kalerkantho


উপজেলা পরিষদ

নারী সদস্যরা এক বছরও থাকতে পারছেন না

কাজী হাফিজ   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নারী সদস্যরা এক বছরও থাকতে পারছেন না

উপজেলা পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও এ পরিষদের সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারী সদস্যরা এক বছরও দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন না। ২০১৫ সালের জুনে এসব পদে যাঁরা প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিছু ব্যতিক্রম বাদে তাঁদের পদ ২০১৬ সালের প্রথম থেকে মাঝামাঝির মধ্যেই শূন্য হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন এ ধরনের এক হাজার ৪৯১টি শূন্যপদের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে আগামী ২৯ জানুয়ারি। এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১৭ ডিসেম্বর এসব পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ নির্বাচনে যাঁরা বিজয়ী হবেন তাঁদের মেয়াদও বড়জোর এক থেকে দেড় বছর হতে পারে। কারণ ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন করে পরের পাঁচ বছরের মেয়াদে উপজেলার সাধারণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান উপজেলা পরিষদের মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত।

এদিকে গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৮৭৩টি শূন্য আসনে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। এসব আসনে একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, এবার এত বেশি আসনে একক প্রার্থী হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে অনাগ্রহ। এবার ২১৫ আসনে প্রার্থীই খুঁজে পাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভার নির্বাচনের সঙ্গে উপজেলা নির্বাচনের সময়ের ব্যবধানের কারণেই এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং যে উদ্দেশ্যে উপজেলা পরিষদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা হয়েছে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে পারছে না।

স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) আইন অনুসারে উপজেলায় যতগুলো  ইউপি/পৌরসভার থাকবে, উপজেলা পরিষদে নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত আসন হবে তার এক-তৃতীয়াংশ। ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থাকলে উপজেলায় নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত আসন হবে চারটি। ইউপি/পৌরসভার সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাই সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ভোটার এবং প্রার্থী হতে পারবেন। নির্বাচিতদের জন্য এলাকা বণ্টনও করা হবে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদের তৃতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর সে সময় ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ইউপি ও পৌরসভাগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার আগে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনগুলোর নির্বাচন করা সঠিক হবে না। কারণ ইউপি ও পৌরসভার সংরক্ষিত নারী আসনগুলোর সদস্য ও কাউন্সিলরদের মধ্যেই ওই নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু ২০১১ সালে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরও আাাইনগত কিছু জটিলতার কারণে সংরক্ষিত ওই সব আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। এ অবস্থায় সংরক্ষিত নারী সদস্য ছাড়াই পার হয় তৃতীয় মেয়াদের উপজেলা পরিষদ। এরপর উপজেলা পরিষদগুলোতে চতুর্থ মেয়াদের সাধারণ নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু এ নির্বাচনের পর কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কমিশন যথাসময়ে সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে নির্বাচন করা থেকে বিরত থাকে। সে সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন) আগে অন্য কোনো নির্বাচনের পেইন নেব না।’ এরপর ২০১৫ সালের ১৫ জুন এ পদে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এবার উপজেলা পরিষদের এক হাজার ৪৯১টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদ শূন্যের কারণ সম্পর্কে ইসি কর্মকর্তারা জানান,  ২০১৬ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ এবং তার আগে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় তাঁদের পদ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদেও তাঁদের পদ শূন্য হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ আইনের কোথাও বলা নেই যে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় পদ হারালে উপজেলা পরিষদেও সংরক্ষিত নারী সদস্যের পদ থাকবে না। কিন্তু যে যোগ্যতার কারণে (ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের সদস্য) উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া যায়, সেই যোগ্যতাই যদি না থাকে তাহলে উপজেলায়ও সদস্য পদ থাকতে পারে না। তবে বিষয়টি আইনে স্পষ্ট করা দরকার। নির্বাচন কমিশনে আমার দায়িত্ব পালনের সময় বিষয়টি কমিশনের নজরে আনার চেষ্টা করি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন’)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের  নারী সদস্য পদ নিয়ে এক ধরনের খেলা চলছে। তাঁদের মেয়াদের বিষয়ে সমন্বয়হীনতা গুরুতর অন্যায়। আমরা শুনেছি, তাঁদের ঠিকমতো ভাতাও দেওয়া হয় না। অতি দ্রুততার সঙ্গে এসব অসংগতি দূর করা দরকার।’

নির্বাচন কমিশন গত ৮ জানুয়ারি দেশের ৪৯১টি উপজেলায় এক হাজার ৪৯১টি সংরক্ষিত আসনে আগামী ২৯ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কমিশনারদের নির্দেশ পাঠায়। এদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।



মন্তব্য