kalerkantho


শৈত্যপ্রবাহ চলবে আরো কয়েক দিন

ঘন কুয়াশায় ফেরি বন্ধ, ঘাটে ঘাটে দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঘন কুয়াশায় ফেরি বন্ধ, ঘাটে ঘাটে দুর্ভোগ

ফাইল ছবি

মাঝখানে এক দিন অর্থাৎ বুধবার শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও গতকাল বৃহস্পতিবার আবার বেড়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোদ থাকলেও বিকেল থেকে লুকোচুরির মধ্যেই ছিল সূর্য। বিকেল থেকে বাতাস বেড়েছে। কুয়াশাও পড়তে শুরু করেছে। দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের কয়েকটি জেলায় এখনো মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শৈত্যপ্রবাহ আরো কয়েক দিন থাকবে। বিশেষ করে শৈত্যপ্রবাহ উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে থাকবে।

শীতের সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশাও পড়ছে। আজ শুক্রবার সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা উত্তর-পশ্চিমাংশে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে। কুয়াশার কারণে গতকাল শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ১১ ঘণ্টা ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে সাড়ে ছয় ঘণ্টা ফেরি বন্ধ ছিল। এতে ঘাটে ঘাটে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ে।

শৈত্যপ্রবাহ চলবে আরো কয়েক দিন : আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বুধবার ঢাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটি গতকাল কমে হয়েছে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি থেকে নিচের দিকে নামলে তখন তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে তখন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ধরে থাকে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গতকাল দেশের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ছিল, যেটি আরো কয়েক দিন থাকতে পারে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তুলনামূলক কুয়াশা বেশি পড়েছে। বাতাসও বেড়েছে। সেই কারণে শীতের কাঁপন বেড়েছে। এটি আরো দুই দিন অব্যাহত থাকবে। ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সোমবার সেখানে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাতক্ষীরায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা ছিল ৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুরে ছিল ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগ ছাড়াও টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও ফেনীর ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়বে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা, সীতাকুণ্ড, ফেনী ও হাতিয়া, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

ফেরি চলাচল ব্যাহত, যাত্রীদের দুর্ভোগ : ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটে ঘাটে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল করে অবৈধ দোকান বসানোর কারণে বসার জায়গাও পায়নি যাত্রীরা। দৌলতদিয়া ঘাটে আটকে থাকা বাসের যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা ভোগান্তির শিকার হয়।

আমাদের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ১১ ঘণ্টা ফেরি চরাচল বন্ধ ছিল। এ সময় মাঝনদীতে আটকে পড়ে যাত্রীবোঝাই তিনটি ফেরি। পারাপারের জন্য পদ্মার দুই পারে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে সহস্রাধিক যানবাহনকে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের মেরিন অফিসার আলী আহম্মদ জানান, বুধবার রাত ২টা ৩০ মিনিট থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ রাখতে হয়েছে। একই কারণে বন্ধ ছিল লঞ্চ ও বোট।

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি জানান, গতকাল ভোর ৪টা থেকে টানা সাড়ে ছয় ঘণ্টা ফেরি বন্ধ ছিল। এ সময় কেরামত আলী নামের একটি রো রো (বড়) ফেরি মাঝনদীতে আটকে পড়ে। দৌলতদিয়া পারে প্রায় চার কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকে পড়ে দেড় হাজারের বেশি যানবাহন।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্তব্যরত জেলা ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক (টিএসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, যাত্রীদুর্ভোগ কমাতে অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রেখে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারের সঙ্গে পচনশীল পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, ঠাণ্ডাজনিত রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এ ধরনের রোগী হাসপাতালে আসছে। তাদের কাউকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, কাউকে ভর্তি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান শীতার্তদের মধ্যে দুই হাজার ৫০০ কম্বল বিতরণ করেছেন।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, টানা শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। বোরো বীজতলা নিয়ে আশঙ্কায় আছে কৃষকরা। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, ‘আমরা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আমাদের মন্ত্রণালয়ে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র মজুদ রয়েছে।’



মন্তব্য