kalerkantho


এলএনজি যুগে বাংলাদেশ

► এক লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটারের প্রথম চালান মহেশখালীতে
► এলএনজির সুফল প্রথমে পাবে চট্টগ্রাম

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



এলএনজি যুগে বাংলাদেশ

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার ‘এক্সিলেন্স’ নামে একটি বিশেষায়িত জাহাজ এক লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী উপকূলে ভিড়েছে। কাতার থেকে আমদানি করা হয়েছে এই এলএনজি। তবে আমদানীকৃত এই গ্যাসের সুফল পেতে আরো ২০ থেকে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেডের  (জিটিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট দূর হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যুক্ত হয়েছে এলএনজি পাইপলাইন। দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন গ্যাস পাওয়া যাবে আমদানীকৃত এলএনজি থেকে। এতে চট্টগ্রামের চাহিদা পূরণ করে গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকবে। যা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।

মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইনের কমিশনিং (গ্যাস ঢুকিয়ে সফল পরীক্ষা) সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু আনোয়ারা থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় আমদানীকৃত এলএনজি জাতীয় সঞ্চালন লাইনে এখনই যুক্ত করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এক লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে বিশেষায়িত জাহাজটি গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে নোঙর করে। এলএনজিবাহী এক্সিলেন্সের স্থানীয় এজেন্ট সিকম শিপিং লাইনস লিমিটেডের পরিচালক জহুর আহমেদ জানান, আমেরিকান কম্পানির জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। আগে শিপমেন্ট হয়ে যাওয়াতে জাহাজটি অপেক্ষা না করে চলে এসেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় জাহাজ আগে আসেনি। এটি সবচেয়ে বড় বিশেষায়িত জাহাজ। ২৭৭ মিটার লম্বা, ৪৪ মিটার প্রস্থ এবং ১২ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের (গভীরতা) এ জাহাজে রয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার তরল গ্যাস।

জহুর আহমেদ বলেন, জাহাজটি উপকূল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করবে ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে। আগামী ১৫ বছর বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি জাহাজ ভাড়া পাবে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলবে। এরপর পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারের মালিকানায় চলে আসবে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান, প্রাকৃতিক গ্যাসকে শীতলকরণ (রেফ্রিজারেশন) প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা মাইনাস ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে তরলে (এলএনজি) পরিণত করা হয়। প্রাথমিকভাবে এলএনজি নিয়ে আসা জাহাজগুলো থেকেই এলএনজির তাপমাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে মহেশখালী দ্বীপে স্টোরেজ ট্যাংকে পাঠানো হবে। এরপর সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আনোয়ারায় অবস্থিত সিজিএসে আসবে গ্যাস। এক্সিলেন্স জাহাজটিতে সমুদ্রের পানির উষ্ণতা ব্যবহার করে এলএনজিকে আবার প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রথমে চট্টগ্রামে এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হবে। এলএনজি আমদানিকে কেন্দ্র করে কেজিডিসিএল তাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৪০ কোটি টাকার নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক ছালে আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চট্টগ্রামে বর্তমানে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে কাফকো এবং শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চাহিদা ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গাস। এর বিপরীতে জাতীয় সঞ্চালন লাইন থেকে পাওয়া যায় মাত্র ১৮০ থেকে ২১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বাকিটুকু ঘাটতি থেকে যায়।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের কর্মকর্তারা জানান, এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট দূর হবে। পাশাপাশি গ্যাসের প্রেসার (চাপ) বৃদ্ধি পাবে। নগরের যেসব এলাকায় এখন গ্যাসের চাপ কম, সেখানে চাপ স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রথম দফায় দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে আমদানীকৃত এলএনজি থেকে। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ অক্টোবরে আরো ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে লাইনে।

তিনি আরো জানান, ২০০০ সালে যে জাহাজে করে দেশে প্রথম লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করা হয়েছিল, সেটিরও এজেন্ট ছিল সিকম শিপিং লাইনস।

 


মন্তব্য