kalerkantho


বাঙালির কান্নার দিন আজ

জাতীয় শোক দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



বাঙালির কান্নার দিন আজ

আজ শোকাবহ ১৫ই আগস্ট, বাঙালি জাতির শোকের দিন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত দিন এটি। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল বিপথগামী একদল সেনাসদস্য। পেছনে ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। আজ জাতীয় শোক দিবস।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরের আলো ফোটার আগেই ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে ঐতিহাসিক বাড়িটিতে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল তাঁর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল এবং বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে। দেশের বাইরে থাকায় সেদিন বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সেই কালরাতে আরো প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনিসহ বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয়। বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে গিয়ে ঘাতকদের হাতে প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁর সামরিক সচিব জামিল উদ্দীন আহমেদসহ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও কর্মচারী। জাতি আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে সেই শহীদদের।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন।

জাতীয় শোক দিবস সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন। এবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে দিবসটি। আজ সরকারি ছুটি।

সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ই আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবনসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে আলোচনাসভা। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ওই সময় সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এ ছাড়া ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ফাতেহা পাঠসহ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন থাকছে সেখানে। পরে বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতার পরিবারের শাহাদাতবরণকারী সদস্যসহ অন্য শহীদদের কবর রয়েছে সেখানে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। সমাধিস্থলে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশে মসজিদগুলোতে বাদ জোহর বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সর্বস্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন; সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ; সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ই আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল; সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষে জাতীয় নেতারা এতে উপস্থিত থাকবেন।

দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। এ ছাড়া অসচ্ছল, এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ; বাদ আসর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এ ছাড়া পরদিন বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভার আয়োজন করেছে দলটি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে এসব কর্মসূচি পালন করার জন্য দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

টুঙ্গিপাড়ায় তিন স্তরের নিরাপত্তা

আমাদের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আজ বুধবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গোপালগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান জানান, শোক দিবস পালন উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় আসবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আগমন উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়াসহ গোপালগঞ্জে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, ডিবি, র‌্যাবের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানি ভাবাদর্শে ফেরাই ছিল লক্ষ্য

বঙ্গবন্ধুর লেখা নিয়ে বেরোচ্ছে আরো ৩ বই



মন্তব্য