kalerkantho


রাজশাহীতে জনসভায় শেখ হাসিনা

হাত তুলে ওয়াদা করুন নৌকায় ভোট দেবেন

রাজশাহীতে ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



হাত তুলে ওয়াদা করুন নৌকায় ভোট দেবেন

রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে গতকাল বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে, বিএনপি ধ্বংস করে—এই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগই পারে দেশের উন্নয়ন করতে। আওয়ামী লীগই পারে দেশের কল্যাণ করতে। আর নৌকা মার্কা সেই নুহ নবীর আমল থেকেই বিপদে রক্ষা করেছে। নুহ নবীর নৌকা, এই নৌকা দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এই নৌকা উন্নয়ন দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে, সেই নির্বাচনে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রত্যেকটা নির্বাচন মার্কা দিয়ে নির্বাচন হবে। মার্কাটা কী? মার্কাটা হচ্ছে নৌকা। সেই নৌকা মার্কায় আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই। যে উন্নয়ন করে যাচ্ছি, সেই উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে, মানুষ যেন খেয়ে-পরে সুখে থাকে, মানুষ যেন শান্তিতে থাকে, তার জন্য আমি আপনাদের কাছে আবেদন করি—আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ আমাদের দেন। আপনাদের কাছে আমি ওয়াদা চাই, আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে জনসভাস্থলে এসে পৌঁছেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে তিনি ভাষণ দিতে শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। তিনি আসার আগেই কানায় কানায় ভরে যায় মাদরাসা মাঠ। সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে এসে জড়ো হতে থাকে। দুপুর হওয়ার আগেই মাঠ ভরে যায়। নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মাঠে জায়গা না পেয়ে ছড়িয়ে পড়ে মাঠের দক্ষিণ দিকে শাহ মখদুম ঈদগাহ মাঠ, বাইপাস সড়ক, পদ্মাপাড় ও আশপাশের বিভিন্ন রাস্তায়।

প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছে প্রথমে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সব মিলিয়ে তিনি ২৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

জনসভায় প্রায় ৩৭ মিনিটের ভাষণে জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন ভাতা চালুর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা একবার চিন্তা করে দেখেন, যারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, তারা জনগণের জন্য কী কল্যাণ করতে পারে? কী মঙ্গলটা করতে পারে? আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করি। আমরা যেখানে জনগণের কল্যাণে কাজ করি, আর তারা জনগণের সম্পদ লুটে খায়।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হয়েছে, কেন গ্রেপ্তার হয়েছে? এতিমের টাকা লুটের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছে। সেই ’৯১ সালে এতিমখানা তৈরি করবে বলে বিদেশ থেকে টাকা এনেছে; কিন্তু এতিম খানা কই? কেউ এতিমখানার ঠিকানা জানে না। সেই টাকা নয়ছয় করে, লুটপাট করে খেয়েছে আর আজকে প্রায় ২৭ বছর পর বলে না টাকা তো আছে, সুদে-আসলে বেড়েছে। এতিমের টাকা এতিমের হাতে যায় নাই। আজকে মামলা দিয়েছে কে? মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই মামলায় আজকে তাঁর সাজা হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার দুই ছেলের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকার ফেডারেল কোর্ট তাঁর ছেলে যে টাকা চুরি করেছে, ঘুষ খেয়েছে সেই কথা তারাই বলেছে। সিঙ্গাপুর কোর্ট সেই একই কথা বলেছে। এই দেশের টাকা জনগণের কাজে লাগে নাই। বিদেশে পাচার করেছে। সেই পাচার করা টাকা আমরা ফেরত এনেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বিএনপি নেতারা আন্দোলন করে। কিসের আন্দোলন? টাকা চুরির আন্দোলন। টাকা চুরি করে তাদের নেত্রী জেলে গেছে। আন্দোলন চোরের জন্য?’

আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে যে ট্রাস্ট ফান্ড করেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তন্নতন্ন করে খুঁজেছে কোনো অনিয়ম পাই কি না, আমাকে কোনো মতে ফাঁসানো যায় কি না। এতটুকু অনিয়ম তারা সেখানে পাই নাই। আমি বলেছি, ভালোভাবে তদন্ত করে দেখেন। আমরা জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করতে আসি। জনগণের সম্পদ কেড়ে খেতে না। আমরা পৈতৃক যে সম্পত্তি পেয়েছি তা জনগণের কল্যাণে দিয়েছি। আমরা তো এতিমের টাকা মেরে খাইনি। বরং এতিমের জন্য কাজ করেছি। আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। আমরা উন্নয়ন করি, তারা ধ্বংস করে। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কাটে। রাস্তা বানাই, রাস্তা কেটে ফেলে। তারা হাজার হাজার বাস, ট্রাক জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।’

২০২১ সালের মধ্যে দেশের কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না—প্রধানমন্ত্রী এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে নাই। তারা দিয়েছিল কি, খাম্বা। খালেদা জিয়ার ছেলে খাম্বার ব্যবসা করত, সবাই গিয়ে সেই খাম্বা কিনে এনেছে। রাস্তার পাশে শুধু খাম্বা পড়ে থাকত, বিদ্যুৎ নাই, খুটি আছে। তো খুটি তো বিদ্যুৎ দিতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় আসার পরে আবার ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। দেশের ৯০শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পায়।’

রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দলের নগর শাখার সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজশাহী নগরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিএনপির আগের ও বর্তমান মেয়রদের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নের জন্য টাকা দিয়েছি প্রকল্প দিয়েছি। যত টাকা এবং প্রকল্প আমরা রাজশাহীতে দিয়েছি তার কোনোটাই তারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কারণ এদের মন থাকে সব সময় লুটপাটের দিকে। এদের নেতাই যদি এতিমের টাকা মেরে খায়, তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা কি করতে পারে আপনারাই বিচার করুন। কাজেই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য লিটনকে আবারও জয়যুক্ত করুন।’

জনসভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক ও ড. সাইদুর রহমান খান, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবউল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুজ্জামান শিখর, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আকতার জাহান প্রমুখ।


মন্তব্য