kalerkantho


খালেদার সঙ্গে থাকার অনুমতি মিলল ফাতেমার

কালও মেলেনি রায়ের কপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খালেদার সঙ্গে থাকার অনুমতি মিলল ফাতেমার

ফাইল ছবি

অবশেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সেবা করার সুযোগ পেলেন ফাতেমা বেগম (৩৫)। গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের দিন তাঁর সঙ্গে ফাতেমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেদিন কারা কর্তৃপক্ষ ফাতেমাকে জেলের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। শেষে গতকাল বুধবার আদালত খালেদা জিয়ার সেবা করতে ফাতেমাকে অনুমতি দিয়েছেন বলে এক কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। তবে একাধিক সূত্র জানায়, আরো দুই দিন আগে থেকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন ফাতেমা।

পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন রোডের পুরনো কারাগারের মহিলা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই সেলে থাকবেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী ফাতেমা।

কালও মেলেনি খালেদার রায়ের কপি : অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের জাবেদা নকল (অবিকল সত্যায়িত অনুলিপি) গতকালও পাওয়া যায়নি। গতকাল দুপুরের পর থেকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা নকলের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ ৫-এর আদালতে অপেক্ষা করছিলেন। প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় নকল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, নকল আজও (বুধবার) হাতে পাওয়া যায়নি। আদালত থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (আজ) নকল সরবরাহ করা হবে। আজ জাবেদা নকল পেলে আগামী রবিবার হাইকোর্টে আপিল দায়ের করা হবে। আপিলের সঙ্গে জামিনের আবেদনও করা হবে।

এর আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আশা করছিলেন, গতকালই নকল পাওয়া যাবে। খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, নকল পাওয়ার জন্য তিন হাজার ফলিও (বিশেষ স্ট্যাম্প) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তিন হাজার পৃষ্ঠার নকল সরবরাহ করতে একটু সময় লাগে বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের একজন কর্মচারী কালের কণ্ঠকে জানান।

মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন প্রত্যাহার :  এদিকে গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা একটি মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের কাছে এ আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।

গত বছরের ১২ অক্টোবর এই মামলাটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকে বারবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের জন্য তারিখ ধার্য করা হলেও পুলিশ ওই পরোয়ানা তামিল করেনি। এই মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাঁকে হুমকি দেন ও অবরুদ্ধ করে রাখেন। ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি করে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তাদের গাড়িতে তুলে দিয়েছেন, যা মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পতাকা ও মানচিত্রের অবমাননার শামিল। এবং মানহানির শামিল।

খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার ছয় দিন পর গতকাল বাদী এ বি সিদ্দিকী আদালতে দরখাস্ত দিয়ে বলেন, ‘এই মামলায় অনেক আগেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে আছে। কিন্তু ওই পরোয়ানা তামিল করা হচ্ছে না। তিনি যেহেতু কারাগারে আছেন তাই এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানাচ্ছি।’

সকালের দিকে শুনানির পর ম্যাজিস্ট্রেট পরে আদেশ হবে বলে জানান। তবে যেহেতু গ্রেপ্তারি পরোয়ানাবলে গ্রেপ্তার দেখানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের, তাই বাদী দরখাস্তটি ফেরত নেন। ফলে খালেদা জিয়াকে নতুন কোনো মামলায় গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।



মন্তব্য