kalerkantho


খালেদার রায় ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

বিএনপিতে ব্যাপক ধরপাকড়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপিতে ব্যাপক ধরপাকড়

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হওয়ার পর থেকেই রাজনীতির মাঠে উত্তেজনা ছিল। গত মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, প্রিজন ভ্যানে হামলা এবং নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পর আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সেই উত্তাপ আরো বেড়েছে।

আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার পরও পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। তবে খালেদার রায়কে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

তবে বিএনপি বলছে, পুলিশের ওপর হামলাকারীরা তাদের মিছিলে ঢুকে পড়া বহিরাগত বা অনুপ্রবেশকারী। সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে।

এদিকে মঙ্গলবারের ঘটনার পর পুলিশ গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে বলে অভিযোগ দলটির। এমনকি গতকাল রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে সাদা পোশাকের পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি। এতে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই ৭০০-৮০০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় দুটি এবং ১৪২ জনকে আসামি করে রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই তিন মামলায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা, অস্ত্র ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা, হত্যাচেষ্টা ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়। নির্দেশদাতা হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যুবদলের সাবেক সহসম্পাদক গাজী হাবিব হাসান রিণ্টুসহ ৪৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ৭১ জনকে আটক করার কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতেই গুলশান থেকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে রাখা হয়। একই দিনে শান্তিনগর এলাকা থেকে দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সোমবার বিএনপির সহশিক্ষা সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন র্যাবের হাতে। গতকাল এই তিন নেতাসহ ৫৬ জনকে

আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৫৫ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের দিন ধার্য রয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছে। তারা বলছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় হলে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ‘দেশ অচল করে দেওয়া হবে’ বলেও বিএনপির নেতারা বিবৃতি দিচ্ছেন।

তবে রায়কে ঘিরে কাউকেই অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তেজনা বাড়ছে। তবে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে ব্যাপক চাপে পড়েছে বিএনপি।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায়কে ঘিরে যদি আগুন নিয়ে খেলা হয়, তাহলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হামলা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত ও সতর্ক থাকতে হবে।’

তবে গতকাল সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) যে ঘটনাটা ঘটেছে হাইকোর্টের সামনে যা ইতিমধ্যে পত্রপত্রিকায় সব জায়গায় এসেছে। আমরা নিজেরাই ছেলেদের চিনতে পারছি না এক্সজাক্টলি। টু বি ভেরি ফ্রেংকলি। আমরা আশঙ্কা করছি, অনুপ্রবেশকারীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। কারণ আমরা যে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি, শান্তিপূর্ণভাবে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি। সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এটাকে সম্পূর্ণ বিনষ্ট করার জন্য কাজ করছে।’

খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের তারিখকে সামনে রেখে সরকার দেশে ‘অস্থিতিশীল পরিবেশ’ তৈরির উসকানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের একেবারে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের গ্রেপ্তার করছে। এটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করিনি অথচ গ্রেপ্তার অভিযান চলছে, সব সময় হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।’ অবিলম্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিতসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

ধরপাকড় : গত মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশের ভ্যানে হামলার পর রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার ৬৯ জনকে আটকের কথা স্বীকার করেন। এরপর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং অমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে গতকাল রাত ৮টার দিকে মগবাজারের ওয়্যারলেস গেট এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালকে আটক করেছে পুলিশ। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, রাতে আরো চারজন নেতা-কর্মীকে আটকের খবর পেয়েছেন তাঁরা। স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ, সহযুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, কমিশনার মীর আশরাফ আলী আজমের বাসায় পুলিশি তল্লাশির ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, মঙ্গলবার বিএনপির মিছিলে ঢুকে পড়া বহিরাগত বা অনুপ্রবেশকারীরা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে পুলিশ বেপরোয়া ধরপাকড় চালাচ্ছে। গতকাল রাত পর্যন্ত শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান ও জিনজিরা যুবদলের সভাপতি মামুনসহ বেশ কয়েকজন নেতার বাসায় তল্লাশি করেছে পুলিশ। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত রাখার মাধ্যমে পরিস্থিতি মেকাবেলার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিএনপির নেতারা দাবি করেন, একই রাতে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আইনজীবী রফিক সিকদার, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন, জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজিজুল হাকিম আরজু, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। এমনকি গতকাল দুপুরে হাবিব উন নবী খান সোহেলের বাসায় দ্বিতীয়বার তল্লাশি চালায় পুলিশ। এর আগে সকালে জিনজিরা যুবদলের সভাপতি মামুনের বাসায় পুলিশ তল্লাশি করে।

খালেদার বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ : এদিকে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’র বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী সদস্যের উপস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। রাতে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম, দলের চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসার সামনে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা বিভাগের সদস্য ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসংখ্য সদস্য অবস্থান নিয়েছে। আমরা জানি না এর কারণ কী? সরকার যে এক ভয়ংকর মরণ খেলায় মেতে উঠেছে তার নিদর্শন সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পতনের আগে মানুষ হঠাৎ করে একটু গা ঝাড়া দেয়। এটা তার ইঙ্গিত কি না আমরা জানি না।’

হামলার নির্দেশদাতা গয়েশ্বর, রিজভী, খোকন—পুলিশ : পুলিশ জানায়, হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে সেখান থেকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক ছাত্রনেতা ওবায়দুল হক নাসির এবং সোহাগ মজুমদার ও মিলন (৩৮) নামের দুই ছাত্রদলকর্মীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে শাহবাগ থানার এসআই রহিদুল ইসলাম ও এসআই চম্পক বাদী হয়ে দুটি এবং রমনা থানার এসআই মহিবুল্লাহ একটি মামলা করেন।

পুলিশের ভ্যানে কারা হামলা চালিয়েছে, ছবি দেখে তাদের শনাক্ত করা গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছে তারা বিএনপির বহরেই ছিল। সেখানে অন্য দলমতের কর্মী থাকার কথা নয়। তদন্ত করে হামলায় কার, কি ভূমিকা ছিল—তা বের করার চেষ্টা করছি।’

পুলিশের ওপর হামলার সময় নীরবতার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, এ জন্য আমরা ধৈর্য নিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করি; কিন্তু তারা বেপরোয়া হয়ে হামলা চালায়।’

মঙ্গলবার হামলার পর গতকাল রাজধানীর হাইকোর্টের সামনে ও আশপাশে সাঁজোয়া যান, জলকামান আর প্রিজন ভ্যান নিয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। হাইকোর্টের প্রবেশমুখে একটি জলকামান, একটি সাঁজোয়া যান ও একটি প্রিজন ভ্যান রাখা হয়। সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। শাহাবাগ থানার ওসি আবুল হাসান দুপুরে বলেন, এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

গতকালও খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিতে যান। তবে সেসব এলাকায় নেতাকর্মীদের শোডাউন তুলনামূলক কম ছিল। দায়িত্বশীল নেতারা জানান, নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার এড়াতে বকশীবাজার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাইকোর্টের আশপাশে প্রেস ক্লাব, কাকরাইল, মত্স্য ভবন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ছিল।

৫৫ নেতাকর্মী রিমান্ডে, গয়েশ্বর কারাগারে : আদালত সূত্র জানায়, রমনা থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গতকাল আদালতে হাজির করা হলেও রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি। তাঁর পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। তবে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে। তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রমনা থানার মামলায় গ্রেপ্তার অন্য ৩৬ নেতাকর্মীকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত প্রত্যেককে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একজন আসামি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জুয়েল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে শাহবাগ থানার একটি মামলায় ১৬ জনকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরেকটি মামলায় সেকেন্দার আলী ও বাবু খলিফা নামে দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

অন্যদিকে বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সহসম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে রমনা থানায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে দায়ের করা একটি নাশকতার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশের অবস্থান : ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে জনসাধারণের উৎকণ্ঠার কিছু নেই। কোনো অবস্থাতেই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নেওয়া হচ্ছে।’

 



মন্তব্য