kalerkantho


গুলশানে জঙ্গি হামলা

পরিকল্পনাকারী শনাক্ত করে চার্জশিট চূড়ান্ত

এস এম আজাদ   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পরিকল্পনাকারী শনাক্ত করে চার্জশিট চূড়ান্ত

ফাইল ছবি

কথিত জিহাদি দল তৈরি করে তাদের নিয়ে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ঘাঁটিতে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশে এসেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী। কিন্তু তাঁর দেশ ছাড়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে সরোয়ার জাহান মানিকসহ নব্য জেএমবির কয়েকজন নেতাকে নিয়ে রাজধানীর গুলশানে হামলা চালিয়ে অনেক বিদেশি হত্যার পরিকল্পনা করেন। এতে আইএসের স্বীকৃতি মিলবে বলে মনে করেন তাঁরা। ঘটনার আড়াই মাস আগে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়েছিল গাইবান্ধার চরে। এর আগেই আগ্রহী তরুণদের নিয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বেশ কিছু জঙ্গি আস্তানা গড়ে তোলা হয়। গুলশানে হামলা চালাতে ৮-৯ লাখ টাকা খরচ হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় খরচ হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ওই ঘটনার তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এসব তথ্য পেয়েছে।

সিটিটিসি ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষ করে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট (অভিযোগপত্র) চূড়ান্ত করা হয়েছে। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার তদন্তের আদ্যোপান্ত জানা গেছে। ওই হামলায় তামিম ও সরোয়ার জাহান মানিকসহ ২২ জঙ্গির জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সিটিটিসি ইউনিট।

তাঁদের মধ্যে ১৩ জন নিহত হয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পাঁচ জঙ্গি। তাঁরা হলেন রাকিবুল হাসান রিগ্যান, পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী, অস্ত্র সরবরাহকারী বড় মিজান, সংগঠক সোহেল মাহফুজ ও রাশেদুল ইসলাম র‌্যাশ। চার জঙ্গি পলাতক। তাঁরা হলেন নব্য জেএমবির অপারেশনাল কমান্ডার হাদিসুর রহমান সাগর, মামুনুর রশীদ রিপন, শরিফুল ইসলাম খালিদ ও পৃষ্ঠপোষক আকরাম হোসেন নিলয়। তাঁদের মধ্যে পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত খালিদ ও রিপন ভারতে পালিয়ে আছেন। এ মামলায় ১৫ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পলাতক নিলয় পরিকল্পনা ও বিনিয়োগকারী। মারজানের ভগ্নিপতি সাগর নব্য জেএমবির অন্যতম সংগঠক ও প্রশিক্ষক। খালিদ পরিকল্পনায় অংশ নেন এবং হামলাকারী সংগ্রহ করে দেন। গুলশানে হামলার আগেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যান খালিদ। রিপন উত্তরাঞ্চলের দুই ডজন হত্যাকাণ্ডের হোতা। গুলশানে হামলার পরিকল্পনায় এবং প্রশিক্ষণে অংশ নিলেও পরে তিনি ভারতে পালিয়ে যান।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চার জঙ্গি পলাতক আছে। তাদের মধ্যে খালিদ ও রিপন পরিকল্পনাকারী। তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে পলাতক দেখিয়ে চার্জশিট দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিছু কাজ বাকি থাকায় গত মাসে চার্জশিট দেওয়া যায়নি। তবে এ মাসে হয়ে যাবে।’

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশান ২ নম্বর সার্কেলের ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়েছিল পাঁচ জঙ্গি। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। জঙ্গিরা হত্যা করেছিল দেশি-বিদেশি ২০ জনকে। পরদিন সকালে প্যারাকমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন। পরে হাসপাতালে মারা যায় আরো একজন।

সিটিটিসি ইউনিটের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে স্বীকৃতি আদায় করাই ছিল নব্য জেএমবির প্রধান উদ্দেশ্য। তামিমসহ নেতারা অনুসারীদের বুঝিয়েছিলেন, আইএস স্বীকৃতি দিলে দেশে জেএমবির শক্তি বাড়বে। তাঁরা যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন। সিরিয়ায় একজনের কাছ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থও সংগ্রহ করেছিলেন বাশারুজ্জামান চকলেট। তাঁদের মাধ্যমে ঘটনার ছবি ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে। তামিম ও নুরুল ইসলাম মারজান মারা যাওয়ায় বের করা যায়নি তাঁরা কার কাছে ছবি পাঠিয়েছিলেন।

আইএস সম্পৃক্ততার বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য ছিল আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলে পতন ঘটানো। গুলশানে হামলা করে আইএসের সমর্থন চাওয়া হয়েছে। এটি সরাসরি আইএস পরিচালিত হামলা নয়।’

প্রস্তুতিতে বড় বিনিয়োগ : একাধিক সূত্রে জানা যায়, ওই হামলায় ৮-৯ লাখ টাকা খরচ হওয়ার তথ্য মিলেছে প্রাথমিক তদন্তে। তবে আস্তানায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহসহ হামলার প্রস্তুতিতে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। গুলশানের ধনাঢ্য কয়েক ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন নব্য জেএমবিকে। তাঁদের একজন আকরাম হোসেন নিলয়। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে গত ১০ নভেম্বর তাঁর বাবা আবু তুরাব খান, মা সাদিয়া হোসনা লাকী ও বোন তাজরীন খানম শুভকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি ইউনিট। তিনজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এক কর্মকর্তা জানান, নিলয়ের টাকায় হলি আর্টিজানে হামলার প্রশিক্ষণ এবং পান্থপথে জঙ্গি হামলার ছক কষা হয়। আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গি সাইফুল ইসলামকে খুলনার ডুমুরিয়া থেকে ঢাকায় এনে হামলার ব্যবস্থা করেছিলেন নিলয়। আরেক অর্থদাতা তানভীর ইয়াসিন করিমকে গত ১৯ নভেম্বর আজাদ মসজিদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা বলেন, গুলশানে হামলার জন্য তানভীর কাদেরী ও জাহিদ অ্যাপার্টমেন্ট ও গাড়ি বিক্রি করে এবং পেনশনের টাকা দিয়েছেন।

আসামিদের জবানি থেকে জানা যায়, সিরিয়ায় যাওয়া জঙ্গি সুজনের পারিবারিক সিন্ডিকেটে বাশারুজ্জামান ১৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন। ওই টাকাও কাজে লাগানো হয় হামলার আগে-পরে। অন্যদিকে সপরিবারে সিরিয়ায় যাওয়া চিকিৎসক রোকন উদ্দিন তাঁর সম্পদ বিক্রির টাকা দিয়ে যান। সে টাকাও হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা।

যেভাবে প্রস্তুতি : তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের অক্টোবরে কানাডা থেকে দেশে এসেই পুরনো জেএমবিসহ কয়েকটি উগ্রবাদী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তামিম। এরই মধ্যে তামিম নিশ্চিত হন, কানাডা পুলিশের বার্তার কারণে বিমানবন্দর দিয়ে তিনি সিরিয়ায় যেতে পারবেন না। তখনই দেশে বড় হামলার পরিকল্পনা করেন তিনি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে গাইবান্ধার সাঘাটায় নব্য জেএমবির শুরা কমিটির বৈঠকে তামিম ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় বড় হামলা চালানোর প্রস্তাব দেন। এপ্রিলের শেষ দিকে আরেক বৈঠকে গুলশানে কোনো রেস্টুরেন্টে বিদেশিদের ওপর হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, হামলার মূল সমন্বয়ক হবেন তামিম। সহসমন্বয়ক থাকবেন মারজান। আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহের দায়িত্বে থাকবেন সফটওয়্যার প্রকৌশলী বাশারুজ্জামান।

সূত্র মতে, হামলার জন্য পাঁচজন ইসাবা (হামলাকারী) বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সামরিক কমান্ডার শরিফুল ইসলাম ওরফে খালিদকে। ঢাকার সামরিক কমান্ডার আবু রায়হান ওরফে তারেক তিনজনের নাম দেন। তাঁরা হলেন রোহান ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম ও সামেহ মোবাশ্বের। আর উত্তরবঙ্গের কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী দেন শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ ও খাইরুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাঁধনের নাম। রাজীব গান্ধী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের শরিফুল ইসলাম ওরফে ডনের নামও দিয়েছিলেন, যাঁকে গুলশান হামলায় না পাঠিয়ে শোলাকিয়ার হামলায় পাঠানো হয়েছিল। আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যু হয় তাঁর।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইসাবা দলের ওই ছয়জন সিরিয়ায় যাওয়ার জন্য বাড়ি ছেড়েছিলেন। তাঁদের প্রথমে ঢাকার মিরপুর, কল্যাণপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা ও পাবনার জঙ্গি আস্তানায় রাখা হয়েছিল। এরপর নিবরাসসহ কয়েকজনকে ঝিনাইদহে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিষয়টি তদারকি করেন সাগর। পাঁচজনকে ঢাকায় এনে বুড়িগঙ্গায় গ্রেনেড ছোড়া শেখানো হয়। ২০১৬ সালের মে মাসের শুরুতে জঙ্গিদের নেওয়া হয় গাইবান্ধার বোনারপাড়ার চরে। পাঁচ তরুণকে ২৮ দিন প্রশিক্ষণ দেন মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, তামিম, মারজান, রিগ্যান, খালেদ, রিপন, রাজীব গান্ধী ও মানিক। প্রধান প্রশিক্ষক জাহিদ একে-২২ রাইফেল ও পিস্তল চালানোর প্রশিক্ষণ দেন। তারেক শেখান বোমার ব্যবহার।

আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, হামলার তিন দিন আগে নিবরাস ও রোহান ইমতিয়াজ দলের নেতাদের হলি আর্টিজানের ব্যাপারে তথ্য দেন। ২৭ জুন তাঁরা মারজানকে নিয়ে প্রথম হলি আর্টিজান রেকি করেন। পরদিন রেকি করেন বাশারুজ্জামান, উজ্জ্বল ও পায়েল। ওই রাতেই তামিমসহ নেতারা বারিধারায় তানভীর কাদেরীর বাসায় বসে চূড়ান্ত ছক কষেন। তামিম নিজেও হলি আর্টিজান রেকি করে ২৯ জুন সন্ধ্যায় রোহান ইমতিয়াজকে হামলার নেতা নির্বাচিত করেন।

চূড়ান্ত হামলা : সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুলশানের কাছাকাছি বারিধারায় বাসা ভাড়া নেন তানভীর কাদেরী। ২০১৬ সালের ১ জুন সপরিবারে ওই বাসায় ওঠেন তিনি। ৭ জুন সেখানে ওঠেন বাশারুজ্জামান চকলেট। ৮ জুন পাঁচ হামলাকারীকে নিয়ে সেখানে যান মারজান ও তাঁর স্ত্রী। ১১ জুন যান তামিম চৌধুরী। পরে মারজান পাঁচটি ব্যাগে পিস্তল, একে-২২ রাইফেল, চাপাতি ও বোমা নিয়ে যান। ১ জুলাই পর্যন্ত তাঁরা ওই বাসায় ছিলেন। বড় একটি কক্ষে পাঁচজনকে নিয়ে তামিম থাকতেন। ৩০ জুন সকালে তানভীর কাদেরীর বাসায় গিয়ে পরদিন হলি আর্টিজানে হামলার চূড়ান্ত ঘোষণা এবং কিছু নির্দেশনা দেন সরোয়ার জাহান।

তদন্তকারী সূত্রে জানা যায়, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও যশোর সীমান্ত থেকে। মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ও রাশেদ ওরফে র‌্যাশ জবানবন্দিতে অস্ত্র সরবরাহের কথা স্বীকার করেন। রাশেদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে মে মাসে চারটি পিস্তল আনেন। সাগর ও ছোট মিজান পাঁচটি একে-২২ রাইফেল আনেন একই সীমান্ত দিয়ে। মে মাসে যশোরের চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে বোমাগুলো তৈরি অবস্থায় আনেন সাগর।

সূত্র মতে, ১ জুলাই সকালে বাশারুজ্জামান প্রত্যেকের ব্যাগে একটি করে একে-২২, একটি পিস্তল, একটি চাপাতিসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ গুলি ঢুকিয়ে দেন। চারটি গ্রেনেড দেন দুজনের ব্যাগে। আসরের নামাজের পরই দুই ভাগে ভাগ হয়ে পাঁচ হামলাকারী কিছু পথ রিকশায় এবং কিছু পথ হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।

সাক্ষীদের জবানবন্দি ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাঁচ হামলাকারী মিলিত হয়ে হলি আর্টিজানের ফটক পেরিয়ে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। এরপর বিদেশিদের এক স্থানে জড়ো করে একে একে ২০ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। অপর একটি সূত্রে জানা যায়, তামিম ও মারজান শেওড়াপাড়ার বাসায় ইন্টারনেটে অ্যাপ থ্রিমায় হামলার খবরের অপেক্ষায় থাকেন। হামলাকারীরা হত্যাযজ্ঞ শেষ করে জিম্মিদের ফোন ও ট্যাব থেকে তামিমকে অ্যাপে মেসেজ পাঠান। ওই ছবিই সিরিয়ায় যাওয়া সূত্রের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

শনাক্ত ১৩ জন নিহত : হামলায় জড়িত বলে যাঁদের ব্যাপারে তদন্তকারীরা তথ্য পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে ১৩ জন পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়েছেন। হামলার পর অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত হন রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সাবিহ মোবাশ্বের, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম পায়েল। ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরে অভিযানে নিহত হন আবু রায়হান তারেক। ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে নিহত হন তামিম চৌধুরী। পরে রূপনগরে মেজর (অব.) জাহিদ, আজিমপুরে তানভীর কাদেরী, আশুলিয়ায় সরোয়ার, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে মারজান নিহত হন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অভিযানে নিহত হন বাশারুজ্জামান ও ছোট মিজান।

১২ জনের সম্পৃক্ততা মেলেনি : জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজাউল করিম ও কানাডাপ্রবাসী ছাত্র তাহমিদ হাসিব খান সন্দেহের আওতায় পড়ে। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জঙ্গিদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য গিয়াস উদ্দিন আহসান এবং কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ির মালিকসহ অন্তত ১০ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কারো সম্পৃক্ততা পাননি তদন্তকারীরা। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা অবশ্য বলেন, হাসনাতের সম্পৃক্ততা আরো যাচাই করা হবে।



মন্তব্য