kalerkantho


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনশন কাল থেকে

মাদরাসা শিক্ষকদের অনশনে অসুস্থ শতাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনশন কাল থেকে

দাবি আদায়ে তীব্র শীত উপেক্ষা করে আমরণ অনশনে মাদরাসা শিক্ষকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে কাল সোমবার থেকে অনশন শুরু করবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা; যদিও তাঁদের আজ রবিবার থেকে অনশন শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের কারণে কাল থেকে অনশন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের নেতারা। তবে আজ তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। গতকাল শনিবার তাঁরা চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমার কারণে ফোরাম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনশন এক দিন পিছিয়ে ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু করা হবে। তবে আমরা আমাদের জাতীয়করণের দাবি আদায়ে অনড়।’ গতকাল এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। তিনি বলেন, ‘শিক্ষায় সকল বৈষম্য নিরসনের এখনই উপযুক্ত সময়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা।’ তিনি সরকারের প্রতি শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে গতকাল চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পঞ্চম দিনের মতো অনশন করেছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। এদিকে প্রচণ্ড শীতে অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনেকেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল পর্যন্ত অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছেন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। পরে ৯ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা।

সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেসুর রহমান জানান, কনকনে শীতে টানা আট দিন অবস্থান ধর্মঘটের পর ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমরণ অনশনে শুক্রবার পর্যন্ত ১০৬ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষক অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি আছেন সাতজন। সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। সব মিলে ১০৬ জনের মধ্যে এখনো ৯০ জন শিক্ষক অসুস্থ।

সমিতির দপ্তর সম্পাদক মো. ইনতাজ বিন হালিম বলেন, ‘এই তীব্র শীতে খোলা আকাশের নিচে আমাদের বসে থাকতে হচ্ছে। পরিবার-পরিজন কিভাবে আছে, কিভাবে চলছে তা জানি না। কিন্তু আমাদের এ দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’ তিনি দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।



মন্তব্য