kalerkantho


ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ

রাজনৈতিক অনৈক্যেই জঙ্গিবাদের উত্থান

বিশেষ প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রাজনৈতিক অনৈক্যেই জঙ্গিবাদের উত্থান

বাংলাদেশে বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ জিহাদি তৎপরতা বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে ব্রাসেলসভিত্তিক সংকট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। সংস্থাটি আরো জানায়, জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও আনসারুল ইসলাম বাংলাদেশে জিহাদি তৎপরতায় সক্রিয় রয়েছে।

বাংলাদেশ বিষয়ে গতকাল বুধবার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে ওই জিহাদি গোষ্ঠী বাংলাদেশে সেক্যুলার কর্মী, বুদ্ধিজীবী ও বিদেশি, এমনকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করছে। আইসিজি মনে করে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের ঝুঁকিকে রাজনৈতিকীকরণ করেছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের মদদদাতা হিসেবে বিরোধীদের দমন-পীড়ন দেশে জিহাদি দলে সদস্য ভেড়ানো ও হামলা ঠেকানোর প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে।

বাংলাদেশে বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সহিংসতার জন্য দায়ী ছিল রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠীগুলো। তারা কিছু সাফল্যও পেয়েছিল। পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের পর তিক্ত রাজনৈতিক বিভাজন নতুন মাত্রায় জিহাদি তৎপরতার সুযোগ করে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি-সন্ত্রাসী তৎপরতা কমা সাময়িক বিরতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইসিজি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ আরো বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) প্রান্তিকীকরণে সরকারের অব্যাহত চেষ্টা এবং জামায়াতে ইসলামীর মতো বিরোধীদের ‘আন্ডারগ্রাউন্ডে’ চলে যেতে বাধ্য করার ফলে জিহাদি তৎপরতা প্রতিরোধের চেষ্টাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

আইসিজি মনে করে, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মতো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে সরকারের উচিত সন্ত্রাসবিরোধী জোরালো কৌশল গ্রহণ করা। এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং আরো সঠিক ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টায় সরকারের জোর দেওয়া উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাস দমনের নামে রাজনৈতিক বিরোধীদের ধরপাকড় না করে ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।

আইসিজি বলেছে, মিয়ানমার থেকে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য বড় নিরাপত্তাঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের তথ্য প্রচার করে নিজেদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে জিহাদি কর্মকাণ্ডে শরণার্থীদের কাজে

লাগানোর চেষ্টা চলছে। কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্থানীয় বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য বিরোধ ঠেকাতেও সরকারের প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর আইসিজি গুরুত্বারোপ করেছে।



মন্তব্য