kalerkantho


প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৪৬তম

বাংলাদেশের সাংবাদিকের বড় বাধা তথ্য-প্রযুক্তি আইন ও উগ্রবাদ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশের সাংবাদিকের বড় বাধা তথ্য-প্রযুক্তি আইন ও উগ্রবাদ

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বৈশ্বিক সূচক ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে’ এবারও বাংলাদেশ ১৪৬তম স্থানে অবস্থান করছে। ২০১৬ সালে ১৪৪তম স্থান থেকে দুই ধাপ অবনতি ঘটার পর একই অবস্থানে রয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বড় বাধা তথ্য-প্রযুক্তি আইন ও উগ্রপন্থীদের হুমকি। ফলে স্ব্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ মেনে চলতে হয় তাঁদের। এ ছাড়া সারা বিশ্বেই মুক্ত সাংবাদিকতার সুযোগ কমে আসছে। বাড়ছে সাংবাদিকদের প্রতি বিদ্বেষ। গণমাধ্যমের প্রতি বৈরিতায় প্রকাশ্যে উৎসাহ দিচ্ছেন রাজনৈতিক নেতারা।

গতকাল বুধবার গণমাধ্যমবিষয়ক আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম-২০১৮ সূচক’ প্রকাশ ও বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। ১৮০টি দেশের সাংবাদিকতা, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিচার-বিশ্লেষণ করে এই সূচক তৈরি করে আরএসএফ।

এবারের সূচকেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থা প্রায় একই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ভুটান এখনো এগিয়ে থাকলেও এক বছরেই দেশটির অবনতি ঘটেছে ১০ ধাপ। ৮৪তম স্থান থেকে নেমে এবারের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে দেশটির অবস্থান ৯৪তম স্থানে। ভুটানের পরই দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় মুক্ত গণমাধ্যমের দেশ নেপাল। কিন্তু এ দেশেও সংবাদমাধ্যমের অবনতি ঘটেছে। এবার ছয় ধাপ নেমে নেপালে অবস্থান ১০৬তম। এর পরই রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির দুই ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে ১১৮তম স্থানে অবস্থান করছে। এরপর ১০ ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে শ্রীলঙ্কা ১৩১, দুই ধাপ এগিয়ে ভারত ১৩৮ ও পাকিস্তান একই স্থানে ১৩৯তম।। বাংলাদেশের আরেক প্রতিবেশী মিয়ানমারের অবস্থান ১৩৭তম।

এবারের সূচকে চীনের অবস্থান ১৭৬তম। তবে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে নেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। দেশ দুটির অবস্থান যথাক্রমে ৪৫ ও ৪০তম।

বাংলাদেশের অবস্থান ও পরিস্থিতি : বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে  বাংলাদেশ স্থান পেয়েছে ১৪৬তম স্থানে। এবার বাংলাদেশের বৈশ্বিক স্কোর হচ্ছে ৪৮ দশমিক ৬২, যা গতবারের চেয়ে দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের পরিস্থিতির সম্পর্কে আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এ দেশে সংবিধান ও ইসলামের সমালোচনাকে বাজে বিষয় মনে করা হয়। অথচ বাংলাদেশ কাগজে-কলমে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এখানে সাংবাদিক ও ব্লগাররা ওই দুই বিষয়ে সেন্সরশিপ অথবা স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ মেনে চলতে হয়। কারণ তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডের হুমকিতে থাকতে হয়। পাশাপাশি ইসলামপন্থীরা প্রায়ই অনলাইনে ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও লেখকদের হত্যার আহ্বান জানায়। বাংলাদেশে প্রকৃত বহুত্ববাদ থাকলেও গণমাধ্যমের স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সহিংসতা মহামারি আকার ধারণ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোয় অপরাধীদের পদ্ধতিগত দায়মুক্তির কারণেই এমনটা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘২১৭ সালে কমপক্ষে ২৫ জন সাংবাদিক ও কয়েক শ ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারী সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া এ আইনের অধীনে মানহানি বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অনেক অনলাইন কনটেন্ট স্থগিত করতে হয়েছে। এই আইনটির সংশোধনীর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ২০১৮ সালে একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রস্তাব করেছে, যা আগের আইনের ধারাগুলোই বিদ্যমান রয়েছে।’

প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ এশিয়া দেশগুলোর সম্পর্কে প্রায় অভিন্ন বক্তব্য লক্ষ করা গেছে। ভারতে মোদি সরকারের হিন্দু জাতীয়তাবাদের কারণে সাংবাদিকের স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপের মুখে পড়তে হয় বলে মন্তব্য করা হয়। শ্রীলঙ্কায় সাংবাদিক নির্যাতনেও দায়মুক্তির সমালোচনা করা হয় প্রতিবেদনে। পাকিস্তানে সাংবাদিকদের প্রধান দুই শত্রু হচ্ছে উগ্রপন্থী ও গোয়েন্দারা। মিয়ানমারে সাংবদিকদের প্রধান শত্রু সামরিক বাহিনী। সূত্র : আরএসএফ ওয়েবসাইট।

 



মন্তব্য