kalerkantho


অনুমতি ছাড়াই বিমানবন্দর সড়কে ৫০০ বৃক্ষ নিধন

পার্থ সারথি দাস   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অনুমতি ছাড়াই বিমানবন্দর সড়কে ৫০০ বৃক্ষ নিধন

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের পাশে এভাবেই নির্বিচারে কাটা হয়েছে বৃক্ষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

পেখম মেলে ছায়া বিলাত কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া। পথচারীদের নজর কাড়ত সারি সারি মেহগনি। ছিল আকাশমণি, কড়ই। এই বৃক্ষগুলোর মায়াভরা আশ্রয়ে প্রতিদিন তৃপ্ত হতো হাজারো মানুষ। মায়াময় এই বৃক্ষগুলো হঠাৎ নাই করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মায়ার আশ্রয়ের এই বৃক্ষগুলো আর নেই। শুক্রবার রাতের অন্ধকারে ভেকু চালিয়ে একে একে উপড়ে ফেলা হয়েছে ৫০০টি বৃক্ষ। পরে সেগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। গতকাল সকালে দেখা গেছে, সড়কের পাশে এখানে-সেখানে পড়ে আছে কাটা গাছগুলো। দুপুরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল অন্যত্র। চলতে চলতে দৃষ্টিতে পড়ল, সড়কের পাশে তখনো লেগে আছে গাছ উপড়ানোর ক্ষতচিহ্ন। রাজধানী ঢাকার ভিআইপি সড়ক হিসেবে পরিচিত বিমানবন্দর সড়কের পাশে চালানো হয়েছে এই নির্মম বৃক্ষনিধন কার্যক্রম।

ঢাকা সড়ক বিভাগের অধীন সড়কের পাশের এই বৃক্ষগুলো সড়ক বিভাগের অনুমতি ছাড়াই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাতে উপড়ে পরে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, যানজট নিরসনে নেওয়া ইউ লুপ প্রকল্প বাস্তবায়নে গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অনুমতি না নিয়ে বৃক্ষ নিধনের এই ঘটনায় মামলা করতে যাচ্ছে ঢাকা সড়ক বিভাগ। বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

গতকাল সকাল ১১টায় দেখা গেছে, বিমানবন্দর সড়কের ‘লা মেরিডিয়ান’ হোটেলের পাশ থেকে শুরু করে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের পাশের কাটা গাছগুলো সরিয়ে নিচ্ছে শ্রমিকরা। ওই সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী রবিউল ইসলাম বৃক্ষ নিধনের এই দৃশ্য দেখে বললেন, সবার অজান্তে, রাতের অন্ধকারে এভাবে কোনো সংস্থা গাছ কাটতে পারে না। গাছগুলো রক্ষা করেও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেত।

জানা গেছে, বনানী উড়াল সেতু থেকে ঢাকা সড়ক বিভাগের সড়ক শুরু হয়েছে। এই সড়কে অন্য কোনো সংস্থা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে নিয়ম অনুসারে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ঢাকা সড়ক বিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি।

জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ঢাকা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনকে গাছ কাটতে বাধা দিয়েছি। তার পরও তারা এসব গাছ কেটে নিয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতিসাধন ও সড়কের সোন্দর্যহানি ঘটানো হয়েছে। সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে আমরা তাই মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, সিটি করপোরেশনের অতি উৎসাহী কর্মকর্তারা রয়েছেন এর নেপথ্যে। তাঁরা অনুমতি না নিয়ে রাতের অন্ধকারে গাছগুলো কেটেছেন।

প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অনুরোধে গাছগুলো কাটা হয়েছে। বিভাগীয় বন সংরক্ষক (ডিএফও) উম্মে হাবিবা জানান, সিটি করপোরেশন ভেকু দিয়ে গাছ ধ্বংস করেছে—সংবাদ পাওয়ার পর বন বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন। গাছগুলো কেটে নেওয়ার আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। যিনি দরপত্র পেয়েছিলেন তিনিই গাছগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন। সিটি করপোরেশন হয়তো ড্রেন বা অন্য কিছু করতে চাইছে। তবে এ জন্য সড়ক বিভাগের অনুমতি দরকার ছিল। সেটা করা হয়নি।

জানা গেছে, এর আগেও কয়েকবার গাছগুলো কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সড়ক বিভাগের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। গত সপ্তাহে একবার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এই গাছ কাটার উদ্যোগে বাধা দিলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা পিছু হটেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে সড়ক বিভাগ বন বিভাগকে ‘সাময়িক গাছ কাটা বন্ধ’ রাখতে চিঠি দিয়েছিল। বিষয়টি বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জানেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, ইউ লুপ প্রকল্প পরিচালক বন বিভাগকে গাছ কাটার জন্য লিখিত চিঠি দিয়েছেন।

 


মন্তব্য