kalerkantho


খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে

কারামুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা

আশরাফ-উল-আলম ও এম বদি-উজ-জামান    

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কারামুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক কয়টি মামলায় খালেদা জিয়া আসামি তা এ মুহূর্তে বলতে পারছেন না তাঁর আইনজীবীরা। আর মামলার হিসাব নিয়ে জটিলতার কারণে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, এক মামলায় জামিন পেলে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পথে হাঁটতে পারে সরকার। তাই মামলার সংখ্যা জানতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার চিন্তা করছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তবে সরকারের মতিগতি দেখেই এ পথে হাঁটতে চান তাঁরা। আপাতত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন আবেদন করা নিয়েই কাজ করছেন আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো কি না, এ নিয়ে প্রতিদিন নানা বিভ্রান্তিমূলক খবরও শোনা যায়। এরই মধ্যে দুটি মামলায় আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৪ মার্চ। তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে বলে জানা গেছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের জাবেদা নকল গতকাল মঙ্গলবারও হাতে পাননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ কারণে আজ বুধবারও আপিল দায়ের করা যাবে না বলে আসামিপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।

আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো মামলায় এজাহারে নাম না থাকা আসামিকে গ্রেপ্তার দেখাতে হলে বা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সন্দিগ্ধ কোনো ব্যক্তিকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখাতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুসরণ করতে হয় তদন্ত কর্মকর্তাকে। নিয়ম অনুযায়ী মামলার প্রাথমিক তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তবে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কেস ডায়েরি বা সিডি উপস্থাপন করতে হয়। আদালত সন্তোষজনক মনে করলে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিতে পারেন। আইনের এ বিধান অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে দেশের যেকোনো থানায় দায়ের করা যেকোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর সুযোগ রয়েছে পুলিশের হাতে। খালেদা জিয়ার কারামুক্তি বিলম্বিত করতে সরকার ওই পথে হাঁটতে পারে। এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গাজীপুরের মেয়র আবদুল মান্নান একটি মামলায় জামিন পেলে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। এ রকম আরো অনেক নজির আছে।

এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে সরকার বিভিন্ন খেলা খেলছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। আবার কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে বলে জানা গেছে। ওই সব মামলায় হয়তো গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে। একটি মামলায় জামিন হলে আরেক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর ষড়যন্ত্র করছে সরকার। এভাবেই খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করতে সরকার ফন্দিফিকির করছে।’ তিনি বলেন, ‘আপাতত আমাদের প্রথম কাজ হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আপিল করা। এই আপিল যাতে তাড়াতাড়ি করতে না পারি সে জন্য রায়ের অনুলিপি দিতে টালবাহানা চলছে।’ তিনি অরো বলেন, ‘এ মামলায় আপিল করার পর জামিন আবেদন করা হবে। এরপর আর কী কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে বিষয়ে চিন্তা করা হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের মতিগতির ওপর নির্ভর করে আমরা পদক্ষেপ নেব। এর মধ্যে মামলার সংখ্যা জানতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার চিন্তা রয়েছে।’

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা আছে। এর বেশি আছে কি না, তা জানা নেই। আরেক আইনজীবী জাকির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘আমার কাছে ১৭টি মামলার হিসাব আছে। এরই মধ্যে একটিতে রায় হয়েছে। চারটি মামলার বিচার চলমান এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১২টি মামলার বিচারকাজ স্থগিত আছে। এর বাইরে আরো মামলা আছে বলে শুনেছি। তবে ঠিক কতটা মামলা আছে, তা জানা নেই।’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সন্ধিগ্ধ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন। আইনে সে সুযোগ রয়েছে। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কারণ দুর্নীতি মামলায় আমি দুদকের আইনজীবী। তবে কোনো মামলায় যদি এরই মধ্যে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে থাকেন তবে সে ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার দেখানোর সুযোগ রয়েছে।’ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামিপক্ষের রায়ের কপি পেতে বিলম্ব হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। আমাদের কথা বলার সুযোগ নেই।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭১ ধারা অনুযায়ী রায় ঘোষণার পর কোনো বিলম্ব ছাড়াই, অর্থাৎ অনতিবিলম্বে রায়ের কপি সরবরাহ করতে হবে। তিনি বলেন, এখন ডিজিটাইজেশনের যুগ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা রয়েছে, কম্পিউটারে টাইপ করা কপির ওপর কোর্ট ফি লাগিয়ে নকল কপি সরবরাহ করা যাবে। বর্তমানে এ পদ্ধতিতেই নিম্ন আদালত থেকে কোনো রায় বা আদেশের কপি সংগ্রহ করে উচ্চ আদালতে দাখিল করা হচ্ছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলায় এভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। এভাবে সরবরাহ করলে নিম্ন আদালত মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রায়ের কপি সরবরাহ করতে পারেন। কিন্তু তা না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে। গত পাঁচ দিনেও রায়ের কপি সরবরাহ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণার পর বিচারক ওই রায়ে কোনো সংশোধন, পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে পারেন না। কিন্তু এ মামলায় সংশোধনের নামে রায় আটকে রাখা হয়েছে। ফলে রায়ের অনুলিপি না পেয়ে খালেদা জিয়াসহ আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করতে পারছেন না। আর আপিল করতে না পারলে জামিন চাইতে পারবেন না। কার্যত খালেদা জিয়াসহ আসামিদের কারামুক্তি বিলম্বিত করতেই এ কূটকৌশল নেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে যেসব মামলায় : খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো অন্তত পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলে আছে বলে জানা যায়। নাশকতা ও বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার আদালতে থাকা বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় গত বছর ৯ অক্টোবর এবং একই ঘটনায় হত্যা মামলায় গত ২ জানুয়ারি কুমিল্লার আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর মধ্যে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাটি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত থাকায় এই মামলায় তাঁকে আটক দেখানোর সম্ভাবনা নেই। কুমিল্লার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এ ছাড়া মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে আছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ঢাকার আদালতে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর মানহানির একটি মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। ওই মামলায় গত বছর ১২ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পরোয়ানা জারি করা হয়। ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট মামলা করেন সাংবাদিক গাজী জহিরুল ইসলাম। ওই মামলায়ও খালেদার জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। জানা গেছে, কুমিল্লার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে গুলশান থানায় পাঠানো হয়েছে। তবে চার মামলার কোনোটিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি এখনো।

দুই মামলায় হাজিরা পরোয়ানা কারাগারে : বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা ও গ্যাটকো দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার জন্য গত সোমবার প্রডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডাব্লিউ) বা হাজিরা পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে কারাগারে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এ এবং গ্যাটকো মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৩-এ বিচারাধীন। কয়লাখনি মামলায় আগামী ১৮ ফেব্রয়ারি আর গ্যাটেকো মামলায় ৪ মার্চ অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য আছে।

জানা গেছে, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ বিচারাধীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য আছে আগামী ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে হবে। সে কারণে দুই-এক দিনের মধ্যেই এই মামলায়ও হাজিরা পরোয়ানা কারাগারে পাঠাতে হবে। অন্যদিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এ বিচারাধীন নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১১ মার্চ দিন ধার্য আছে। ওই মামলায়ও হাজিরা পরোয়ানা ইস্যু করা হবে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুদকের পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল গত সোমবার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলা ও গ্যাটকো মামলায় হাজিরা পরোয়ানা ইস্যুর আবেদন করলে দুটি আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে বিকেলেই হাজিরা পরোয়ানা কারাগারে পাঠানো হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, হাজিরা পরোয়ানা ইস্যু করার জন্য আসামিপক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। কিন্তু এখানে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। খালেদা জিয়ার জামিন হলে যাতে কারাগার থেকে বের হতে একটু দেরি হয় সে জন্যই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে সেই মামলায় জামিন পেলে অন্যান্য মামলায় হাজিরা পরোয়ানা প্রত্যাহার হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আইনজীবীদের আবেদন করতে হবে। এসব মামলায় জামিনে থাকায় হাজিরা পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে। জামিনে না থাকলে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন হতো।

যত মামলা : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ, মানহানি, নাশকতা, হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৩৭টি মামলার খোঁজ পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা, নাইকো দুর্নীতি মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত মামলা হয়েছিল এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এ ছাড়া কোকোর বিরুদ্ধে থাকা একটি মামলা চেপেছে খালেদা জিয়ার ঘাড়ে অংশীদারি সূত্রে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দণ্ডবিধির ১২৩(ক)/১২৪(ক)/৫০৫ ধারায় একটি মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। ওই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া।

গত ১ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে আরো একটি পিটিশন মামলা করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। এরপর স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে একই বছর ৩ নভেম্বর সিএমএম কোর্টে আরেকটি মামলা করেন এ বি সিদ্দিকী। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এক কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর নড়াইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন শহীদ শেখ জামাল জাতীয় স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশিক বিল্লাহ।

২০১৫ সালের শুরুর দিকে বিএনপির ডাকা অবরোধ-হরতালের সময় সারা দেশে যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমা বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনা ঘটে। ওই সব ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, হত্যা ও নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ফৌজদারি আইনে রাজধানীর দারুসসালাম থানায় আটটি, তেজগাঁও, শাহবাগ থানাসহ সারা দেশে অন্তত ২৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য