kalerkantho


আরসা জঙ্গি সন্দেহ

এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে কবজায় নিতে চায় মিয়ানমার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে কবজায় নিতে চায় মিয়ানমার

বাংলাদেশে অবস্থানরত এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা কথিত জঙ্গিগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্য বলে মনে করে মিয়ানমার। দেশটি ওই রোহিঙ্গাদের তাদের হাতে তুলে দিতে বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত সোম ও মঙ্গলবার নেপিডোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডাব্লিউজি) বৈঠকে মিয়ানমার বাংলাদেশকে এ অনুরোধ জানায়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে তারা কথিত জঙ্গিদের তালিকা হস্তান্তর করেছে। এর আগে গত নভেম্বর মাসেও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী পর্যায়ের বৈঠকে এ ধরনের একটি তালিকা দিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আরসা জঙ্গিরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার চেষ্টা করতে পারে বলেও মিয়ানমার প্রতিনিধিরা গত সপ্তাহের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের সতর্ক করেছেন।

বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। নিরাপত্তা খাতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। গত আগস্ট মাসে রাখাইনে কথিত সন্ত্রাসী হামলার পর মিয়ানমার বাহিনী সেখানে অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশ মিয়ানমারকে নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়।

এদিকে প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের তালিকা পাঠানোর পর মিয়ানমার সেগুলো তাদের তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে যাচাই করে দেখবে। মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহী রোহিঙ্গারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের ফেরা কঠিন হতে পারে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গাদের ২১টি সংগঠন বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, গণহত্যা থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা এখনো ভীতসন্ত্রস্ত। তারা কিভাবে এখনই রাখাইনে ফিরবে? তা ছাড়া মিয়ানমার এখনো তাদের নীতি বদলায়নি। রোহিঙ্গাদের তারা ‘বেঙ্গলি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে অভিহিত করছে। ওই সংগঠনগুলোর দাবি, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে প্রত্যাবাসনের সব প্রক্রিয়ার অংশ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবেই পরিচয় দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এ ছাড়া তারা জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করার ও রাখাইনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল গড়ার দাবি জানায়।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক ওপেক তহবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলেমান জাসির আল-হারবিশ গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা জানান। সুলেমান জাসির রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিষয়ে খোঁজ নেন।

এদিকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে গতকাল থেকে সাত দিনের আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ সফর শুরু করেছেন মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার (বিশেষ দূত) ইয়াংহি লি। মিয়ানমারের অং সান সু চির সরকার তাঁকে সহযোগিতা করতে এবং দেশে ঢুকতে দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তিনি তাঁর দায়িত্বের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড সফর করবেন। লি তাঁর বাংলাদেশ সফরের বেশির ভাগ সময় কাটাবেন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে।

ইয়াংহি লি আগামী ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড যাবেন এবং ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই দেশ সফর করবেন।



মন্তব্য