kalerkantho


রানা প্লাজা ধস : পোশাকশ্রমিক অধিকার

বাংলাদেশে তদন্ত করতে ইইউ এমপিদের চিঠি

নেতিবাচক সুপারিশে স্থগিত হতে পারে জিএসপি

আবুল কাশেম   

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশে তদন্ত করতে ইইউ এমপিদের চিঠি

ফাইল ছবি

রানা প্লাজা ধসের পরপরই পোশাক খাতে শ্রমিক অধিকার রক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সই করা ‘সাসেটইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’ বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ তুলেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল সোশ্যালিস্ট অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস (এসঅ্যান্ডডি) পার্টি। তারা বাংলাদেশে তদন্ত পরিচালনার জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিটির (আইএনটিএ) সব এমপিকে চিঠি দিয়েছে। এসঅ্যান্ডডির এই উদ্যোগকে‘অ্যালার্মিং’ বা বিপজ্জনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্রাসেলসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন।

সাধারণত কোনো দেশের জিএসপি স্থগিত বা বাতিল করার আগে এ ধরনের তদন্ত করে থাকে ইইউ। তদন্তে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা বা নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ওই দেশের সরকার বা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির তথ্য-প্রমাণ মিললে জিএসপি স্থগিত বা বাতিল করা সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। তার পরিপ্রেক্ষিতেই জিএসপি স্থগিত বা বাতিল করে ইইউ।

তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টিসহ কয়েকটি দলের এমপিরা বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় বাংলাদেশ এ মুহূর্তে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রাথমিক সুপারিশ পেয়েছে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত বাংলাদেশকে বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহতভাবে দিয়ে যাওয়া।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে রানা প্লাজা ধসের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে। তখন বেশ কিছু শর্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বাংলাদেশের সঙ্গে সাসেটইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট স্বাক্ষর করে ইইউ। তবে বাংলাদেশ তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ তুলে গত বছর জিএসপি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছিল ইইউ। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে জেনেভায় আইএলওর সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাসেটইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত দাবির ইস্যুতে এসঅ্যান্ডডি পার্টি ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির এমপিদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে ইইউ কমিশনার ফর ট্রেড সিসিলিয়া মামস্ট্রম বলেছেন, ‘সাসেটইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ভালো অগ্রগতি করেছে। তবে যেসব এমপি বাংলাদেশের বিপক্ষে বলছেন তাদের যুক্তিও শুনতে হবে। শ্রমিক অধিকার নিয়ে অনেক ইস্যুর সমাধান করেছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক।’

ব্রাসেলসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গত ২৩ মার্চ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। ‘রিসেন্ট অ্যালার্মিং ডেভেলপমেন্ট ইন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট অন সাসেটইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’ শিরোনামের চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রমিক অধিকার ইস্যুতে আইএলওর নীতি বিষয়ে ইইউ সব সময়ই সোচ্চার থাকে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের আইএনটিএতে থাকা বাংলাদেশ নিয়ে সমালোচনাকারী এমপিরা এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এসঅ্যান্ডডি পার্টি গত ২০ মার্চ আইএনটিএর সব সদস্য ও ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) কাছে একটি চিঠি দিয়েছে। তাতে শ্রমিক অধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, শ্রমিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ আদপে কিছুই করছে না। শুধু মুখে কথার ফুলছড়ি ছোটাচ্ছে। এসঅ্যান্ডডি পার্টি খোলামেলাভাবে আইএনটিএকে অনুরোধ করেছে, যাতে তারা ইসিকে অনুরোধ করে বাংলাদেশে তদন্ত পরিচালনার জন্য। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আইএনটিএর বৈঠকেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার পক্ষে বেশ গোলমাল করেছিলেন এসঅ্যান্ডডি পার্টির এমপিরা।

জানা গেছে, ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি), দ্য অ্যালায়েন্স অব লিবারেলস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস ফর ইউরোপসহ (এএলডিই) অন্য কয়েকটি দলের এমপিরা এসঅ্যান্ডডি পার্টির এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন। তাঁরাও গত ২১ মার্চ একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে এমন আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা মনে করেন যে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করাসহ সাসেটইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে আরো সময় দিয়ে পাশে থাকা দরকার ইইউর।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার বিপক্ষে থাকা এমপিদের একটি প্রতিনিধিদল গত ২২ মার্চ ইইউ কমিশনার ফর ট্রেড সিসিলিয়া মামস্ট্রমের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আইএনটিএর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি সাজ্জাদ করিম বলেন, বাংলাদেশ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে ইইউর উচিত বাংলাদেশকে বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহতভাবে দিয়ে যাওয়া। এমনকি বাংলাদেশকে বর্তমানে দেওয়া এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) সুবিধার পর জিএসপি প্লাস সুবিধা দেওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি।



মন্তব্য