kalerkantho


বরিশাল

নৌকায় ভোট চাইছেন সরকারি চাকুরেরাও

রফিকুল ইসলাম ও আজিম হোসেন, বরিশাল   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নৌকায় ভোট চাইছেন সরকারি চাকুরেরাও

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ছিল গত ১৪ জুলাই। বরিশাল সদর হাসপাতাল ও তার আশপাশের টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশু সন্তানদের ভিটামিন খাওয়াতে ভিড় জমান নারীরা। শিশুদের ভিটামিন খাওয়ানোর ফাঁকেই টিকাদান কেন্দ্রের কর্মীরা সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন ওই নারীদের কাছে। কথায় কথায় কর্মীরা আরজি জানাচ্ছেন যাতে ওই নারীরা ৩০ জুলাই নৌকা প্রতীকে ভোট দেন। তাহলে নগরের উন্নয়ন হবে বলেও উল্লেখ করেন তাঁরা। একইভাবে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনেক স্বাস্থ্য সহকারী এবং মাঠপর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনার অনেক মাঠকর্মীও সেবাপ্রার্থীদের কাছে তুলে ধরছেন  সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা। সেই সঙ্গে পরামর্শ দিচ্ছেন নৌকায় ভোট দিতে।

একই চিত্র স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ অফিস এবং অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারেও। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নামকরা চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বার নগরীর বিবিরপুকুর পাড়ে। সেখানে বসে রোগীকে পরীক্ষা করার ফাঁকে ভোট নিয়ে কথা বলেন অনেক চিকিৎসক। আওয়ামী লীগ সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতে যাতে আরো উন্নয়ন করতে পারে সে জন্য ভোটটা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে দেওয়া উচিত বলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি বিএম কলেজসহ বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কৌশলে কাজ করছে সরকার সমর্থক শিক্ষক সংগঠন ও কর্মচারী সংঘ। অনেক শিক্ষক নতুন ভোটার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথার ছলে প্রথমে তার পছন্দের প্রার্থীর কথা জেনে নিচ্ছেন। মনমতো হলে পুরো পরিবারকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে রাজি করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

এসব দেখে স্থানীয় অনেক দিনমজুর ও গৃহবধূ বলছেন, কোনো নির্বাচনেই নানা পেশার এত বেশি লোককে এমন কৌশলে কোনো দলের পক্ষে কাজ করতে দেখেননি তাঁরা।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীও স্বাধীনতার সপক্ষের। তাই চিকিৎসকরা নির্বাচনী আচরণবিধি ও চাকরিবিধি মেনেই নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। যোগ্য ও উন্নয়নের অঙ্গীকারবদ্ধ প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করাও সেবা। চিকিৎসকরা তাঁদের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে কেন নির্বাচিত করা উচিত সে বিষয়ে বোঝাচ্ছেন।’

বিদ্যুৎ কর্মচারী লীগ সভাপতি মো. বাবুল বলেন, ‘আমাদের ১০টি টিম নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে। তারা সেবাগ্রহীতাদের বোঝাচ্ছে কেন নৌকায় ভোট দিতে হবে। এর বাইরেও অফিস শেষে নিজেদের স্বজন ও বন্ধুদের বাসভবনে গিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছে।’ তিনি জানান, তাদের ১০ টিমে ১৫০ জন সদস্য রয়েছেন, যাঁরা ভোটার। আর তাঁদের পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আরো দুই হাজারের বেশি ভোট রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক মো. হানিফ বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অবদান সবচেয়ে বেশি। শিক্ষক ও কর্মচারীদের সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিয়েছে বর্তমান সরকার। তাই শিক্ষকরা নিজে থেকেই উৎসাহিত হয়ে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তিনি জানান, বরিশাল সিটিতে তাদের বেশ কয়েকটি টিম নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত নতুন ভোটারদের তারা নৌকায় ভোট দিতে অনুরোধ করছে।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের জেলা সভাপতি, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে আজাদ ফারুক জানান, তাঁদের মোট সাতটি টিম নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। টিমের সদস্য ১৫০ জন। তাঁরা কর্মস্থলে গল্পের ছলে নৌকার পক্ষে সহকর্মীদের কাছে ভোট চাইছেন। এর বাইরেও তাঁদের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে অফিসে সেবাগ্রহীতা বা তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা লোকজনের কাছে কৌশলে নৌকায় ভোট চাইতে। অফিস ছুটি হলে তাঁদের বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছেন এ টিমগুলোর সদস্যরা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সরকার দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, যাতে সরকারি অফিসে জনগণ হয়রানির শিকার না হয়। সে কারণেই সরকারি চাকরিজীবীরা যে যাঁর অবস্থানে থেকে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছেন।



মন্তব্য