kalerkantho


তমব্রু সীমান্তে বাংকার খুঁড়ছে মিয়ানমার

ব্রিটিশ এমপিদের ভিসা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ যুক্তরাজ্য

কূটনৈতিক প্রতিবেদক ঢাকা ও নিজস্ব প্রতিবেদক কক্সবাজার    

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



তমব্রু সীমান্তে বাংকার খুঁড়ছে মিয়ানমার

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারের তমব্রু সীমান্তে দেশটির সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি নতুন করে বাংকার খনন শুরু করেছে। এতে সীমান্তের এপারে বাংলাদেশি ও শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য সফরে আগ্রহী ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমপি) মিয়ানমার ভিসা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। ওই এমপিরা পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশ সফর করতে পারেন বলে জানা গেছে।

মিয়ানমার সীমান্তে বিজিপির বেশ কিছু বাংকার রয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে তারা নতুন করে বাংকার খনন করছে। তমব্রু খালের এপারের গ্রামবাসী ও শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গারা গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানান, গতকাল সকালেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিজিপি সদস্যবোঝাই বেশ কয়েকটি গাড়ি সীমান্তে আসে। সে সময় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখাসংলগ্ন এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছিল।

মিয়ানমারের সেনারা গাড়ি থেকে নেমে বেড়া নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়ে গিয়ে সীমান্ত সড়কের পূর্ব পাশে নতুন করে বাংকার খননের কাজে লাগিয়ে দেয়। এরপর আরো বেশ কজন শ্রমিকের মাধ্যমে সীমান্ত সড়কসংলগ্ন পাহাড়ের ঢালেও বাংকার খননের কাজ করতে দেখা যায়। সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি মিয়ানমারের হঠাৎ করে নতুন বাংকার খননের উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েক দিন আগে সীমান্তে সেনা সমাবেশ ও গুলি ছোড়ার ঘটনার মাঝেই মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপির নতুন করে বাংকার খনন এপারে স্থানীয় লোকজন ও শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের নতুন করে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

এদিকে গতকাল ব্রিটিশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবরণী থেকে জানা যায়, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের মিয়ানমার সরকার ভিসা না দেওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ওই এমপিদের দুই ভাগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় তাঁরা ওই যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হন। ভিসা না দেওয়ার এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন তিনি।

ওই ব্রিটিশ এমপিদের বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনার বিষয়ে ইঙ্গিত করে মার্ক ফিল্ড বলেন, ‘ধারণা করছি যে ব্রিটিশ এমপিরা বাংলাদেশ সফরে যাবেন এবং কক্সবাজার ও এর আশপাশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক দপ্তরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করবেন।

মার্ক ফিল্ড বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভিসা না দেওয়ার তিনটি কারণ দেখিয়েছে। প্রথমত, দেশটিতে বর্ধিত ছুটি চলছে; দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তার কারণে রাখাইন রাজ্যে প্রবেশাধিকার সীমিত এবং তৃতীয় কারণটি হলো, রাখাইন রাজ্যে ভূমিকার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সিনিয়র জেনারেলদের বিচার চেয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে ওই এমপিদের কয়েকজন ব্যক্তিগতভাবে সই করেছেন এবং এতে মিয়ানমার অসন্তুষ্ট।


মন্তব্য