kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

খালেদার জামিন বহাল থাকলেও মুক্তি মিলছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



খালেদার জামিন বহাল থাকলেও মুক্তি মিলছে না

ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য তিন বিচারপতি হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদন খারিজ করে এ রায় দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে আদালত এ মামলায় জামিন মঞ্জুর করলেও এখনই মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার। তাঁর আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য মতে, হত্যা, বিস্ফোরক দ্রব্যসহ আরো ছয়টি মামলায় জামিন পেলে তবেই মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

আদালত আদেশে বলেন, উভয় আবেদন খারিজ করা হলো। পেপারবুক প্রস্তুত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হলো। গতকাল সকাল ৯টা ৫ মিনিটে আদালত এ রায় দেন। মাত্র এক মিনিটেই এই রায় ঘোষণা করা হয়।

এদিকে গতকাল সকালে দেওয়া রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীর মৌখিক আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় তাড়াতাড়ি দিয়ে দেওয়া হবে। সংক্ষিপ্ত আদেশ চাওয়াকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীর একটি বক্তব্যে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা দলবল দেখে আদেশ দিই না।’ পরে এ জে মোহাম্মদ আলী নিজের বক্তব্যের জন্য আদালতে দুঃখ প্রকাশ করেন।

আদালতের রায়ের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেলেও এ মুহূর্তে কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। তাঁকে আরো ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে ওই সব মামলায় জামিন নিতে হবে। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপিল বিভাগের আজকের এই রায়ের পর খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন  বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে প্রধান বাধা সরকার।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, মূল আপিলের পেপারবুক প্রস্তুত আছে। তাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পর হাইকোর্টে আপিল শুনানির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যত দ্রুত সম্ভব আপিলের শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁরা বলেন, আপিল বিভাগের রায় প্রতিপালন করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, যেদিন হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিলেন সেদিন থেকেই চার মাস গণনা শুরু হবে। তবে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের কারণে যত দিন স্থগিত ছিল সে কয়দিন বাদ দিয়েই চার মাস গুনতে হবে। তিনি বলেন, ‘আজ আপিল বিভাগ আমাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। তাই আজ থেকে আবার গণনা শুরু হবে।’ 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ বিচার শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি ৪৪টি যুক্তি তুলে ধরে আপিল আবেদন (১৬৭৬/২০১৮) দাখিল করেন খালেদা জিয়া। এ আপিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের দেওয়া জরিমানার রায় স্থগিত করেন। এ ছাড়া দুদক সাজা বাড়াতে আপিল করে। এ আবেদন আদালত গ্রহণ করে রুল জারি করেন। পরে চার যুক্তিতে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এ জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনে গত ১৪ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেন। পরে ১৮ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ জামিন স্থগিত করেন। সর্বশেষ হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে ১৯ মার্চ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এ অবস্থায় দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গতকাল খারিজ করার মধ্য দিয়ে স্থগিতাদেশ বাতিল হয়ে যায়।

গত ৯ মে শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন ১৫ মে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণার আগ মুহূর্তে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে নতুন করে শুনানির আবেদন জানান। আদালত তাঁকে শুনানির অনুমতি দেন। এরপর গতকাল আদালতের শেষ সময় পর্যন্ত শুনানি করেন। ফলে আদালত রায়ের দিন পিছিয়ে গতকাল বুধবার দিন নির্ধারণ করেন। এ অবস্থায় গতকাল নির্ধারিত দিনে সকালেই রায় দিলেন আদালত।

গতকাল জামিনের রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথসহ অনেক আইন কর্মকর্তা। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, আবদুর রেজাক খান, নিতাই রায় চৌধুরী, বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল, নওশাদ জমির, আমিনুল ইসলাম, কায়সার কামাল, মীর হেলালউদ্দিন, সগির হোসেন লিওন, এহসানুর রহমান প্রমুখ আইনজীবী। এ ছাড়া রায় শোনার জন্য গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। 

দলবল দেখে আদেশ দিই নাপ্রধান বিচারপতি

জামিনের রায় শোনার পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তাঁরা গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী কনিষ্ঠ কয়েকজন আইনজীবী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, কায়সার কামাল, মীর হেলালউদ্দিন, অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা সোমাকে নিয়ে প্রধান বিচারপতির আদালতে উপস্থিত হন। এ খবর পেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতে উপস্থিত হন। এরপর এ জে মোহাম্মদ আলী রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের অংশের জন্য আরজি জানান। তিনি বলেন, ‘রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের অংশ চাচ্ছি। শুধুই রায়ের আদেশের অংশ আগে দিলে জামিননামা দাখিল করতে পারব।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা কয়েক দিনের মধ্যেই, তাড়াতাড়ি রায় দিয়ে দেব।’ অ্যাটর্নি জেনারেল খালেদা জিয়ার আইনজীবীর আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া তো আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার আছেন। তাই...।’ এ সময় আদালত বলেন, সংক্ষিপ্ত আদেশ দিলেই কি মুক্তি দেবে? জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দিতে পারে। তবে না দিলে তো কিছু বলার নেই।’ তিনি এ সময় হাইকোর্ট বিভাগের বিধি দেখিয়ে বলেন, হাইকোর্ট বিভাগে সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ সময় আদালত বলেন, ‘এই বিধি কি আমাদের জন্য মানা বাধ্যতামূলক?’ জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘না।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার বিধান নেই। প্রধান বিচারপতি বলেন, আপিল বিভাগের রুলসে এ রকম কিছু নেই। এ সময় মোহাম্মদ আলী বলেন, দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রয়েছে। আজকের রায়ের খবর সব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে। হয়তো আপনাদের ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হবে। তাই সংক্ষিপ্ত আদেশ দিতে অসুবিধা কোথায়? আজকের আদেশের পর থেকে খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা বেআইনি। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীর মৌখিক আবেদন নাকচ করে আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি। এর পরও এ জে মোহাম্মদ আলী সংক্ষিপ্ত আদেশের কপির জন্য নিবেদন জানাতে থাকলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি তো বলেছি যে নাকচ করা হলো।’ এ সময় মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমি একা এসেছি। দলবল নিয়ে আসিনি।’ অপ্রত্যাশিত এ বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি হকচকিত হয়ে বলেন, ‘এটা কেমন কথা? দলবল নিয়ে আসলেই কি আমরা আদেশ দিয়ে দিই? দলবল দেখে আমরা আদেশ দিই না।’ খালেদা জিয়ার আইনজীবীর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। তিনি বলেন, ‘আপনার মন্তব্য গুরুতর আপত্তিকর। আপনারা ভুলে যান আপনারা আইনজীবী, অফিসার্স অব দ্য কোর্ট। আপনারা কোনো দলের লোক নন।’ এ সময় মোহাম্মদ আলী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি মূলত মানুষের স্বাধীনতার কথা বলতে চেয়েছি।’ এ সময় তিনি হাইকোর্ট বিভাগের রুলস নিয়ে কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি তো আপনার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। তার পরও কেন তর্ক করছেন?’ শেষ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনার আবেদন বিবেচনা করতে পারলাম না। বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার বিষয়ে আপিল বিভাগের রুলস সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ এ অবস্থায় আইনজীবীরা আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

খালেদার জামিনের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে—মঈন খান

আদালত থেকে বেরিয়ে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছি। আমাদের নেত্রীও বলেছেন, আমরা দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা শুধু এটুকুই চাই যে আইন প্রত্যেকটি মানুষের ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। আমরা নেত্রীর জামিনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।’

মামলার সংখ্যা নিয়ে আইনজীবীদের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য মুক্তি পেতে খালেদা জিয়ার আর কয়টি মামলায় জামিন প্রয়োজন সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা নেই খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের। এ বিষয়ে একেকজন আইনজীবী একেক রকম তথ্য দিয়েছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রথমে সাতটি মামলার কথা বললেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে গিয়ে ছয়টি মামলার তথ্য দিতে পেরেছেন। তিনি বলেন, কুমিল্লায় তিনটি, ঢাকায় দুটি ও নড়াইলে একটি মামলায় জামিন নিতে হবে। অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বর্তমানে খালেদা জিয়াকে তিনটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তবে জয়নুল আবেদীন বলেন, ছয়টি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় তিনটি, ঢাকায় দুটি ও নড়াইলে একটি মামলায় জামিন নিতে হবে। সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে আরো ছয় মামলায় জামিন পেতে হবে। এর মধ্যে চার মামলায় প্রডাকশন ওয়ারেন্ট আছে, এগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। মামলার তথ্য নিয়ে একেক আইনজীবীর বক্তব্য একেক রকম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব মামলায় আমি শুনানি করেছি। আমারটাই সঠিক।’ তবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সর্বমোট ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি মামলায় প্রডাকশন ওয়ারেন্ট রয়েছে। এখন সরকার বাধা সৃষ্টি না করলে খালেদা জিয়ার এসব মামলায়ও তাঁর জামিনে মুক্তিতে বাধা থাকবে না।’

দুই মামলার জামিন শুনানির দিন ধার্য আজ 

এদিকে ভুয়া জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ১২ এপ্রিল খালেদা জিয়ার পক্ষে এ দুটি মামলায় জামিন আবেদন করা হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার কালের কণ্ঠকে জানান, ওই আবেদন শুনানি শেষে ২৫ এপ্রিল জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু ওই দিন শুনানি হয়নি। পরে ১৭ মে দিন ধার্য করা হয়। খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে যে মামলা হয়, ওই মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. খুরশীদ আলম। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শুনানি গ্রহণ করবেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবীব।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে দায়ের মামলায় বলা হয়েছে, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।



মন্তব্য