kalerkantho


সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আগামী বাজেটে এমপিওভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আগামী বাজেটে এমপিওভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত

ফাইল ছবি

এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসছে বাজেটেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন এলেই একটা শ্রেণি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে; অবৈধ পথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তকরণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা নীতিমালার ভিত্তিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে যাচ্ছি। বিষয়টি আমরা নিশ্চয়ই বিবেচনা করব এবং পরবর্তী বাজেট যখন আসবে তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্কুল-কলেজ সরকারীকরণ বা এমপিওভুক্ত নীতিমালার ভিত্তিতেই হবে। কোন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী কত, শিক্ষার মান কেমন, শিক্ষকদের যোগ্যতা কেমন এবং স্কুলটি জাতীয়করণের যোগ্য কি না তা দেখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতাই সর্বপ্রথম প্রায় ৩৬ হাজার স্কুল সরকারীকরণ করেছিলেন। এরপর আবার আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করল, তখন আমরা ২৬ হাজার স্কুল সরকারি করে দিয়েছি। তখন কিন্তু একটা কথা ছিল যে আর কোনো স্কুলকে সরকারীকরণের দাবি করা যাবে না, এমপিওভুক্ত করলেই হবে। এরপর অনেক স্কুলকে এমপিওভুক্ত করে দিয়েছি। এরপর দেখলাম আবার শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করলেন।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকায় কোথায় কত স্কুল হবে, কয়টা স্কুল প্রয়োজন, সেগুলো কিন্তু হিসাব করে সেভাবে তৈরি করার নীতিমালা আমরা করে দিয়েছি। সেভাবেই করা হচ্ছে।’

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচন এলেই দেশের একটি শ্রেণি আছে, তারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দেশে অসাংবিধানিক শাসন বা জরুরি অবস্থা আসলে তাদের গুরুত্ব বাড়ে। এদের মাথায় একটাই জিনিস থাকে—যদি অস্বাভাবিক, অসাংবিধানিক, মার্শাল ল বা জরুরি অবস্থা কখন আসবে, তাদের গুরুত্ব পাবে। এই শ্রেণির মানুষরা আঁকাবাঁকা বা অবৈধ পথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। জনগণের ভোট পাবে না বলে তাদের নির্বাচনে আসার সাহস নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও ওই শ্রেণি ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। আর ২০১৩ সালেও বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) নির্বাচন বানচাল করে আঁকাবাঁকা পথে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এই শ্রেণির মানুষরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।’

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমি সাহস নিয়ে দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্যই আমাকে হত্যার জন্য বুলেট-গুলি, গ্রেনেড হামলা, বড় বড় বোমা পুঁতে রাখা হয়। তবু আমি মরি না। আল্লাহ আমাকে কিভাবে যেন বাঁচিয়ে রাখেন। হয়তো দেশের মানুষের জন্য কোনো ভালো করাবেন। মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না।’

নিজের সম্পর্কে বিভিন্ন বিশেষণ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কী পেলাম বা কী পেলাম না তার হিসাব আমি করি না। কাজ করি দেশের মানুষের জন্য, এ দেশের প্রয়োজনে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর কেন দেশের উন্নয়ন হয়নি? একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পায়। আমি উচ্চবিত্তদের কথা চিন্তা করি না, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তারা দুবেলা পেটভরে খেয়ে স্বস্তি, শান্তি ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলছে কি না, সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা এবং আমার প্রধান লক্ষ্য।’

জাসদ দলীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণকে ন্যায়বিচার দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর খুনি মোশতাক ও জিয়ারা খুনিদের বিচার বন্ধ করে পুরস্কৃত করে। আত্মস্বীকৃত খুনিদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা করা হয়।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো বিশেষ আইনে অথবা কোনো বিশেষ আদালতে খুনিদের বিচার হয়নি। বিচারপ্রক্রিয়া ও আপিল শুনানি শেষে হত্যাকারীদের সাজা এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। এখনো যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বা আশ্রয় গ্রহণ করে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দাবির প্রতি সমর্থন রেখে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অঙ্গীকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করার জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ অফিশিয়াল গ্যাজেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সরকারি দলের সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ডুয়াল গেজ রেললাইনসহ পৃথক রেল সেতু নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম এলাকার জনগণের উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এ জন্য যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর সমান্তরালে ডুয়াল গেজ ডাবল রেললাইনের সংস্থানসহ পৃথক রেল সেতু নির্মাণের জন্য সরকার এরই মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বরে একনেকে অনুমোদিত হয় এবং ২০১৬ সালের ২৯ জুন জাইকার সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের জন্য (পরামর্শক নিয়োগ) ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটির বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের জন্য গত বছরের ২ মার্চে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গত বছরের ১৫ মার্চ থেকে কাজ শুরু করে। বর্তমানে জিওটেকনিক্যাল ও টপোগ্রাফিক সার্ভেসহ ডিটেইল ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান। অচিরেই রেল সেতু নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে।

আওয়ামী লীগের সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার কোমলমতি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। কোমলমতি প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে সাধারণ স্কুলেই শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়, সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। কারণ সরকার প্রতিবন্ধীদের মূলধারার জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়।



মন্তব্য