kalerkantho


বিএনপি

হেরে যাওয়ার ভয়ে সরকার সুযোগ নিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



হেরে যাওয়ার ভয়ে সরকার সুযোগ নিয়েছে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, হেরে যাওয়ার ভয়ে সরকার এ সুযোগ নিয়েছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ডিএনসিসির উপনির্বাচন হাইকোর্টে স্থগিতের বিষয়ে সেখানে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতা। সরকার হেরে যাওয়ার ভয়ে এই সুযোগ নিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সীমানা নির্ধারণ না করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এটা আইন অনুযায়ী হয় না। সরকার যেহেতু নির্বাচনের ফলাফল আগেই জানত, অর্থাৎ তারা হেরে যাবে, তাই তারা সুযোগ নিয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

এদিকে গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরামের এক আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একটু আগে খবর পেলাম উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত করা হয়ে গিয়েছে। কী সুন্দর খেলা! সরকার যখন বুঝতে পেরেছে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হবে তখন তাদের ইঙ্গিতে হাইকোর্টে তাদের লোক দিয়ে রিট করিয়ে নির্বাচন স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন স্থগিত করার মাধ্যমে আমরা মনে করি, এতে সরকারের পরাজয় প্রতিফলিত হয়েছে।’

গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের কারণেই সংক্ষুব্ধরা রিট করার সুযোগ পেয়েছেন। আমরা বারবার বলে আসছি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সিইসি আওয়ামী লীগের মাস্টারপ্ল্যানেরই অংশ। ডিএনসিসিসহ ঢাকা সিটিতে যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি হবে এটা তারা জানে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এ বছর হওয়ার কথা। ফলে ঢাকা সিটিতে বিপুল ভোটে পরাজিত হলে আওয়ামী লীগের জাতকুল কিছুই থাকবে না।’

তিনি বলেন, গত ৯ জানুয়ারি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। অথচ এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ডিএনসিসি নির্বাচন বানচাল করা পূর্বপরিকল্পিত। এটি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রযোজনা। সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা সরাফত আলী সপু, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল সকালে ডিএনসিসি উপনির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ডিএনসিসির সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচনের সার্কুলারের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়। পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।



মন্তব্য