kalerkantho


আন্তর্জাতিক নারী দিবস

২০ বছর কারাভোগের পর এক নারীর জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



২০ বছর কারাভোগের পর এক নারীর জামিন

শিশু অপহরণ মামলায় ২০ বছর কারাভোগের পর এক নারীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ‘আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস’—এ কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করে আদালত আদেশে বলেছেন, দীর্ঘদিন কারাভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে জামিন দেওয়া হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ এই জামিন দেন।

মনোয়ারা বেগম ওরফে মোতাহেরা বেগম ওরফে খুরশীদা বেগম নামের এই আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে  যদি তাঁর আত্মীয়-স্বজনকে খুঁজে না পান, তাহলে তাঁকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসন করতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁর বাড়ি কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার পূর্ব ধেচুয়া গ্রামে। বাবার নাম কাদির হোছেন। স্বামীর নাম ইসমাইল।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মনোয়ারা ১৯৯৮ সালের ১৩ জুন কক্সবাজারের সদর উপজেলার ঝিলাংজা এলাকায় যান। সেখানে জনৈক মো. আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এক আত্মীয়ের বাড়ি খুঁজতে এসেছি; কিন্তু পাইনি। যদি রাতে থাকতে দেন তাহলে ভালো হয়।’ কালাম মানবিক কারণে তাঁকে বাড়িতে থাকতে দেন। পরদিন সকালে কালামের আট বছর বয়সী মেয়ে রাজিয়া কক্সবাজার প্রিপারেটরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। ওই সময় মনোয়ারাও বিদায় নেন। কিন্তু কালামের মেয়ে স্কুল থেকে ফেরেনি। তিন দিন পর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর কাছে মনোয়ারাকে পুলিশ আটক করে। তাঁর কাছে রাজিয়াকে পাওয়া যায়। পুলিশের কাছে মনোয়ারা শিকার করেন যে রাজিয়াকে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়।

এ ঘটনায় কক্সবাজার থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন রাজিয়ার বাবা আবুল কালাম। ২০০১ সালের ২৭ নভেম্বর কক্সবাজারের একটি দায়রা আদালত মনোয়ারাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তিনি জেল আপিল করেন। অত্যন্ত গরিব বিধায় কোনো আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারেননি।

পরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফজলুর রহমান তাঁর পক্ষে জামিনের আবেদন করেন। গতকাল জামিন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. শফিউল্লাহ। তিনি আদালতকে বলেন, মনোয়ারা বেগম হতদরিদ্র। তাঁর আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই। আদালত এ সময় জানতে চান, বয়স কত? জবাবে আইনজীবী বলেন, ঘটনার সময় বয়স ছিল ২৫ বছর। এখন ৪৫ বছর। আদালত জিজ্ঞেস করেন, ‘মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন আছে? জামিন দিলে কই যাবে? সে কি বিবাহিত?’ আইনজীবী বলেন, ঘরবাড়ি আছে। তবে খুব গরিব। তাই হয়তো যোগাযোগ নেই।’

আদালত বলেন, ‘আজ তো নারী দিবস। কিন্তু তার দীর্ঘ কারাবাস বিবেচনায় তাঁকে জামিন দিলাম। আর জামিনে মুক্তির পর মনোয়ারা যদি মনে করে তার সামাজিক পুনর্বাসন দরকার তাহলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা অফিসার তাকে পুনর্বাসন করবেন।’ আদালত আরো বলেন, ‘এ রকম যারা দীর্ঘ কারাবাসে আছে তাদের মুক্তির পর সামাজিক পুনর্বাসন দরকার হলে তাহলে সরকার সেটা করবে বলে আমরা পর্যবেক্ষণ দিচ্ছি। আর আদালতের এ আদেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব, আইনসচিব ও সমাজকল্যাণ সচিব বরাবরে পাঠাতে হবে।’



মন্তব্য