kalerkantho


ভারতের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

ভারত দূরপাল্লার আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টুইটারে এ তথ্য জানিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম, যা বৈরী রাষ্ট্র চীনের যেকোনো জায়গায় আঘাত হানতে পারবে।

গতকাল সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে ওড়িশা রাজ্যের আব্দুল কালাম দ্বীপের উপকূল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উেক্ষপণ করা হয়। এর পাল্লা সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে পাঁচ হাজার ৮০০ কিলোমিটার।

ধারণা করা হচ্ছে অগ্নি-৫ ভারতের সবচেয়ে উন্নত আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই পরীক্ষাকে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় একটি ‘বিশাল উন্নতি’ বলে অভিহিত করেছে। প্রসঙ্গত, ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের’ তথ্য মতে, ধারণা করা হয়, ভারতের অস্ত্রাগারে ১২০ থেকে ১৩০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে।

পরমাণু অস্ত্র বিস্তার নিয়ে গবেষণারত এমআইটির রাজনীতিবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক বিপিন নারাং সিএনএনকে বলেন, এটি নতুন কোনো সক্ষমতা নয়। ভারতের সামরিক বাহিনীতে ব্যহারের আগে এটি একটি সাধারণ অগ্রগতিমূলক পরীক্ষা।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল ও দিল্লিভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা বলেন, তারা (ভারত) পর্যায়ক্রমে পরীক্ষাপ্রক্রিয়াটির জটিলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এর পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাঁর মতে, এই পরীক্ষা পাকিস্তান ও চীনকে ক্ষুব্ধ করে তুলবে।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৯ এপ্রিল প্রথমবার অগ্নি-৫-এর সফল উেক্ষপণ করেছিল ভারত। এরপর ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষা চালানো হয়। গতকাল পঞ্চমবারের সফল পরীক্ষামূলক উেক্ষপণের পর সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্তির পথে আরো এক ধাপ এগোল অগ্নি-৫। সর্বশেষ এ পরীক্ষাটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরো অনেক উন্নত।

অগ্নি-৫ মোট তিনটি অংশ দিয়ে গঠিত। তিনটি ভাগই শক্তি উত্পন্ন করে কঠিন জ্বালানি থেকে। ১৭ মিটার দীর্ঘ এই মিসাইলের ওজন প্রায় ৫০ টন। অগ্নি সিরিজের আরো চারটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ভারতের হাতে। এর মধ্যে অগ্নি-১-এর পাল্লা ৭০০ কিলোমিটার, অগ্নি-২-এর পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার, অগ্নি-৩-এর পাল্লা তিন হাজার, অগ্নি-৪-এর পাল্লা তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার কিলোমিটার।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, যেকোনো সময় আট হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত এর পাল্লা বাড়ানো যেতে পারে। চীনসহ এশিয়ার যেকোনো জায়গায়, আফ্রিকা ও ইউরোপের একাংশে আঘাত হানতে পারে অগ্নি-৫। ভারতের হাতে থাকা ভয়ংকরতম অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয় ক্ষেপণাস্ত্রটিকে।

বিপিন নারাং বলেন, এই পরীক্ষা মারাত্মক ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে। হিমালয় অঞ্চলে দোকলাম সীমান্ত নিয়ে বিরোধের কারণে ২০১৭ সালে নয়াদিল্লি ও পেইচিংয়ের সম্পর্কে তাত্পর্যপূর্ণভাবে অবনতি ঘটে। তাঁর মতে, এই পরস্থিতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময়টি খুবই আগ্রহোদ্দীপক। তিনি বলেন, এটা হতে পারে যে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষার জন্য এ দিনটি অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। আবার এটি চীনকে একটি বার্তা দেওয়ার বিষয়ও হতে পারে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সফরের মধ্যে এই পরীক্ষার তাত্পর্যও থাকতে পারে। সূত্র : সিএনএন, জিনিউজ।



মন্তব্য