kalerkantho


হাতিয়ায় বাড়িতে ঢুকে গুলি, শিশু নিহত, বাবা হাসপাতালে

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



হাতিয়ায় বাড়িতে ঢুকে গুলি, শিশু নিহত, বাবা হাসপাতালে

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাড়িতে ঢুকে প্রতিপক্ষের চালানো হামলায় নীরব উদ্দিন (১০) নামের এক মাদরাসাছাত্র নিহত হয়েছে। একাধিক গুলি বিদ্ধ হয়েছে শিশুটির বাবার শরীরেও। আহত মিরাজ উদ্দিন (৩৫) নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষ রবিবার রাত ৮টার দিকে এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নান্টু মিয়ার বাড়িতে রবিবার রাত ৮টার দিকে হামলা চালায় একই এলাকার সন্ত্রাসী জিন্নু ও তার সহযোগীরা। তারা মিরাজ উদ্দিনকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি ছোড়ে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা শিশুপুত্র নীরবের মাথা ও বুকে এবং মিরাজের হাতে ও পিঠে গুলি বিদ্ধ

হয়। হামলার পরপরই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। বাড়ির লোকজন পিতা-পুত্রকে প্রথমে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে দুজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১২টার দিকে নীরব মারা যায়।

এদিকে গতকাল সোমবার সকালে মিরাজের ভাই রাশেদুল ইসলাম নান্টু বলেন, ‘আমার ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায় এবং বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় ভাতিজা নীরব ও আমার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর অবস্থায় দুজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভাতিজা মারা যায়।’ তিনি জানান, নিহত নীরব স্থানীয় রহমানিয়া মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। আর শিশুটির বাবা মিরাজ উদ্দিন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মহিউদ্দিন আজিম বলেন, ‘রাতে নীরব উদ্দিন নামে এক শিশুকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এখানে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটি  মারা গেছে। তার পিতা মিরাজ উদ্দিনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা রয়েছে। তাঁর হাতে ও পিঠে গুলি লেগেছে।’ তিনি জানান, তদন্ত শেষে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মিরাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের অন্য একটি পক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হাতিয়া পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউছুফ আলী ও বিদ্রোহী প্রার্থী ছাইফ উদ্দিন আহমদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ভোটে জয়লাভ করেন ইউছুফ, যিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌসের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

মিরাজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ওই নির্বাচনে তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাইফ উদ্দিনের পক্ষে কাজ করেন। তখন থেকেই এমপি সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছে।

তবে হাতিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার জানান, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। খবর পেয়ে রাতেই সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। মামলার প্রস্তুতিও চলছে।

 

 



মন্তব্য