kalerkantho


জাফর ইকবাল আক্রান্ত

►সিলেট থেকে ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর
►অবস্থা আশঙ্কামুক্ত
►হামলাকারী বহিরাগত
►প্রতিবাদে উত্তাল শাবি ক্যাম্পাস
►নিন্দার ঝড় দেশজুড়ে

সিলেট অফিস ও শাবিপ্রবি প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জাফর ইকবাল আক্রান্ত

ওসমানী মেডিক্যালের এক্স-রে রুম থেকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পথে জাফর ইকবাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

জঙ্গিদের হামলার হুমকিতে থাকা জনপ্রিয় লেখক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর গতকাল শনিবার বিকেলে হামলা চালানো হয়েছে। কর্মস্থল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালেই তিনি হামলার শিকার হন।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের উৎসবের সমাপনী দিনে গতকাল রোবটিকস প্রতিযোগিতা চলছিল। ওই অনুষ্ঠানের বিরতির ফাঁকে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে এক যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইইই বিভাগের প্রধান জাফর ইকবালের মাথার পেছন দিকে তিন-চারটি আঘাত করে। এই অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল কালের কণ্ঠ।

হামলার পরপরই জাফর ইকবালকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। রাত ১২টার দিকে তাঁকে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী।

আর ঘটনার সময়ই হামলাকারীকে আটক করে পিটুনি দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে আটক করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। তবে হামলার পরপরই এক যুবককে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যেতে দেখেছে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা। তাকে হামলাকারীর সহযোগী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আটক হামলাকারী বহিরাগত বলে জানা গেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ঢাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিসিটিসি) ইউনিটের একটি দল সিলেটে যাচ্ছে।

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

জাফর ইকবালকে ঢাকায় নিয়ে আসার আগে রাত সাড়ে ৯টায় ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ড. জাফর ইকবালের অপারেশন হয়েছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার সিএমএইচে পাঠানো হচ্ছে।’

ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক জানান, ড. জাফর ইকবালের মাথার পেছনে চারটি স্থানে এবং পিঠে ও বাঁ হাতে একটি করে জখম রয়েছে। তাঁর শরীরে ২৫-২৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে ওসমানী হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে ড. জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার রাত ১০টা ২৫ মিনিটে তাঁকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।

এর আগে রাত ৮টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ড. জাফর ইকবাল ও তাঁকে যে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়েছেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত আছেন। তাঁর মাথার পেছনে সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাতেও আঘাত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার সিএমএইচে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার তাঁকে সিলেট থেকে ঢাকায় আনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

তিনি বলেন, সিলেটের চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুসারে, জাফর ইকবালের আঘাত কোনো ভোঁতা জাতীয় বস্তু দিয়ে করা হয়েছে, খুব ধারালো কিছুর আঘাত বলে মনে হয় না।

এদিকে হামলার আগে হামলাকারী মঞ্চের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ড. জাফর ইকবাল অতিথিদের সারিতে বসে ছিলেন। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে এক যুবক এসে পেছন দিক থেকে ছুরির মতো কিছু একটা দিয়ে জাফর ইকবালের মাথায় চারটি আঘাত করে। হামলাকারী যুবককে পুলিশ ও উপস্থিত শিক্ষার্থীরা মুহূর্তেই আটক করে ফেলে। এ সময় দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে একজনকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায় বলে শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে।

হামলার পরপর জাফর ইকবালের মাথা থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা গেছে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী। হামলাকারীর হাত থেকে জাফর ইকবালকে প্রতিহত করতে গিয়ে ঘটনাস্থলে ইব্রাহিম নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

আহত অধ্যাপক জাফর ইকবালকে সঙ্গে সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসে করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাঁর মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। সেখানে প্রথমে তাঁকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সার্জারি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাঁকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপর তাঁকে কয়েক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি মঞ্চ থেকে অল্প দূরে ছিলাম। হঠাৎ একটা ছেলে এসে পেছন থেকে স্যারের মাথার ডান দিকে উপর্যুপরি তিন থেকে চারটি আঘাত করে।’

হামলাকারী ক্যাম্পাসের কেউ নয় উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবারই মুখ কমবেশি পরিচিত। এই ছেলেকে আগে ক্যাম্পাসে দেখিনি কখনো।’

তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘স্যারকে ঘটনাস্থল থেকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানোর সময়ও স্যার বললেন—যে ছেলেটা আমাকে মেরেছে তার কী অবস্থা।’

মুক্তমঞ্চের অনুষ্ঠানের একটি ছবিতে দেখা যায়, ইইই বিভাগের ফেস্টিভালে মঞ্চে বসে আছেন ড. জাফর ইকবাল। তাঁর পেছনে কালো গেঞ্জি পরা এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে। অনুষ্ঠানে যখন কিছু সময়ের বিরতি দেওয়া হয়, তখনই জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায় ওই যুবক।

হামলার খবরে শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় হাসপাতালে। অনেকে রক্ত দেওয়ার জন্য ভিড় জমায়। প্রত্যক্ষদর্শী ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী প্রকাশ রায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওই যুবক অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করছিল। তাকে আগে কখনো ক্যাম্পাসে দেখিনি। আমার সামনে হঠাৎ স্যারকে আঘাত করে। পরে আমরা তাকে ধরে ফেলি। স্যারকে উদ্ধার করতে গেলে তিনি বলেন, ‘আমি সুস্থ আছি। আমার কিছু হয়নি।’”

জাফর ইকবালকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার সময় তিনি ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ধর। আমি সুস্থ হয়ে যাব।’ প্রকাশ রায় আরো বলেন, হামলাকারীকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে—এ খবর শুনে ড. ইকবাল বলেন, ‘ওকে তোমরা মেরো না।’

আটকের সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে মারধর করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হামলাকারী যুবককে তাত্ক্ষণিকভাবে একাডেমিক ভবন ‘এ’তে রাখা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ডাক্তারদের একটি প্রতিনিধিদলকে ভবন চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হয়। পরে র‌্যাব ও পুলিশের পাহারায় রাত ৯টার দিকে যুবকটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলাকারীর গায়ে ছিল টি-শার্ট এবং পরনে জিন্স প্যান্ট। তার মুখে হালকা দাড়িও আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মঞ্চের পেছন থেকে এসে এক ছেলে ছুরি মারে মাথার পেছন দিকে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশসহ অন্যরা তাকে আটক করে।’ কী কারণে জাফর ইকবালের ওপর এই হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে তাত্ক্ষণিক কিছু জানা যায়নি বলে তিনি জানান।

জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি।’

পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম খান গত রাতে বলেন, ‘ড. জাফর ইকবালের ওপর বিভিন্ন জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর হুমকি ছিল। এই বিষয় মাথায় রেখে আমরা ছায়া তদন্ত করছি। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক হওয়া হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের একটি টিম সিলেট যাবে।’

নিন্দা ও বিক্ষোভ : জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় সিলেটে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠন। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঢাকায় শাহবাগে তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদসভা ও মশাল মিছিল বের করা হয়। সিলেট নগরে রাত ৯টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ, সিলেট। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে।  

অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এক বিবৃতিতে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং তাঁর চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ সন্ধ্যায় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দেখতে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে আসাদ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু মনে হয়েছে, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। তবে এখানে সিটি স্ক্যান করা যায়নি। যে কারণে হাসপাতালের পরিচালকসহ অন্যরা বলেছেন, যেহেতু সুযোগ আছে তাই ঢাকায় নিয়ে যাওয়া ভালো হবে। কারণ সিটি স্ক্যান করা যায়নি। যদি রাতে রক্তক্ষরণ হয় তাহলে সমস্যা হয়ে যাবে।’ সেখান থেকে বেরিয়ে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে সর্বশেষ অবস্থা অবগত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে। তিনি বিষয়টি দেখছেন।’

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) আবদুল ওয়াহাব মিয়া রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে আটক করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা কিছুটা শান্ত হলে পুলিশ তাকে নিয়ে আসবে।’

পুলিশ প্রহরায় থাকা অবস্থায় কিভাবে হামলা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সার্বক্ষণিক তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। হয়তো অনুষ্ঠানের কোনো এক ফাঁকে সুযোগ নিয়েছে।’ সিলেট মহানগর পুলিশের ডিসি (উত্তর) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘হামলাকারীকে সুস্থ করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তথ্য পাওয়া যাবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’

সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে সিলেট সফররত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাফর ইকবালকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং দীর্ঘক্ষণ পাশে অবস্থান করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সরাসরি দেখছেন। তাঁর নির্দেশেই ওনাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, যেকোনো শিক্ষকের ওপর হামলা শুধু নিন্দাজনক নয়, একটি ঘৃণ্য অপরাধ। তাই অপরাধীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

 



মন্তব্য