক থেকে একটি ট্রাক চুয়াডাঙ্গায় আসার সময় দৌলাতদিয়াড় গ্রামে পৌঁছাতেই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় ট্রাকটি সড়ক ছেড়ে পাশের একটি দোকানের মাচায় বসে থাকা তিন পরিবহন শ্রমিককে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে মারা যায় পরিবহন শ্রমিক শফিকুল ইসলাম। আহত হয় পরিবহন শ্রমিক আল আমিন ও বেল্টু হোসেন।

কুলিয়ারচরে অটোরিকশার তিন যাত্রীর মৃত্যু : এদিকে হাওরাঞ্চল থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে কোনাপাড়ায় ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিহতরা হচ্ছেন বাজিতপুরের পুরানখোলার ইদু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (১৮) ও ভৈরবের মিরারচরের বাহার মিয়া (৫০)। অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি। তবে জিন্নত আলী নামের এক যাত্রী লাফ দিয়ে পড়ে গিয়ে গ্রাণে বেঁচে গেছেন। তিনি নিহত বাহারের ছোট ভাই।

পুলিশ জানায়, নিহত আবুল হোসেন অটোরিকশার চালক ছিলেন। তবে তাঁর নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং গাড়িটিও ছিল অনিবন্ধিত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, পাঁচ যাত্রী নিয়ে ভৈরবের দিক থেকে চালক অটোরিকশা নিয়ে কটিয়াদীর দিকে যাচ্ছিল। কুলিয়ারচরের আগরপুর বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে অটোরিকশাটি কোনাপাড়ার কাছে যেতেই বিপরীত দিক কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তিনজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 



মন্তব্য