kalerkantho


মিয়ানমারের সেনারা শূন্যরেখা ছেড়ে সীমান্তেই

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা ও নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমারের সেনারা শূন্যরেখা ছেড়ে সীমান্তেই

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারের সেনারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে একটু পেছনে সরে গেলেও সীমান্ত এলাকা ছেড়ে যায়নি। বাংলাদেশের প্রতিবাদ, সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি জোরদার এবং পতাকা বৈঠকের পর গতকাল শনিবার সকাল ১১টা থেকে মিয়ানমারের সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যদের শূন্যরেখা থেকে পেছনে সরে গিয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপসহকারী লিসা কার্টিস। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের বসতভূমিতে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

তমব্রু সীমান্তে গত শুক্রবার দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর গতকাল সকাল থেকে মিয়ানমার বাহিনী শূন্যরেখা থেকে সরে যেতে শুরু করে। তবে তারা একটু পেছনে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে এবং জনবল আগের মতোই আছে। শূন্যরেখায় অবস্থানরত প্রায় সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গাকে সেখান থেকে সরে যেতে মাইকের মাধ্যমে মিয়ানমারের হুমকি-ধমকি আগের চেয়ে কমলেও পুরোপুরি থামেনি।

তমব্রু সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী গতকাল সকালে তমব্রু খালের তীরবর্তী এলাকায় জোরালো অবস্থান নেওয়া শুরু করে। এরপর মিয়ানমারের সেনা ও সীমান্তরক্ষীরা শূন্যরেখা থেকে কিছুটা সরে গিয়ে অবস্থান নেয়। 

তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে রোহিঙ্গা নেতা ফরিদ আলম বলেন, মিয়ানমারের সেনা ও সীমান্তরক্ষীরা একটু পেছনে গিয়ে সীমান্ত সড়কের আড়ালে অবস্থান নিয়েছে। তারা সীমান্ত এলাকা ছেড়ে যায়নি। বাংলাদেশ থেকে তাদের যাতে সরাসরি দেখা না যায় এমন অবস্থানেই আছে তারা।

রোহিঙ্গা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপসহকারী এবং  জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিসা কার্টিস গতকাল কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সময় বলেছেন, রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলার মতো অনেক লোক বিশ্বে এখনো আছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

লিসা কার্টিস আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহযোগিতা  দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ বসতভূমিতে নিরাপদে ফেরত পাঠাতেও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে তিনি কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রশংসাও করেন তিনি।

কক্সবাজারে লিসা কার্টিসের সফরসঙ্গী যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে আত্মমর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে।

লিসা কার্টিস তাঁর তিন দিনের বাংলাদেশ সফরের শেষ দিন আজ রবিবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সে সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলে’ বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

আমাদের বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি জানান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন গত শুক্রবার রাতে যশোরের শার্শা উপজেলার শালকোনা সীমান্তে বিজিবির একটি নতুন ‘কম্পোজিট বিওপি ক্যাম্প’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মিয়ানমার সীমান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তের শূন্যরেখায় সেনা সমাবেশ করেছে। আমরা পতাকা বৈঠক করে তাদের বলেছি, তোমরা এটি করতে পারো না। আমাদের সীমান্তেও বিজিবিকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।’

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার খালিদ আল মামুন বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আমরা প্রস্তুত আছি।’


মন্তব্য