kalerkantho


ইয়াসমিন হক বললেন

ওরা কাফনের কাপড়ও পাঠিয়েছিল

বিশেষ প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ওরা কাফনের কাপড়ও পাঠিয়েছিল

ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার পরও সব কাজ বন্ধ রেখে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে চান না বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াসমিন হক। বরং তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলাখুলিভাবেই মিশতে চান।

সেই সঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেও এ হামলার জন্য সরকার বা পুলিশকে দায়ী করতে চান না এই শিক্ষক দম্পতি। বরং পুলিশ যথেষ্ট করেছে, তাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ইয়াসমিন। সেই সঙ্গে দ্রুত জাফর ইকবালের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রবিবার ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স হলে ড. জাফর ইকবালের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর ইয়াসমিন হক এ কথা জানান।

অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, “শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা বা ৫টা ৪০-এর মতো হবে। জাফর ইকবাল নিজেই আমাকে ফোন করে বলেন, ‘আমার ওপর হামলা হয়েছে। আমি সুস্থ আছি। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। আমি চাই না, তুমি এবং আমাদের মেয়ে টিভিতে এই খবর পাও। অনেক ব্লিডিং হচ্ছে। পরে যদি কথা বলতে না পারি সে জন্য ফোন করছি। আমি কমপ্লিটলি ফাইন আছি।’ ব্যথা লাগছে কি না জিজ্ঞেস করলে বলেছিলেন, ‘হামলার সময় ব্যথা লাগেনি, এখন একটু একটু ব্যথা লাগছে। তবে তোমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই’।’’

জাফর ইকবালের স্ত্রী বলেন, ‘আমরা, আমি আর আমাদের মেয়ে এ খবর শুনে কাঁদছিলাম। আপনারা জানেন ওসমানি মেডিক্যালে নেওয়ার পর, অনেক ফোন আসছিল। পরে আর ফোন রিসিভ করতে পারিনি। মিডিয়া থেকে সবাই খবর পেয়ে যাচ্ছিল।’

অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। উনি জাফর ইকবালকে ঢাকা সিএমএইচে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছেন। আমি নিজে মেডিক্যাল ফ্যামিলি থেকে এসেছি। আমার বাবা এমএসসি কোরের সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন। আমি সিএমএইচের সঙ্গে খুব কমফোর্টেবল। আমি জানি, সিএমএইচে কী ধরনের রেস্ট্রিকশন থাকে। কী ধরনের রোগী এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে সিলেটে ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন। সিলেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা সিএমএইচের ডাক্তাররাও সর্বোচ্চ যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করছেন।’

জাফর ইকবালকে শনিবার রাতে সিএমএইচে ভর্তির পর তিনি কিছু বলেছেন কি না—এ প্রশ্নে ইয়াসমিন হক বলেন, “রাতে আমার ও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি বলেন, ‘তোমরা স্টুডেন্টদের জানাও ওরা যেন উত্তেজিত না হয়। ওদের বল যে আমি ভালো আছি’।”

অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, ‘জাফর ইকবাল পুলিশ অফিসারের সন্তান। পুলিশ সদস্যরা আমাদের সঙ্গে দুই বছর ধরে আছেন। তাঁরা খুবই আন্তরিক। পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না।...এ অবস্থায় আমি ব্যক্তিগতভাবে সরকারকে দায়ী করি না। একটা মঞ্চের ওপর যেখানে অনেকে ছিলেন সেখানে হামলা হয়েছে। ওর (হামলাকারীর) কাছে বড় কোনো অস্ত্র থাকলে আরো সিরিয়াসলি আঘাত করতে পারত। আমি জেনেছি একজন পুলিশ অফিসার হামলাকারীকে বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন। মঞ্চেই পুলিশ ছিল। মুক্ত মঞ্চ। সেখানে শত শত স্টুডেন্ট। কেউ একজন ছোট কোনো অস্ত্র বের করে হামলা করতে চাইলে সে ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধে কতটা অভিযোগ করা যায়?’

হুমকি প্রসঙ্গে ইয়াসমিন হক বলেন, ‘দুই বছর শুধু না। আমরা তো অনেক দিন ধরেই হুমকির মধ্যে রয়েছি। বছর বছর ধরে হুমকির সঙ্গে কাফনের কাপড়ও পাঠাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কি আমরা আমাদের সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে জেলের মধ্যে থাকা শুরু করব। আমরা তা চিন্তা করি না। আমরা আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে ফ্রিলি ইন্টার‌্যাক্ট করব।’

ইয়াসমিন হক আরো বলেন, ‘এখানে কেউ প্রশ্ন করেছেন যে জাফর ইকবালকে চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়া হবে কি না। আমি বলি, এখানকার মেডিক্যাল সিস্টেমের ওপর ভরসা রাখুন। বাইরে গেলেই যে ভালো ট্রিটমেন্ট পাওয়া যাবে সেটা ভুল। আমি জাফর ইকবালের জন্য সবার দোয়া চাচ্ছি।’

অধ্যাপক ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি হতে পারে কেউ যেন ওর (জাফর ইকবাল) সঙ্গে দেখা না করে। আমিও দেখা করব না। উনি ভালো আছেন। তাঁর মানসিক অবস্থা খুবই ভালো আছে। ভালো চিকিৎসকদের হাতে আছেন। আমি আশা করছি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং ক্যাম্পাসে ফিরে যাবেন। তাঁর পাঁচটা কোর্স আছে। তাঁকে পড়াতে হবে। সবার দোয়া চাচ্ছি।’


মন্তব্য