kalerkantho


ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে সামনে ভারত

সামীউর রহমান, কলম্বো থেকে   

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে সামনে ভারত

২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। এই সময়টায় অর্জন কি কম বাংলাদেশের? বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা হয়েছে, দেশে ওয়ানডে সিরিজে হারানো গেছে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাকে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলেছে সেমিফাইনালে। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে বলেই না সরাসরি আগামী বছরের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। না হলে এখন নিদাহাস ট্রফির বদলে তো বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব খেলতেই ব্যস্ত থাকতে হতো মাহমুদ উল্লাহ-মুশফিকদের। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্মৃতিশক্তি যে বড় ক্ষণস্থায়ী! যেখানে শুধুই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর আর দেশে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস। ব্যর্থতার চাদর ঢেকে ফেলেছে সাফল্যের সুসময়কে। বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ খুব করে চাইছেন ক্যানভাস থেকে হতাশার ধূসর এই প্রলেপটা সরাতে, যেন ঢেকে না থাকে সাফল্যের সোনালি রংটা।

শ্রীলঙ্কার ‘দ্য নিউজ’ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে কাল স্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিকের লেখা কলামের শিরোনাম, ‘বদলি অধিনায়কদের আসর’। আসলেই তো তাই! বিরাট কোহলি বিশ্রামে, তাঁর জায়গায় আসা রোহিত শর্মা ভালো করেই জানেন, শতভাগ নম্বর নিয়ে পাস করলেও পরের সিরিজেই আবার অধিনায়ক হবেন কোহলি। মাহমুদ উল্লাহরও একই দশা। এই বছরের শুরুতে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপেই বলেছিলেন, প্রথম চাওয়া হচ্ছে বছরজুড়ে যেন ফিট থাকতে পারেন। অধিনায়ক হয়ে যাবেন, সেটা ভাবনার রাডারে ছিল না। ভাগ্যক্রমে অথবা দুর্ভাগ্যক্রমে হয়ে গেছেন, সাকিব আল হাসান চোট পেয়ে বসে যাবেন আর নিজে অধিনায়ক হবেন, এমন দুরাশা তো তিনি কখনোই করেন না। আর শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দীনেশ চান্ডিমাল! তিনিও আসলে নেতা হয়েছেন বিকল্পের অভাবে। চন্দিকা হাতুরাসিংহে কোচ হওয়ার পর বোর্ড প্রেসিডেন্ট আর কোচের অনুরোধে ফের নেতৃত্ব দিতে রাজি হয়েছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। কিন্তু শরীর তাঁর ফেরাটা সমর্থন করেনি, চোট পেয়ে ম্যাথুজ আবারও দলের বাইরে। তিন দলের অধিনায়কেরই যখন এই অবস্থা, তখন দলগুলোর অবস্থাই বা কেমন হবে!

বাংলাদেশ ও ভারত, দুই দলেই সেরা দুজন করে খেলোয়াড় অনুপস্থিত। যদিও কারণটা ভিন্ন। ভারতীয় দলে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও বিরাট কোহলি নেই, কারণ তাঁদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের ধকল কাটিয়ে আইপিএলের আগে চাঙ্গা হয়ে উঠতে। আর বাংলাদেশের সাকিব নেই দেশে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে চোট পেয়ে আঙুল ভেঙে। অন্যজন মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাস ১১ আগে এই শ্রীলঙ্কাতেই অনেকটা জোর করে তাঁকে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে। এরপর দেশে বিপিএলে মাশরাফি নিজের দল রংপুর রাইডার্সকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন, ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স চলমান ঘরোয়া লিগে, দিন দুই আগেই ডাবল হ্যাটট্রিক করেছেন এবং এই বয়সে এমন চোটজর্জর শরীর নিয়েও তিনি নিঃসন্দেহে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা পেসার। কিন্তু তিনিও তো অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—ইচ্ছা নেই ফেরার। ভিন্ন ভিন্ন দুই কারণে সেরা দুই খেলোয়াড়কে ছাড়াই যে দলটা থেকে সেরা ১১ জনকে নিয়ে আজ নামবেন মাহমুদ উল্লাহ, সেটা ঘোষণার পর বিস্তর সমালোচনা হয়েছে প্রধান নির্বাচককে নিয়ে। তবুও এই ১১ জনই আজ বাংলাদেশেরই আশার সারথি।

তিনে কে ব্যাট করবেন, এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। টেস্টে মমিনুল নিজেকে সেখানে ‘অটোমেটিক চয়েস’ বানিয়ে ফেললেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটায় কে নামবেন, সেটা এখনো অনিয়মিত। প্রস্তুতি ম্যাচে ১৮ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে ভালো একটা সম্ভাবনা জাগিয়েছেন লিটন কুমার দাশ। অধিনায়কের আস্থাও তাঁকে নিয়ে, ‘লিটন প্রস্তুতি ম্যাচটায় খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। ভালো ফর্মে আছে। এর আগে সাব্বির টি-টোয়েন্টিতে তিনে খেলত। তবে ইদানীং ভালো করতে পারছে না। মুশফিক খেলেছে আগের সিরিজে। দেখি কাকে খেলাই।’ অবশ্য আজ সন্ধ্যা ৭টায় ম্যাচ আর গতকাল দুপুর দেড়টায় সংবাদ সম্মেলনে এর বেশি আর কী-ই বা বলবেন মাহমুদ! ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় আগে এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কি নেওয়া সম্ভব?

ভারতীয় দলে ধোনি-কোহলিদের অনুপস্থিতি নিয়ে নয়, নিজেদের দিকেই মনোযোগটা বেশি মাহমুদের, ‘আমাদেরকে ভারতীয় দলের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাটা খুঁজে বের করতে হবে। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের ব্যাপারে আমরা কিছুটা জানি, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ওদের সঙ্গে বেশ কিছু ম্যাচ খেলা হয়েছে। তবে আমি দলের সবাইকে বলে দিয়েছি, আমরা যে কাজটায় ভালো সেটাই করার চেষ্টা করতে। অন্য কিছু নিয়ে ভেবে মনঃসংযোগটা সরিয়ে না ফেলতে।’

তাই তো শুধু প্রতিপক্ষই নয়, প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়েও ভাবতে চাইছেন না মাহমুদ, ‘উইকেটটা ব্যাটিং সহায়কই হবে। আমরা এখনো আমাদের সেরা একাদশ সাজাইনি, তবে সেটা হয়তো প্রতিপক্ষের কথা মাথায় রেখেই খানিকটা পরিবর্তন আনা হবে।’ ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ভারতের সঙ্গে ব্যাটিং শক্তিতে পাল্লা দেওয়ার মতো ভুল না করে বোলিংটাই যে মজবুত করবেন, সেটাই হয়তো আভাসে জানিয়ে দিলেন মাহমুদ।

নিজেই বললেন, তাঁর দল আসরের ফেভারিট নয়। পরিস্থিতিটা মাহমুদের মতো করে বুঝছেন খুব কম লোকই। তবু আশার আলোটা জিইয়ে রাখছেন মাহমুদ। আর কাল প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ওভাবে জিততে দেখে হয়তো পেয়েছেন আরেকটু সাহস। অনিশ্চয়তার খেলায় কত কিছুই তো হয়!



মন্তব্য