kalerkantho


খালেদার জরিমানা স্থগিত

♦ আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ
♦ জামিন শুনানি রবিবার
♦ আদালতে হাজিরার আবেদন দুদকের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খালেদার জরিমানা স্থগিত

দুর্নীতির অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া পাঁচ বছরের সাজা বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এ মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে যে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন তা স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত। তবে কেবল খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে জরিমানার আদেশ স্থগিত হলো। হাইকোর্টের এই আদেশের কপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মামলার যাবতীয় নথি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন শুনানির জন্য আগামী রবিবার দুপুর ২টায় দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছেন আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নওশাদ জমির, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, রাগিব রউফ চৌধুরী ও সগীর হোসেন লিওন। এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুর রেজাক খান, হাবিবুল ইসলাম ভুইয়া, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জিয়াউর রহমান খান, শাহজাহান ওমর, সানাউল্লাহ মিয়া, বদরুদ্দোজা বাদল, এহসানুর রহমানসহ কয়েক শ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ, শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির, খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদসহ বেশ কয়েকজন আইন কর্মকর্তা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান, মোশাররফ হোসেন কাজল ও আবদুস সালাম।

সরকার সমর্থকদের মধ্যে অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, শ ম রেজাউল করিমসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

৮৮০ পৃষ্ঠার জামিন আবেদন : খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য গতকাল ৮৮০ পৃষ্ঠার আবেদন করা হয়। এর মধ্যে মূল আবেদন ৪৮ পৃষ্ঠার। ৩২টি যুক্তিতে জামিন চাওয়া হয়।

জামিন আবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স ৭৩ বছর। তিনি শারীরিক বিভিন্ন জাটিলতায় ভুগছেন। ৩০ বছর ধরে গেঁটে বাত, ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিস, ১০ বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও আয়রন স্বল্পতায় ভুগছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে তাঁর বাম হাঁটু এবং ২০০২ সালে ডান হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। হাঁটু প্রতিস্থাপনের কারণে তাঁর গিঁটে ব্যথা হয়, যা প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক। এমনকি হাঁটাহাঁটি না করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ রয়েছে। আবেদনকারী একজন নারী। এসব বিবেচনায় তাঁর জামিন মঞ্জুরের আবেদন জানানো হয়। এ আবেদনে আপিলের অনেকগুলো যুক্তি জামিনেরও যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

শুনানির শুরুতেই আদালত ক্ষুব্ধ : আদালত কক্ষভর্তি আইনজীবীদের হৈচৈয়ের মধ্যেই গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় দুই বিচারপতি এজলাসে বসেন। আইনজীবীদের হৈচৈ না থামায় আদালত বলেন, ‘আপনারা সকলেই বারের (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি) সদস্য। আমাদের সহযোগিতা না করলে আমরা নেমে যেতে বাধ্য হব।’ এরপর আদালত অন্যান্য মামলার বিচারকাজ শুরু করেন।

এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ হোসেন দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর শুনানির জন্য সময় চান। তিনি দুপুর ২টার পর শুনানির সময় নির্ধারণের আবেদন জানান। তিনি বলেন, ‘একটু আগে কপি পেয়েছি। তাই সময় দরকার।’

আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সম্মতিতে দুপুর ১২টায় শুনানির সময় নির্ধারণ করেন। এরপর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে আদালত অন্যান্য মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করতে থাকেন।

আদালত কক্ষে বিএনপি মহাসচিব : গতকাল সকাল সোয়া ১১টায় আদালত কক্ষে উপস্থিত হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাঁরা আইনজীবীদের জন্য রাখা বেঞ্চের পেছনের সারিতে বসেন। এরপর কয়েক মিনিট পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আইন কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। পরে সরকার সমর্থক সিনিয়র আইনজীবীরা আসেন। এরপর দুদকের আইনজীবীরা আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন।

তখনো বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা আদালত কক্ষে আসেননি। কিন্তু মধ্যম সারির ও জুনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত হন। এতে আদালতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। এরই মধ্যে সিনিয়র আইনজীবীরা ঢুকতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পারছিলেন না। ফলে হৈচৈ শুরু হয়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। বিচারকাজ থেমে যায়। ওই সময় আদালত উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, কেউ ভিডিও করবেন না। মোবাইল ফোন চালু করবেন না।

এই পরিস্থিতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এ রকম চলতে পারে না। শৃঙ্খলা দরকার। আপনি উভয় পক্ষে ১০ জন করে সিনিয়র আইনজীবীকে রেখে অন্যদের বের করে দিতে পারেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা কোনো দিন দেখিনি যে কোনো মামলায় আপিল অ্যাডমিশনের শুনানিতে আইন কর্মকর্তায় আদালত ভরে যায়। কিন্তু আজ তা হয়েছে। এখানে অ্যাটর্নি জেনারেল একাই যথেষ্ট। কিন্তু দেখুন, আইন কর্মকর্তারা অন্যান্য আদালতে নিজেদের ডিউটি ফেলে রেখে সব চলে এসেছে।’

এ পরিস্থিতিতে আদালত অস্বস্তি প্রকাশ করে দুপুর পৌনে ১২টায় এজলাস থেকে নেমে যান।

আপনারা কি নেত্রীর মুক্তি চান না—ফখরুল : আদালত নেমে যাওয়ার পরও আইনজীবীদের হৈচৈ চলতে থাকে। এ অবস্থায় মির্জা ফখরুল ইসলাম ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দাঁড়িয়ে বিএনপি সমর্থক জুনিয়র আইনজীবীদের আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এরপর দুই-একজন আইনজীবী বের হলেও প্রায় সবাই দাঁড়িয়ে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ফখরুল বলেন, ‘আপনারা কি চান না নেত্রী মুক্তি পাক?’

কিন্তু পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জুনিয়র আইনজীবীদের ধমকাতে থাকেন। সবাইকে শান্ত হতে বলেন।

মূল শুনানি : দুপুর ১২টায় অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতে উপস্থিত খালেদা জিয়ার পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীদের নাম উল্লেখ করে বলেন, এখানে অনেক সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত রয়েছেন। তবে আপিলটি শুনানি করবেন এ জে মোহাম্মদ আলী।

এরপর এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, ‘ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের ১০(১) ধারায় আপিলটি করা হয়েছে। আমি আপিল শুনানির জন্য গ্রহণের আবেদন করছি। এরপর জামিনের আবেদন দেব।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘আবেদনে কী চেয়েছেন।’

জবাবে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘একটা আপিল অ্যাডমিশনের আবেদনে নরমালি যা যা থাকে আমরাও তাই চেয়েছি।’

আদালত আবেদন দেখে বলেন, ‘আপনারা তো কনভিকশন, সেন্টেন্স ও জরিমানা স্থগিত চেয়েছেন। জামিনও চেয়েছেন। কিন্তু কনভিকশন স্থগিত হয় কী করে? ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টে কনভিকশন স্থগিত করার বিধান নেই।’

জবাবে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, এ শব্দগুলো সংশোধন করে দেব। এটা গতানুগতিক। প্রথা অনুযায়ী যেভাবে আবেদন করতে হয় সেভাবেই এ আবেদন করা হয়েছে।

এ পর্যায়ে দুই বিচারপতি নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করেন। পরে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে আদেশ দেন। এ আদেশে জরিমানা স্থগিত করা হয়। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জরিমানার আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

জামিন আবেদনের শুনানি : এরপর এ জে মোহাম্মদ আলী খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘১৫ দিন ধরে খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। ৪০৯ ধারায় শাস্তি হয়েছে। যেহেতু তাঁকে লঘু সাজা দেওয়া হয়েছে, সে জন্য আমরা তাঁর জামিন চাচ্ছি। বয়স, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি জামিন পেতে পারেন।’

তখন আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য জানতে চান।

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘জামিনের আবেদনটি কার্যতালিকায় এনে শুনানি করা হোক।’ তিনি আদালতের আদেশ উল্লেখ করে বলেন, ‘আপিল অ্যাডমিশন করেছেন। জরিমানা স্থগিত করেছেন। নথি তলব করেছেন। এ অবস্থায় নথি না আসা পর্যন্ত জামিন শুনানির সুযোগ নেই। নথি আসুক। এরপর শুনানি হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকালে আবেদনের কপি পেয়েছি। তাই আগামী সপ্তাহে রাখা হোক।’

এ পর্যায়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমরা অ্যাডমিশনের সময় শুনানি করতে পারি নাই।’

আদালত বলেন, ‘ওই সময় শুনানির কোনো সুযোগ নেই। যখন শুনানির প্রয়োজন তখনই আপনাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া তারা তো (খালেদার আইনজীবী) মেরিটে শুনানি করতে চাচ্ছে না।’

জবাবে দুদকের আইনজীবী ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর সংশোধিত দুদক আইনের ৩৩(৫) ধারা দেখিয়ে বলেন, ‘এখানে বলা আছে—দুদককে যুক্তিসংগত সময় না দিয়ে শুনানি করা যাবে না। কিন্তু আমাদের যুক্তিসংগত সময় দেওয়া হয়নি। আজ (গতকাল) সকালে আমাদের আবেদনের কপি দেওয়া হয়েছে। কপি অনেক বড়। যুক্তিও অনেকগুলো।’

দুদক আইনজীবী বলেন, ‘ফৌজদারি আইনে নারীকে জামিন দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু দুদক আইনে সে সুযোগ নেই।’

এরপর খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমরা সুযোগ চাচ্ছি। জামিন আবেদন কার্যতালিকায় রাখুন।’

রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের বক্তব্যের বিরোধিতা করে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কম সাজার ক্ষেত্রে আপিল গ্রহণের সময় জামিন দেওয়ার প্রথা আছে। তাইতো আমরা জামিন চাচ্ছি। এর বিরোধিতা করার কোনো কারণ দেখি না।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে—কম সাজা হলে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের অনেক আদেশ আছে। কিন্তু এ জাতীয় বিশেষ আইন হওয়ার আগেই আপিল বিভাগে আদেশ দেওয়া হয়।’ আদালত বলেন, ‘যেহেতু আইনে আছে যুক্তিসংগত সময় দিতে হবে। এ ছাড়া নথি থেকে দেখা যায়, আজ (গতকাল) সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে কপি সরবরাহ করা হয়েছে। মাত্র আড়াই ঘণ্টা যুক্তিসংগত সময় নয়। তাই রবিবার বেলা ২টায় শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখছি।’ এরপর আদালত আদেশ দিয়ে দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে এজলাস থেকে নেমে যান।

দুদক ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা মডেল থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে। এতে খালেদা জিয়া, তাঁর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। এ মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় কোকো মারা যান। এ কারণে তাঁর বিচার হয়নি।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। সব আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি এ রায়ের জাবেদা নকল কপি পাওয়ার পর ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল আবেদন দাখিল করা হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানিতে কারাগার থেকে খালেদাকে হাজির করার আবেদন : এদিকে আদালত প্রতিবেদক জানান, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে আগামী রবিবার খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য আবেদন করেছে দুদক। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ চলা ওই মামলায় গতকাল এই আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা বর্তমানে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। আগামী রবি ও সোমবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকার্য পরিচালনায় খালেদার উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁকে যথাসময়ে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য প্রসিকিউশন ওয়ারেন্ট (পিডাব্লিউ) ইস্যু করার আদেশ দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী দুদকের পিপি মোশারফ হোসেন কাজল জানান, আবেদনের ওপর কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। তবে আদালত আদেশ দিলে কারা কর্তৃপক্ষ খালেদাকে হাজির করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


মন্তব্য