kalerkantho


খালেদার রায় নিয়ে উত্তেজনা

বিএনপিকে প্রতিরোধে পুলিশের সঙ্গে থাকবে আওয়ামী লীগও

আবদুল্লাহ আল মামুন ও তৈমুর ফারুক তুষার    

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপিকে প্রতিরোধে পুলিশের সঙ্গে থাকবে আওয়ামী লীগও

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেবে না ক্ষমতাসীনরা। আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও।

সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে জানিয়েছে, পুলিশ প্রশাসন দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি সহিংসতা দমনে কঠোর অবস্থানে থাকবে। রাজধানীতে বাসসহ গণপরিবহন চলাচল সীমিত থাকবে। আবাসিক হোটেলগুলোতে অতিথিদের অবস্থানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। সেই সঙ্গে রাজপথে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সরকারে আছি, রায়-পরবর্তী সরকারের যা করণীয় সব করব। দেশের মানুষের স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। মানুষের জন্য একটি নিশ্চিন্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যা যা করার সব করব।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে নেই। তাদের আচরণে প্রমাণ হয়েছে এটি একটি সন্ত্রাসী দল। এ ধরনের সন্ত্রাসী দলকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যদি কোনো নাশকতা বা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের কাজ। পুলিশের কাজ জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা। পুলিশ আইনের মধ্যে থেকে পেশাগত কাজ করবে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল কিছু ঘটলে তা মোকাবেলা করতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অতীতে নাশকতার আশঙ্কায় বিভিন্ন সময়ে অঘোষিতভাবে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। এবারে এখনো মালিক সমিতির আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ধারণা করছি, ৮ ফেব্রুয়ারি বাস চলাচল সীমিত রাখতে হবে।’

সরকার ও আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, এরই মধ্যে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং সহিংসতার চেষ্টাকারীদের প্রতি কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী পুলিশের বিভিন্ন স্তরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের বার্তা পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি যেন রাজধানীর কোথাও জমায়েত হতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রয়োজন হলে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেপ্তার বা আটক করা হবে। যেসব নেতাকর্মী সহিংসতায় জড়াতে পারে তারা আটক হতে পারে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সতর্ক অবস্থান নেবে। খালেদা জিয়ার সাজা হলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রায়কে স্বাগত জানিয়ে মিছিলের প্রস্তুতিও রাখা হবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন কোথাও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখবে তারা। মোটকথা রায় ঘোষণার দিন রাজপথ যেন কোনোভাবেই বিএনপির নেতাকর্মীরা দখলে নিতে না পারে সে প্রস্তুতি থাকবে আওয়ামী লীগের।



মন্তব্য