kalerkantho


সম্পর্ক অবনতি হওয়ার শঙ্কা নাকচ ভারতের

আসামে নাগরিক তালিকা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তালিকা প্রকাশের আগে ও পরে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



সম্পর্ক অবনতি হওয়ার শঙ্কা নাকচ ভারতের

আসাম রাজ্যে নাগরিক তালিকা প্রণয়ন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা দেখছে না ভারত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার আসামে খসড়া ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি)’ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দেশটির অবস্থান তুলে ধরেন।

রবিশ কুমার জানান, আসামের এনআরসির খসড়া প্রকাশের আগে ও পরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ হয়েছে। বাংলাদেশও বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ রাখছি। খসড়া এনআরসি প্রণয়ণের আগে ও পরে—উভয় ক্ষেত্রেই আমরা বারবার বাংলাদেশ সরকারকে আশ্বস্ত করেছি যে এটি এখনো খসড়া তালিকা। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে এটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। আসামের নাগরিকদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এখনো চলমান।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার যে অভিমতটি গ্রহণ করেছে তা হলো যে চলমান প্রক্রিয়া (এনআরসি) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কে কোনো আশঙ্কা আমরা দেখছি না।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই সাংবাদিকরা এনআরসি বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেন। প্রথম প্রশ্নটি ছিল, ‘আসামে এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য ভারত সরকারের আমন্ত্রণে ভারতে এসেছিলেন এবং পররাষ্ট্র

 প্রতিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রতিমন্ত্রীরা তাঁকে বলেছেন যে আসামে যাদের অবৈধ অভিবাসী ঘোষণা করা হবে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে না। এটি কি ভারতের সরকারি ও দাপ্তরিক অবস্থান?’ এরপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘ভারত সরকার কি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এনআরসি বিষয়ে আলোচনা বা যোগাযোগ করেছে?’ আরেকজন সাংবাদিক বলেন, ‘এক সময় এনআরসি প্রক্রিয়া শেষ হবে। কিছু লোককে অবৈধ ও ভারতের নাগরিক নয় বলে ঘোষণা করা হবে। তাদের কি বাংলাদেশে পাঠানো হবে?’ নেপালে সম্ভাব্য বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকেও এনআরসি নিয়ে আলোচনা হবে কি না, তাও জানতে চান সাংবাদিকরা।

ওই সব প্রশ্ন শুনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমি স্পষ্ট বলতে চাই, এ বিষয়ে খুব বেশি জল্পনা-কল্পনা করা ঠিক হবে না।’

নেপালে বিমসটেক সম্মেলনে শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে এনআরসি ইস্যুতে আলোচনা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে রবিশ কুমার বলেন, ‘এটি একটি অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। প্রথমে তাদের (নেপাল) বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন ঘোষণা করতে হবে। এরপর আমাদের (ভারতের) জানাতে হবে যে কে (ভারত থেকে) যাচ্ছেন। এরপর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের বিষয় আসবে। এরপর বলা যাবে কী আলোচনা হতে যাচ্ছে।’

আসামের তিন কোটি ২৯ লাখ বাসিন্দা নিজেদের ভারতীয় বলে দাবি করে এনআরসিতে নাম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। এরই মধ্যে দুই দফায় প্রকাশিত খসড়া এনআরসিতে দুই কোটি ৮৯ লাখ বাসিন্দাকে প্রকৃত নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৪০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা এখনো এনআরসিতে নাম দেখার অপেক্ষায় আছে।

গত ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় এনআরসির খসড়া প্রকাশের পর ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেছেন, এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

 



মন্তব্য