kalerkantho


রোহিঙ্গাকেন্দ্রিক কর্মপরিধি চূড়ান্ত

এনজিওগুলোর কাজ মানবিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকবে

মেহেদী হাসান   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



এনজিওগুলোর কাজ মানবিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকবে

রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকারী দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) কর্মকাণ্ড শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে তাদের কর্মপরিধি চূড়ান্ত করে দিয়েছে সরকারের এনজিওবিষয়ক ব্যুরো। কর্মপরিধিতে রোহিঙ্গাদের জন্য এনজিওগুলোর কার্যক্রম মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। এনজিওগুলো বা তাদের প্রকল্পের কোনো কর্মী প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় রাষ্ট্র, সরকার বা প্রত্যাবাসনবিরোধী ভূমিকা রাখতে পারবে না। এ ছাড়া চিকিৎসা বা জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর বাইরে কোনো এনজিও সন্ধ্যার পর আশ্রয় শিবিরে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এনজিও/প্রকল্পের সব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবককে এনজিও থেকে দেওয়া পরিচয়পত্র দৃশ্যমানভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গত ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গাবিষয়ক টাস্কফোর্সের বৈঠকে এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ড আরো নিবিড়ভাবে নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিওর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সেবা দেওয়ার নাম করে অননুমোদিত কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ ওঠে। কিছু কিছু এনজিও এবং সংস্থা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনবিরোধী হতে উসকানি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা শিবিরে শৃঙ্খলা ফেরাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

টাস্কফোর্সের ওই বৈঠকের পরদিন রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অনুরূপ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আবদুস সালাম মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদসচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), এনজিও ব্যুরোর পরিচালক ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য কর্মরত দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোর কর্মপরিধি (ফ্রেমওয়ার্ক ফর এনজিওস)’ প্রণয়নের কথা জানান।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম/প্রকল্প (এফডি-৭) বাস্তবায়নে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করছে। এনজিওবিষয়ক ব্যুরো প্রকল্প অনুমোদনের পর এনজিওগুলো মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসন এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে। জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এনজিওগুলোর কর্মপরিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

জানা গেছে, কর্মপরিধিতে এনজিওগুলোর ত্রাণ তৎপরতাও নজরদারির মধ্যে রাখার সুযোগ রয়েছে। অনুমোদিত ‘এফডি-৭’ অনুযায়ী সব সামগ্রী নিয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিওকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে হাজির হতে হবে। প্রতি পাতায় এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তা অনুস্বাক্ষরিত ‘এফডি-৭’-এর কপি অবশ্যই কক্সবাজারে আরআরআরসি ও জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করতে হবে। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনা অনুসারে এনজিওগুলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ ছাড়া এনজিওগুলোর প্রকল্পের কর্মীদের তালিকা কক্সবাজারে আরআরআরসি ও জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে হবে। তালিকার বাইরে কোনো কর্মীকে কাজে যুক্ত যাবে না।

কর্মপরিধি অনুযায়ী, কক্সবাজারে আরআরআরসি ও জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা ‘এফডি-৭’-এর প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ১৫ দিনের মধ্যে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোতে দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া কর্মসূচি বাস্তবায়নের ১৫ দিনের মধ্যে সমাপনী প্রতিবেদন ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যয়নপত্র এবং ৩০ দিনের মধ্যে অডিট রিপোর্ট ব্যুরোতে দাখিল করতে হবে।


মন্তব্য