kalerkantho


সুনাম পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে

মাসুদ পারভেজ   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সুনাম পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে

প্রশ্নকর্তার সঙ্গে একটুও দ্বিমত করলেন না মাহমুদ উল্লাহ। আপৎকালীন অধিনায়ক মানলেনও যে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছেই।

তাঁর কথা শুনে মনে হতে পারে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজই সেই প্রশ্নচিহ্ন মুছে দেওয়ার আদর্শ মঞ্চ। মাতাল হাওয়ায় টালমাটাল হয়েই যে মঞ্চে উঠতে চলেছে স্বাগতিকরা!

দেশের মাটিতে সচ্ছল বলে নিজেদের একরকম প্রতিষ্ঠা করে ফেলা বাংলাদেশের সুখের সংসারে হুট করে দারিদ্র্যের উঁকিঝুঁকি দেখা যেতেই সে মাতাল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। যার শুরুটা ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে লঙ্কানদের কাছে হারের পর। পছন্দের উইকেট না পাওয়া নিয়ে ক্রিকেটারদের অসন্তোষ বাতাসে চাউর হয়ে যেতে না যেতেই উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে পরের কাঁধে দোষ চাপানোর অভিযোগ বোর্ড সভাপতির।

মিরপুর টেস্টে ভরাডুবির জন্যও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ প্রকাশ্যেই ক্রিকেটারদের দাঁড় করিয়েছেন কাঠগড়ায়। এর আগে-পরে দল নির্বাচন নিয়েও কত কাণ্ড! যখন-তখন এঁকে-তাঁকে দলে নিয়ে আসা এবং তিন ফরম্যাট মিলিয়ে গত এক মাসে ত্রিশের বেশি খেলোয়াড়ের দলভুক্তিও ব্যর্থতায় ম্যানেজমেন্টের খেই হারানোর ব্যাপারটি উন্মুক্ত করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে চোটের জন্য সাকিব আল হাসানকে আরো কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে জানার পরও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক ঘোষণার বিলম্বও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে খুব ভালো বার্তা দেয়নি।

এ রকম পরিবেশে মুখ ফুটে কিছু বলার স্বাধীনতাও নেই খেলোয়াড়দের। ম্যানেজমেন্টের তোপের মুখে বড্ড একা ও কোণঠাসা হয়ে পড়া ক্রিকেটারদের সামনে এখন শুধু একটি পথই খোলা। মাঠের পারফরম্যান্সই শুধু পারে বিরুদ্ধ স্রোতে সাঁতরে তাঁদের বের করে নিয়ে যেতে। কিন্তু সেই স্রোত আরো প্রতিকূল, যখন ফরম্যাটটি টি-টোয়েন্টি। আবার এটিও ঠিক যে সমালোচনার তীর ফেরাতে শেষ সুযোগও এই সিরিজই। কাজেই নিজেদের তৈরি করা সুনাম পুনরুদ্ধারে না ঝাঁপিয়ে উপায়ও নেই কোনো।

মাহমুদ উল্লাহকেও মনে হলো সেই গৃহকর্তা, যিনি প্রাণপণ লড়াইয়ে অভাবগ্রস্ত সংসারে আলোর রেখাটা দেখাতে চান। চান বলেই এক নিমেষেই তাঁর মনে পড়ে গেল গত কয়েক বছরে নিজেদের শ্রমে-ঘামে আদায় করে নেওয়া স্বীকৃতির কথাও। সেই স্বীকৃতি যখন সংকটাপন্ন, তখন বিপদাপন্ন জাহাজের নাবিকেরও হাল ছাড়লে চলে না। হাল ছাড়ছেন না ‘স্টপগ্যাপ’ অধিনায়ক মাহমুদও। টি-টোয়েন্টি তাই যতই স্বাগতিকদের কাছে অমীমাংসিত রহস্য হয়ে থাক না কেন, শেষ চেষ্টা হিসেবে সেটি মেলানোর চ্যালেঞ্জ যেন আরো বেশি করেই নিচ্ছেন তিনি।

শেষ চেষ্টায় ভীষণ মরিয়া মাহমুদকে ফুটিয়ে তুলল আজ প্রথম টি-টোয়েন্টি সামনে রেখে বলা তাঁর এ কথাগুলোও, ‘যেভাবে পারফরম করছিলাম ঘরের মাটিতে, ওই প্রত্যাশা (ভালো করার) আমরাই তৈরি করেছি সবার মনে। এবার সেই ফলটা দেখাতে পারিনি। আমার যেটা মনে হয়, আমাদের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্যের ওপর একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে। এই সিরিজে একটি বার্তা দেওয়ার আছে বাকি বিশ্বকে। এই সিরিজটি তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য যেমন, তেমনি আমাদের ক্রিকেটের জন্যও। আমরা সেই বার্তাটি দিতে চাই।’ 

বাংলাদেশের যখন বার্তা দেওয়ার তাড়না, তখন শতভাগ সাফল্য নিয়ে ফিরে যাওয়ার আশা শ্রীলঙ্কার। ফুরফুরে মেজাজে থাকা দলটির টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা সে কথা বেশ উঁচু গলায় বলেও যেতে পারলেন। কারণ পেছনে তাঁদের সাফল্যের টাটকা স্মৃতি, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ভালোই করেছি। সেটি ওয়ানডে টুর্নামেন্টেই বলুন বা টেস্ট সিরিজে। সুবাদে আমাদের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। দলে কিছু নতুন মুখও আছে। তা ছাড়া আমরা ছন্দটাও খুব ভালো ধরেছি। এখন সেটি ধরেই এগিয়ে যেতে চাই। সবাই সে জন্য মুখিয়েও আছে।’

বেশ কিছু নতুন মুখ আছে বাংলাদেশ দলেও। অবশ্য নতুন মুখ নামিয়ে বাংলাদেশকে চমকে দেওয়ার সুযোগ নিঃসন্দেহে নিতে চাইবেন চন্দিকা হাতুরাসিংহেও। যেমন দিয়েছিলেন ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও। শিহান মাদুশঙ্কা নামের এক পেসার অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করে হয়েছিলেন ফাইনালে আরেকবার স্বাগতিকদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ। দলে ছয়জন নতুন মুখ যখন আছে বাংলাদেশেরও, তখন আজ অনেকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হতে চলেছে নিশ্চিতভাবেই। শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে উদ্দাম তারুণ্য দিয়ে লঙ্কানদের ভড়কে দেওয়ার সুযোগটিও নিতে চাইবে স্বাগতিকরা।

যদিও অনিশ্চয়তা আছে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের খেলা নিয়ে। দুজনেরই চোট আছে। প্রথমজনের চোট বাইসেপে, পরেরজনের কবজিতে। তাঁদের ব্যাকআপ হিসেবে তাই গতকাল বিকেলে স্কোয়াডের ১৬তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনকেও। তবে যত দূর খবর, শেষ পর্যন্ত তামিমের খেলে ফেলার সম্ভাবনাই জোরালো। মুশফিকের ক্ষেত্রে অতটা জোরালো অবশ্য নয়, এই সুযোগে তাঁকে টি-টোয়েন্টি থেকে ছেঁটে ফেলার চেষ্টার গুনগুনও তো কম শোনা যাচ্ছে না। এই আলোচনাও বহমান মাতাল হাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। সেসব থামাতেও আরো বেশি করে ক্রিয়াশীল হওয়া চাই ক্রিকেটারদের।

যে ক্রিয়াশীলতা দেশের মাটিতে প্রায় অপরাজেয় দল বানিয়ে দিচ্ছিল বাংলাদেশকে। এবার কয়েক ধাক্কায় সেই সুনাম লণ্ডভণ্ড হওয়ার পথেও। এই যখন অবস্থা, তখন অচেনা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকেও আলিঙ্গনে বাঁধতে চাইছে বাংলাদেশ দল। সেটি এই ফরম্যাটে নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে ঝুলে থাকা প্রশ্নবোধক চিহ্ন মুছে দিয়েই!

 

 



মন্তব্য