kalerkantho


সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সহায়ক সরকার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

‘অবৈধ দাবি করা বিএনপির অভ্যাস’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সহায়ক সরকার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি কোনো দিনই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পক্ষে ছিল না। আর এ জন্যই বর্তমানে তারা অসাংবিধানিকভাবে সহায়ক সরকারের দাবি করে আসছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবিধানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সহায়ক সরকার বলে কোনো সরকার গঠনের বিধান নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জন্ম নিয়েছে মার্শাল ল জারি করে সংবিধান লঙ্ঘন করার মাধ্যমে অবৈধ পথে। তাই অবৈধ দাবি করাটা তাদের অভ্যাস। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে এ বিষয়ক প্রশ্ন উত্থাপন করেন ক্ষমতাসীন দলের সদস্য তানভীর ইমাম।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলেছিলাম। তার মানে সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে এবং সরকারের পরিসর ছোট করা হবে। সরকার নির্বাচনের সময়ে শুধু রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না।’ তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে ভোটারবিহীন গণভোট (হ্যাঁ/না ভোট) করেছিল বিএনপি এবং সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ না করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং সরকার গঠন করেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পরে তাঁর ওই কর্মকাণ্ড অবৈধ ঘোষিত হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করে মাগুরা ও ঢাকার উপনির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি করেছিল। আর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে অবৈধ সরকার গঠন করে বিএনপি। গণ-আন্দোলনের সম্মুখীন হয়ে মাত্র দেড় মাসের মাথায় তাদের পতন ঘটে। ওই সময়ে বিএনপি নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল। ২০০৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্পষ্ট রূপরেখা থাকা সত্ত্বেও তাদের পছন্দসই ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার চেষ্টা করে। বিএনপির নির্বাচনের নামে প্রহসন করার উদ্দেশ্য থাকায় দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়। ওই সময়ে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থাকে।

আপাতত অবসরের বয়সসীমা বাড়ছে না : জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই। ভবিষ্যতে বিষয়টি দেখা যাবে। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন অবসরসীমা বাড়ানো হয়নি। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর করে দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, যদি অবসরের বয়সসীমা শুধু বাড়ানোই হয়, তবে নিচের স্তরে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটে এবং নতুনদের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ অনেক হ্রাস পায়। তাই যত বেশি অবসরের বয়স বাড়ানো হবে তত চাকরিতে প্রবেশ কমে যাবে। তিনি বলেন, আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট ছিল, এখন তেমন সেশনজট নেই। ফলে চাকরিতে প্রবেশের জন্য এখন অনেক সময় পাচ্ছে। তাই এখন আর অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘দেশের ভেতরে বিনিয়োগের জন্য সব সুযোগ-সুবিধাই নিশ্চিত করেছে সরকার। কিন্তু দেশে বিনিয়োগ না করে যারা অর্থ পাচার করতে চায় তারা তো তা করতেই চাইবে। কিন্তু টাকা পাচার করলে আমরা তা শনাক্ত করে দেশে ফেরত আনছি। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচারকৃত অর্থ আমরা দেশে ফেরত এনেছি। অন্য যারা অর্থ পাচার করছে, তা শনাক্ত এবং তা দেশে ফেরত আনতে সরকার যথেষ্ট তৎপর রয়েছে।’ 

মাদক বিস্তার নিয়ে সংসদে ক্ষোভ : রাজধানীসহ সারা দেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে উল্লেখ করে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদস্যরা। মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের স্থানের সংখ্যা উল্লেখ করে মাদক বিস্তারের অভিযোগ করেন।

তাত্ক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল বুধবার রাতে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগে মাদকের বিস্তার ব্যাপক ছিল। অনেকটা ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরাই পদক্ষেপ নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করেছি। সংসদে যেসব মাদকের স্পট ও ভাসমান শিশুদের মাদক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা নোট নিয়েছি। দ্রুতই অভিযান চালানো হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা চাই না মাদকের বিস্তার ঘটুক। আর সংসদ সদস্যরা যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরকেও নিজ নিজ এলাকার দিকে একটু বিশেষ নজর দিতে হবে। অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। যারা ভবঘুরে আছে তাদের বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ আছে, তাদের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়ে যাওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, কিছু দালাল শ্রেণির লোক থাকে, যারা মাদক ব্যবহারে বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণ করে। আর গুলশানসহ অভিজাত এলাকার লোকজন তারা কী করে, তাদের বিষয়ে আমরা কী করতে পারি? যারা গুলশানবাসী তারা যদি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেন তাহলে ভালো হয়। তার পরও আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’ মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এর আগে কাজী ফিরোজ রশীদ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মাদকের ছড়াছড়ির বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রমনায় ৭৪টি, লালবাগে ৯০টি, ওয়্যারলেসে ১৫০টি, মিরপুরে ১২৫টি গুলশানে ১১২টি, উত্তরায় ৬৮টি, মতিঝিলে ১২২টি ও তেজগাঁওয়ে শতাধিক মাদকের স্পট রয়েছে। এসব এলাকায় দিনের বেলা গেলে দেখবেন অনেক শিশু বিভিন্নভাবে মাদক গ্রহণ করছে। তিনি আরো বলেন, ‘ক্ষুধার যন্ত্রণায় এরা এসব করে। আমাদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যদি ঢাকা থেকে হাজারখানেক এমন শিশুকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আনসার ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেখভালের জন্য দেয় তাহলে এদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে, শহরের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও দূর হবে, শহর পরিষ্কার থাকবে। কারণ এরাই ছিনতাই করে, শহর অপরিষ্কার করে।’ এদের কারণে রাস্তায় চলা দায় হয়ে পড়েছে বলে ফিরোজ রশীদ উল্লেখ করেন।



মন্তব্য