kalerkantho


ইতালিতে সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতিবাজদের বিচার হতেই হবে

ইতালি প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দুর্নীতিবাজদের বিচার হতেই হবে

দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি নিয়ন্ত্রণে দুর্নীতিবাজদের বিচার চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়ের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার ইতালির রোমে প্রবাসীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এটুকু বলতে চাই, দুর্নীতি যারা করবে, সন্ত্রাস যারা করবে, জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার হতেই হবে। কারণ আমরা দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। আমরা দেশকে উন্নত এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। এটা তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও স্বজনপ্রীতি নিয়ন্ত্রণ ও অপসারণ করতে পারব।’

রোমের পার্কো দেই প্রিনসিপি গ্র্যান্ড হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করে ইতালি আওয়ামী লীগ। বক্তব্যে দুর্নীতির মামলায় দণ্ড পেয়ে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া; তাঁর দুই ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৫ সালে নির্বাচন প্রতিরোধ ও সরকার পতনের নামে এই বিএনপি জ্বালাও-পোড়াও ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। ২০১৩ সালে ঠিক একইভাবে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে দেয়। এই সময়ে সমানে তারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষকে তারা আগুন দিয়ে ঝলসে দিয়েছে। ওই তিন বছরে পাঁচ শর কাছাকাছি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। পুলিশ, বিজিবি, সেনা সদস্যকে পুড়িয়ে মেরেছে। কত অন্যায় তারা করেছে চিন্তা করেন। সারা বাংলাদেশে এ ধরনের তাণ্ডব তারা করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যে মামলায় খালেদা জিয়ার শাস্তি হয়েছে সে মামলা কে দিয়েছে? খালেদা জিয়ার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। সেনাবাহিনীর ৯ জন জেনারেলকে ডিঙিয়ে মইন উদ্দিনকে তিনি সেনাপ্রধান করেছিলেন। আর বিশ্বব্যাংকে চাকরি করতেন ফখরুদ্দীন সাহেব, তাঁকে নিয়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করেছিলেন। তাঁদের দলীয় লোক ইয়াজউদ্দিন সাহেবকে বানালেন রাষ্ট্রপতি। ফখরুদ্দীন, মইন উদ্দিন, ইয়াজউদ্দিন তাঁরাই তো তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দিলেন। এ মামলা তো আওয়ামী লীগ দেয়নি।’

খালেদা জিয়ার রায়ের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপির লোকরা বলে, হ্যাঁ, মাত্র এতটুকু টাকার জন্য এই শাস্তি দেওয়ার কী দরকার ছিল? এতটুকু মানে দুই কোটি টাকার জন্য এই শাস্তি কেন দেওয়া হলো?’ ‘টাকাটা কোন এতিমের কাছে গেছে’—এ প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘যদি খালেদা জিয়া বলতেন আমার দুই ছেলে এতিম, তার জন্য রেখেছি। তাও একটা যুক্তি ছিল। সেটাও উনি করেননি।’

তখন দুই কোটি টাকায় ধানমণ্ডিতে চারটি ফ্ল্যাট কেনা যেত মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘টাকার মায়া ছাড়তে পারেননি। নিজের কাছে কুক্ষিগত করতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন। আমার প্রশ্ন, আজকে যারা বিএনপি দরদি, আঁতেলরাও আছে, তারা বলে দুই কোটি টাকার জন্য কেন এত মামলা। তাহলে আমার এখানে একটা প্রশ্ন আছে, দুর্নীতি করার জন্য কি একটা সিলিং থাকবে যে এত কোটি পর্যন্ত দুর্নীতি করা জায়েজ। তারা কি সেটা বলতে চায়? বিএনপি তাহলে একটা দাবি করুক যে এত কোটি পর্যন্ত তারা দুর্নীতি করতে পারবে। সেটা নিয়ে একটা রিট করুক।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আদালত রায় দিয়েছেন। এখানে আমাদের তো করার কিছু নেই। আর আমরা যদি করতামই তাহলে ১০ বছর তো চলতে দিতাম না। ২০০৮-এ যখন ক্ষমতায় এলাম, তখনই তো করতে পারতাম। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। এখানে আমাকে গালি দেওয়া বা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কী যুক্তি থাকতে পারে আমরা তো সেটা বুঝি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দুই ছেলে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত; যাদের টাকা আমরা ফেরত এনেছিলাম। উনি (খালেদা জিয়া) প্রধানমন্ত্রী হয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যেমন করেছেন, তাঁর দুই ছেলেও কালো টাকা সাদা করেছেন। এলো কোথা থেকে এই টাকা। দেশটাকে দুর্নীতির আখড়া করে দিয়েছিল তারা।’

জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের শাসনামলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বলা যায়, সেই সময় ছিল ‘স্বর্ণযুগ’। সব কিছুতে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। ২০০১-এ বিএনপি এলো, আবার সব থেমে গেল। আবার সব খুন, হত্যা, জঙ্গি সন্ত্রাস, বাংলাভাই সৃষ্টি—এগুলো শুরু হলো। বিএনপির ‘অপকর্মের কারণেই’ ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি নেতৃত্বের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘খাসলত যায় না মরলে, অভ্যাস যায় না ধুলে।’

শেখ হাসিনা নিজের শাসনামলে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘দুর্নীতি করতে আসিনি, বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য গড়তে এসেছি। নিজেদের ভাগ্য না।’ বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নিজের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা মামলা তদন্ত হয়েছিল এবং সেই মামলায় কিছু পায় নাই।’

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের বিরুদ্ধে ‘চ্যালেঞ্জ’ জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কানাডার ফেডারেল কোর্ট ঘোষণাই দিয়েছে যে, বিশ্বব্যাংকের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।



মন্তব্য