kalerkantho


রোহিঙ্গা নেতাকে গুলি করে হত্যা একজন গ্রেপ্তার

প্রত্যাবাসন নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বিরোধ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার    

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা নেতাকে গুলি করে হত্যা একজন গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী তাজনিমারখোলা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপের নেতা মো. ইউসূফকে (৪৬) গুলি করে হত্যা করেছে আরেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। গুলিতে আরো একজন আহত হয়েছেন। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলম নামের ওই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সামনে রেখে বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রত্যাবাসনবিরোধী বেশ কিছু চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। চক্রগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নস্যাৎ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা ক্যাম্পে বিভিন্ন অপকর্ম, হত্যা, ভয়ভীতিসহ অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত ইউসূফ মিয়ানমারের মংডু বলি বাজার ধুনহাই গ্রামের হুক্কাট্টা (চেয়ারম্যান) ছিলেন। তিনি প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করছিলেন। তবে কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী প্রত্যাবাসনের বিরোধিতা করে। আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তারা ইউসূফকে গুলি করে হত্যা করেছে।

থাইংখালী তাজনিমারখোলা ডি-ব্লক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ওই ক্যাম্পের হেড মাঝি রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ আলী জানান, তাঁর ক্যাম্পে ৮০ জন মাঝি ৬৭ হাজার রোহিঙ্গার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ামাত্র ইউসূফকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

একই সময় বালুখালী ক্যাম্পের হেড মাঝি আরিফুল্লাহকে লক্ষ্য করে গুলি করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তাঁর বড় ভাই মৌলভি আজিমুল্লাহর শরীরে বিদ্ধ হয়। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, মিয়ানমার সামরিক জান্তা, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সখ্য রয়েছে এমন শত শত দালাল (বর্মি এজেন্ট) ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছে। এ দালালচক্র মিয়ানমারের পক্ষ নিয়ে প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

আব্দুর রশিদ আরো জানান, মিয়ানমার প্রশাসনের ওই সব দালাল বিভিন্ন অনৈতিক কাজের মাধ্যমে ক্যাম্পের প্রত্যাবাসন পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার জাফর আলম (৫৫) জানান, আরসার ধুয়া তুলে মিয়ানমার সরকারের বেশ কিছু দালাল বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। তারা নিরীহ রোহিঙ্গার বেশে লোমহর্ষক ঘটনা ঘটানো ছাড়াও প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রত্যাবাসনবিরোধী কতিপয় রোহিঙ্গা তাৎক্ষণিকভাবে জড়ো হয়ে নিমেষে উধাও হয়ে যায়। আমি এ ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছি।’

উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বালুখালী ময়নার ঘোনা এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তলসহ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আলমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি কুতুপালং মধুরছড়া লম্বাশিয়া ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার ও মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে মমতাজ মিয়া (৩৫) নামের একজন নিহত হন। এ ঘটনায় আটক রোহিঙ্গা মৌলভি আরিফুল্লা কারাগারে আছেন।



মন্তব্য