kalerkantho


‘বন্দুকযুদ্ধে’ এমপি বদির বেয়াইসহ নিহত ১০

মাদকবিরোধী অভিযানে ২২ দিনে নিহত ৬৭

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



‘বন্দুকযুদ্ধে’ এমপি বদির বেয়াইসহ নিহত ১০

সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে গত ২২ দিনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ৯ জেলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। তাদের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফে নিহত হয়েছেন বিতর্কিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বেয়াই আকতার কামাল। এ ছাড়া নেত্রকোনায় দুই এবং রাজধানী ঢাকা, কক্সবাজার, শেরপুর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও গাইবান্ধায় একজন করে রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ছাড়া বাকি অভিযানগুলো পরিচালনা করেছে পুলিশ। পৃথক এসব ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র। অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশের পক্ষ থেকে এসব ঘটনার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা মোটামুটি একই ধরনের। বলা হয়েছে, নিহত প্রত্যেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশ অভিযান চালালে টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব-পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে সৃষ্ট বন্দুকযুদ্ধে মাদক কারবারিরা নিহত হয়।

এদিকে নিহতদের অনেকের পরিবারের অভিযোগ, তাদের স্বজনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে আগেভাগেই বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের গুলিতে হত্যা করে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হয়।

মাদকের বিরুদ্ধে গত ৪ মে সারা দেশে শুরু হয়েছে র‌্যাব-পুলিশের বিশেষ অভিযান। চলমান এ অভিযানে গত ২২ দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ জন। নিজস্ব প্রতিবেদক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত।

কক্সবাজার : টেকনাফে নাফ নদের তীরে ইয়াবা ঘাটের প্রতাপশালী কারবারি আকতার কামাল মেম্বার কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। তিনি উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের বিতর্কিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং পারিবারিক সম্পর্কে বেয়াই হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসী জানায়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচার করে আনা ইয়াবার চালান নাফ নদের তীরে খালাসের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আকতার কামাল।

নিহতের ভগ্নিপতি সুলতান আহমদ মেম্বার কালের কণ্ঠকে জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাড়ি থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্য পরিচয়ে কয়েক ব্যক্তি আকতার কামালকে তুলে নিয়ে যান। সারা রাত খোঁজ করেও তাঁরা কোনো হদিস পাননি। কোনো সংস্থার সদস্যরাও স্বীকার করেননি তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা। শেষ পর্যন্ত গতকাল সকাল ৬টার দিকে তাঁরা খবর পান যে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় গুলিবিদ্ধ আকতার কামালের লাশ পড়ে আছে। পরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল ভোর ৫টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়িতে আকস্মিক গোলাগুলির আওয়াজ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাস্থলে একটি কাটা বন্দুক, চার হাজার পিস ইয়াবা ও বন্দুকের দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। উপস্থিত লোকজন শনাক্ত করে বলে, নিহত ব্যক্তি টেকনাফের ইয়াবা কারবারি আকতার কামাল মেম্বার।

টেকনাফ থানার ওসি জানান, সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিগত তিন বছরের তালিকায় টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারি ও মানবপাচারকারি হিসেবে পরিচিত আকতার কামাল ও তাঁর ভাই শাহেদ কামালের নাম রয়েছে।

ঢাকা : বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তেজগাঁওয়ে বিজি প্রেস এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কামরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবক নিহত হন। গত ৪ মে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর ঢাকা মহানগর এলাকায় এমন ঘটনা এটাই প্রথম।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেন, নিহত কামরুল তেজগাঁও রেললাইন বস্তি ও মহাখালীর সাততলা বস্তি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে  মাদক ও অস্ত্র আইনে ১৫টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন হাজার পিস ইয়াবা, বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-২ উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ আলী বলেন, কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মাদক বিক্রির জন্য জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে র‌্যাবের টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালালে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় র‌্যাবের ডিএডি রুহুল ও এসআই মালেক আহত হন। আর মাদক ব্যবসায়ী কামরুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাব-২-এর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কামরুল আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা রাত সোয়া ১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বাবার নাম মানিক মিয়া। মহাখালীর দক্ষিণপাড়ায় তার বাসা।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তাদের একজনের নাম ওসমান (৩০), বাবার নাম হোসাইন। বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। অন্যজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে পুলিশ ধারণা করছে, নিহত অন্যজনের বাড়িও ওই এলাকায়ই হবে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, সদর উপজেলার মনাং ইটভাটার পাশের বাগানে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুপক্ষে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত এবং তিন পুলিশ আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি পাইপগান, ৭০৫ গ্রাম হেরোইন ও তিন হাজার পাঁচ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, নিহত দুজনই মাদক ব্যবসায়ী।

শেরপুর : পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। নিহত আজাদ (২৮) ওরফে কালু ডাকাত সদর উপজেলার মরাকান্দি খাসপাড়া গ্রামের মৃত মনতাজ আলীর ছেলে। গতকাল ভোরে সদর উপজেলার পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের পারসংলগ্ন ঘুঘুরাকান্দি সড়কের সাতপাকিয়া নামক স্থানে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পাইপগান, তিন রাউন্ড গুলি, ৪৫০ পিস ইয়াবা, ২০ গ্রাম হেরোইন ও ১৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। অভিযানকালে আহত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ, কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা ও সাইফুলকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম জানান, নিহত কালু একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র, চুরি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ২১টি মামলা রয়েছে।

তবে কালুর স্ত্রী শিউলী বেগম ও বোন চরপক্ষীমারী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ কালুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ডিবি পুলিশের নামে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়।

ঝিনাইদহ : কালীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শামীম সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া ওয়াপদা রোড এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও বেশ কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, উপজেলার আড়পাড়া ওয়াপদা রোড এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একদল পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।  ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শামীমের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় ৯টি মাদকের মামলা রয়েছে।

সাতক্ষীরা : মাদক ভাগাভাগি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইউনুস আলি দালাল নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বড়ালি রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শ্যুটারগান ও ৭০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করেছে।

কলারোয়া থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টায় তার কাছে খবর আসে যে বড়ালি সীমান্তে মাদক চোরাচালানিদের দুই গ্রুপ মাদক ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি এবং সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। টহল পুলিশের একটি দল নিয়ে উপপরিদর্শক সোলায়মান হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশ একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তারা জানতে পারে যে নিহত ব্যক্তির নাম ইউনুস আলী দালাল। এদিকে নিহতের স্ত্রী হলিমা খাতুনের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে পুলিশ এসে তাঁর স্বামীকে ডেকে নিয়ে যায়। গতকাল সকালে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর স্বামী গুলিতে মারা গেছে।

ময়মনসিংহ : কথিত বন্দুকযুদ্ধে ময়মনসিংহে রাজন মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওসি আশিকুর রহমানসহ দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন।

ওসি আশিকুর বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর পুরোহিতপাড়ায় কতিপয় মাদক বিক্রেতার মাদক ভাগাভাগি করার খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাজন নামের এক মাদক কারবারির বুকে গুলি লাগে। তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪২০ পিস ইয়াবা ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাজনের নামে থানায় মাদক আইনে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

কুমিল্লা : বুড়িচংয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কামাল হোসেন ওরফে ফেনসি কামাল নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল মাদক। নিহত কামাল কুমিল্লা সদর উপজেলার রাজমঙ্গলপুর গ্রামের মৃত হিরন মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন বলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বুড়িচং থানা পুলিশের যৌথ অভিযানকালে রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা-বুড়িচং সড়কের মহেশপুরে মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হয়। ঘটনাস্থল থেকে মাদক কারবারি ফেনসি কামালকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসাপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া আহত অবস্থায় কামালের সহযোগী মাদক কারবারি সদর উপজেলার ছাওয়ালপুর গ্রামের হানিফ মিয়া ও চান্দিনার কোরপাই গ্রামের ইলিয়াছকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া কুমিল্লায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ ছয় মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গাইবান্ধা : পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে জুয়েল মিয়া (৪৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গতকাল ভোরে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাটে এই বন্দুকযুদ্ধকালে তিন পুলিশও আহত হয়।  পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, দুই রাউন্ড গুলি ও পাঁচ শতাধিক পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। নিহত জুয়েল গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোড কালীবাড়ী সংলগ্ন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার নছিম উদ্দিন ওরফে নছিম ড্রাইভারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় কমপক্ষে এক ডজন মামলা রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, এলাকায় মাদকসম্রাট হিসেবে পরিচিত জুয়েল জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ গতকাল ভোরে ধাওয়া করলে সে বালাসীঘাট সড়ক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ফুলছড়ি থানা পুলিশ বিপরীত দিক থেকে তাকে ধাওয়া করলে সে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে জুয়েল নিহত হয়।



মন্তব্য