kalerkantho


খালেদা কারাগারে

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ

সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ

দুর্নীতির অভিযোগের একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর সৃষ্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ। এ ঘটনায় সহিংসতা হলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয় হবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য আহ্বান জানানো অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক এ কথা জানান।

ব্রিফিংয়ের বিবরণী থেকে জানা গেছে, জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক ব্রিফিংয়ের শুরুতে যেসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন তাতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ ছিল না। তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকরা খালেদা জিয়ার সাজার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া জানতে চান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’—এ মন্তব্য করে এক সাংবাদিক বলেন, রায়ের প্রতিবাদে কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।

তাদের ঠেকাতে পুলিশ গুলি ছুড়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজার হাজার বিরোধী কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানকে আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গণমাধ্যমকে বলেছেন। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ মহাসচিব কী উদ্যোগ নিয়েছেন? রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তিনি কি কাউকে বাংলাদেশে পাঠাবেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র বলেন, ‘গ্রেপ্তার এবং এ সম্পর্কিত ঘটনাগুলোর খবর আমরা কেবল পেয়েছি। আমরা মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাব। সহিংসতার যেকোনো খবরে অবশ্যই আমরা উদ্বিগ্ন থাকব। এ পর্যায়ে আমরা সব পক্ষকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানাই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা আরো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারব বলে আশা করছি।’

এর পর আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, জাতিসংঘের এই মঞ্চ থেকে মুখপাত্ররা বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানের কথা বলেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের পর বাংলাদেশে কি আর অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আশা আছে? বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই, প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা অত্যন্ত বিতর্কিত—এমন মন্তব্য করে ওই সাংবাদিক খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র বলেন, পরিস্থিতি আরো মূল্যায়ন শেষে তাঁরা (জাতিসংঘ) এ বিষয়ে বলবেন। রায়ের প্রভাব মূল্যায়নের মতো সময় এখনো আসেনি। তবে জাতিসংঘ বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য আহ্বান জানানো অব্যাহত রাখবে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছোড়ার অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের মানবাধিকারের রেকর্ড দেখা হয় কি এবং গত পাঁচ বছরে এই ইস্যুতে কোনো বাংলাদেশির শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদান আটকে দেওয়া হয়েছি কি?

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতরা যাতে শান্তিরক্ষা মিশনে আসতে না পারে সে জন্য সব দেশের ক্ষেত্রেই এটি করা হয়।



মন্তব্য