kalerkantho


ফাইনালের পথে ভাগ্যের আনুকূল্যও চায় বাংলাদেশ

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ফাইনালের পথে ভাগ্যের আনুকূল্যও চায় বাংলাদেশ

হোটেলের বারান্দায় দাঁড়ালেই দেখা যায় সিংহল সাগর ফুঁসছে। দূরে কোথাও নিশ্চয়ই তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ। যার প্রভাবে দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনেও কি জমাট বেঁধে আছে তেমনি কোনো আক্ষেপের নিম্নচাপ? মাহমুদ উল্লাহ যতই বলুন বেঙ্গালুরুর ম্যাচ বেঙ্গালুরুতেই শেষ, ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামলে মনে কি হবে না সেই মুহূর্তটার কথা। সব পেতে পেতে এক মুহূর্তেই সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার অনুভূতি কি মন থেকে সত্যি মুছে গেছে? নাকি সব জমিয়ে রেখেছেন অন্য কোনো উপলক্ষের জন্য।

আজই হতে পারে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরের মতো বড় মঞ্চ না হলেই বা কী, ভারতকে হারিয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের রাস্তাটা পরিষ্কার করার উপলক্ষটাও তো কম মর‌্যাদার নয়। টি-টোয়েন্টির  ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার স্মৃতি তো এখনো টাটকা, আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তাহলে বেঙ্গালুরুর শোধ কেন নয় কলম্বোতে? অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ অবশ্য পা মাটিতেই রাখছেন। বিনয় তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ব্রহ্মপুত্রপারের শহরের ছেলেটির পাসপোর্টে যতই নানা দেশের ইমিগ্রেশনের সিল ছাপ্পর পড়ুক না কেন, মধ্যবিত্ত মূল্যবোধ তাঁকে ছেড়ে যায়নি। তিনি জানেন, অহংকার বিপদ ডেকে আনে; গৌরব অন্ধ করে দেয়। তাইতো পা রাখছেন মাটিতেই। সেই সঙ্গে চাইছেন সামান্য ভাগ্যের সহায়তা। এখন পর্যন্ত নিদাহাস ট্রফির হয়ে যাওয়া চারটি ম্যাচেই যে জিতেছে পরে ব্যাট করা দল। তার ওপর আছে বৃষ্টিতে খেলা পণ্ড হওয়ার বা ছোট হয়ে আসার যন্ত্রণা। সেসবের ওপর তো কারো কোনো হাত নেই, তাই খানিকটা ভাগ্যে ভরসা। নিজেদের প্রস্তুতির অংশটা তো সেরেই রেখেছেন; নেট, জিম, পুল মিলিয়ে।

রবি, সোম, মঙ্গল—এই তিন দিন অনুশীলনের সুযোগ খুব একটা হয়নি বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারানোর পরদিন ছিল বিশ্রাম, এর পরের দিন ঐচ্ছিক অনুশীলনে এসেও বাংলাদেশ দল ফিরে যায় মাঠ অপ্রস্তুত দেখে। কাল অবশেষে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এসে অনুশীলনের সুযোগ মিললেও বৃষ্টিতে সেটাও শুরু হয় দেরিতে। নেটে শুরুতে একপাশে পেসারদের খেলছিলেন লিটন দাশ, আরেক পাশে সৌম্য সরকার। মাঝে মুশফিক খেলছিলেন স্পিনারদের। ভারতের বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণ সামলাতে ঝালিয়ে নিচ্ছিলেন নিজেদের।

ভারতীয় পেসার জয়দেব উনাদকাট জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের রান তাড়া করে জেতার ম্যাচটি তারা হোটেলে বসে টিভিতে দেখেছেন। পরশু হয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কা-ভারত ম্যাচের পর পেসার শার্দুল ঠাকুরও জানিয়ে গেলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচটায় তারা আরো ভালো বোলিং করার চেষ্টা করবেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখেছি। তবে তাতে কিচ্ছু বদলায়নি। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিক জায়গায় বল ফেলার কাজটা আরো ভালোভাবে করার চেষ্টা করব। ভুল কম করতে চেষ্টা করব। পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা থাকবে।’ আলোচনায় উঠে এসেছে এই পেসারের ‘নাকল বল’ও, বলের গ্রিপ বদল করে অ্যাকশন ঠিক রেখেই দেওয়া যে স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হন ব্যাটসম্যান। ওয়াশিংটন সুন্দরের কার্যকর অফস্পিন ও পাওয়ার প্লে’তে বোলিং করে রান আটকানোর কৌশল কাজে লেগেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। একই কৌশল রোহিত শর্মা কি নেবেন বাংলাদেশের বিপক্ষেও? প্রতিপক্ষের কৌশল যা-ই হোক, বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের টি-টোয়েন্টি থেকে সরে আসবেন না মাহমুদ উল্লাহ। বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেটই খেলবে তাঁর দল, তবে মাঠে নামার আগে পা থাকবে মাটিতে, ‘গত ম্যাচের জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এখান থেকে অনেক ইতিবাচক দিক নিয়েই আমরা সামনের ম্যাচটি খেলব। এমন নয় যে আমরা অনেক কিছু করে ফেলেছি। আমাদের পা মাটিতেই আছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমাদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। সেসব সরানো কেবল শুরু হয়েছে, আস্তে আস্তে আরো সরাব।’

দুটি ম্যাচের মাঝের বিরতিটা হয়ে গেছে লম্বা, প্রকৃতির বাধায় ঠিকঠাক হয়নি অনুশীলনও। মাহমুদ উল্লাহর কাছে মানসিক প্রস্তুতিটাই আসল, ‘জিম পুল সেশন হয়েছে, মাঠে সেভাবে নামা হয়নি। তবে আমার কাছে মানসিক প্রস্তুতিটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে টস। কারণ আসরে এখন পর্যন্ত হয়ে যাওয়া চার ম্যাচে সবগুলো দলই যে জিতেছে পরে ব্যাট করে। সেটা মাহমুদের ভাবনায় আছে, ‘টসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বেশির ভাগ ম্যাচই রান তাড়া করা দল জিতেছে। শুরুতে বোলারদের জন্য কিছু সহায়তা থাকলেও পরের দিকে বোধ হয় ব্যাটিং করাটা আরো সহজ হয়ে যায়। যদিও ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্লিকেশনটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি টস জিতি, তাহলে চেষ্টা করব সুযোগটা কাজে লাগাতে।’

ম্যাচের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগের সংবাদ সম্মেলনে একাদশে বদল নিয়ে কোনো খবর নেই। ভারত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঋষভ পান্টকে বসিয়ে খেলিয়েছিল লোকেশ রাহুলকে। রান খুব একটা করতে না পারলেও টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ‘হিট উইকেট’ আউট হয়ে অনিচ্ছায় নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইতে। বাংলাদেশের বোলিং বিভাগেও পরিবর্তনের সামান্য সম্ভাবনা আছে। যদিও অধিনায়ক মাহমুদ একটু আগলেই রাখছেন তাঁদের, ‘প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তারা কিন্তু ভালো বোলিং করেছিল, তাই এখনই তাদের ওপর খুব একটা কঠোর হওয়া ঠিক হবে না।’ যদি কঠোর হতেই হয় অধিনায়ককে তখন হয়তো বেঞ্চে বসবেন তাসকিন আহমেদ। তাঁর জায়গায় ব্যাটিং অলরাউন্ডার আরিফুল হক বা দ্রুত রান তোলার জন্য নুরুল হাসান সোহান আসতে পারেন একাদশে। সে ক্ষেত্রে মুস্তাফিজ, রুবেল, মিরাজ, অপুর পাশে পঞ্চম বোলারের কাজটা ভাগাভাগি করে নেবেন অধিনায়ক ও সৌম্য সরকার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ উইকেট পেয়ে অধিনায়কের আত্মবিশ্বাসটাও নিশ্চয়ই কম নয়!

ভারতের বিপক্ষে আসরের প্রথম ম্যাচে ৫৫টি ডট বল খেলা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অমন জয়ে গোটা দলের চেহারাই গেছে বদলে। ছন্দটা পেয়ে গেছে বাংলাদেশ, এবার এগিয়ে যাওয়ার পালা!

 



মন্তব্য